ভিডিও EN
  1. Home/
  2. আইন-আদালত

জেএমআই গ্রুপ

এন৯৫ মাস্ক নিয়ে অপপ্রচার সামাজিক মাধ্যম থেকে সরানোর নির্দেশ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৮:৩৯ পিএম, ২৮ মার্চ ২০২৩

মহামারি করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে জেএমআই গ্রুপের এন৯৫ মাস্ক তৈরিতে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এ সংক্রান্ত তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। জেএমআইয়ের বিরুদ্ধে ওঠা ওই অভিযোগকে ‘অপপ্রচারমূলক তথ্য’ বলেছেন হাইকোর্ট। এ তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে দ্রুত সরিয়ে নিতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থাকে (বিটিআরসির) নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদেশের কপি হাতে পাওয়ার তিনদিনের মধ্যে বিটিআরসিকে জেএমআই গ্রুপের বিষয়ে অপপ্রচারমূলক তথ্য সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে এ বিষয়গুলো ইউটিউব, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে কেন সরিয়ে নেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রুল জারি করেছেন আদালত। রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট ড. মো. শাহজাহান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে করা রিটের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (২৮ মার্চ) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাডভোকেট ড. মো. শাহজাহান। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট জুবায়ের আহমেদ ও অ্যাডভোকেট শাহনাজ সাথী। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

অ্যাডভোকেট শাহজাহান বলেন, জেএমআই গ্রুপের এন৯৫ মাস্ক কেলেঙ্কারির বিষয়ে ওঠা অভিযোগ নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছেন। তাতে জেএমআই গ্রুপের এন৯৫ মাস্ক কেলেঙ্কারির বিষয়ে ওঠা অভিযোগ থেকে বিচারিক আদালত (ঢাকার দায়রা জজ) হতে অব্যাহতি দিয়েছেন। পরে আমরা উচ্চ আদালতে একটি রিট করেছিলাম।

তিনি বলেন, গত ১৩ মার্চ কোম্পানির এমডি আব্দুর রাজ্জাকের করা রিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোম্পানির বিরুদ্ধে অপপ্রচার রোধে ও ভুল তথ্য দিয়ে বিভিন্ন এখনো কোম্পানির বিষয়ে ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে জানিয়ে তা সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশনা চেয়েছিলাম। আদালত শুনানি নিয়ে আদেশ পাওয়ার তিনদিনের মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য বিটিআরসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আইনজীবী ড. শাহজাহান বলেন, ‘এ গ্রুপের ৩৬টি দেশের সঙ্গে ব্যবসা রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচারের কারণে কোম্পানি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিশেষ করে নরওয়ে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার একটি অর্ডার বাতিল করেছে। তাই আমরা রিট করেছিলাম। রিটের আদেশের পর আমরা চাইবো অপপ্রচার সম্পর্কে বিটিআরসির দ্রুত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।’

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অথবা সন্দেহভাজন রোগীদের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক-নার্স এবং অন্যদের সুরক্ষার জন্য এন-৯৫ মাস্ক সরবরাহের জন্য জেএমআই গ্রুপের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয় সরকার। তারই প্রেক্ষাপটে জেএমআই গ্রুপ এন৯৫ নামে ২০ হাজার ৬০০ মাস্ক সরবরাহ করে। পরে দেখা যায় যে, এ মাস্কগুলো প্রকৃতপক্ষে এন-৯৫ মাস্ক নয়। সাধারণ মাস্ক সাপ্লাই দেওয়া হয়েছে।

এমন অভিযোগ ২০২০ সালের ১৫ মে জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিধায় জেএমআই গ্রুপের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি ও এর সঙ্গে জড়িতদের শাস্তি তথা জেএমআই গ্রুপের মেডিকেল ইক্যুইপমেন্ট সাপ্লাইয়ের এবং ম্যানুফ্যাকচারিং লাইসেন্স সাসপেন্ড করা হয়। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রিট করা হয়েছিল। এর আগে ওই বছরের ১২ মে জেএমআই গ্রুপের এন৯৫ মাস্ক কেলেঙ্কারির ঘটনা তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছিল।

এফএইচ/এএএইচ/এমএস