ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আইন-আদালত

ধোলাইখালে সংঘর্ষ

জামিন পেলেন বিএনপি নেত্রী নিপুণ রায় চৌধুরী

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৩:৪০ পিএম, ০১ আগস্ট ২০২৩

 

রাজধানীর ধোলাইখালে বিএনপির অবস্থান কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় নাশকতার অভিযোগে মামলা করে পুলিশ। ওই মামলায় হাইকোর্টে জামিন পেয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও ঢাকা জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী।

আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করে অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, নিপুণ রায় চৌধুরীকে ৮ সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়েছেন। এই ৮ সপ্তাহ পর তাকে ঢাকার জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত বিষয়ে শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (১ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আমিনুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে নিপুণের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায় চৌধুরী। এ সময় অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সারওয়ার হোসেন বাপ্পী, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আনিসুর রহমান।

নিতায় রায় চৌধুরী বলেন, সূত্রাপুর থানার এসআই মো. নাসির উদ্দিন হাওলাদারের দায়ের করা মামলায় মোট ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬ নম্বর আসামি নিপুণ রায় চৌধুরী।

সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মইনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তথ্য যাচাই করে মামলায় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরীসহ ২৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

গত শনিবার পুরান ঢাকার ধোলাইখালে বিএনপির কয়েকশ নেতাকর্মী অবস্থান কর্মসূচি পালনের জন্য সড়কে জড়ো হন। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করলে বিএনপি নেতাকর্মী ও পুলিশের সদস্যদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে বিএনপি নেতা গয়েশ্বরসহ অন্তত ৫ নেতাকর্মী আহত হন।

এর আগে গত রোববার সূত্রাপুর থানার এসআই নাসির উদ্দিন হাওলাদার বাদী হয়ে এ মামলা করেন। পুরান ঢাকার ধোলাইখাল মোড়ে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির ৪২৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এ মামলা করা হয়।

মামলায় এজাহারনামীয় আসামি করা হয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীসহ ২৪ নেতাকর্মীকে। অজ্ঞাতপরিচয় আসামি করা হয় আরও ৩০০/৪০০ নেতাকর্মীকে।

আরও পড়ুন: সালাম-নিপুণসহ বিএনপির ৪২৪ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত শনিবার ধোলাইখাল গোয়ালঘাট নাসির উদ্দিন সর্দার লেনের মনসুর মার্কেটের সামনে পাকা রাস্তায় বিএনপির নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে রাস্তা বন্ধ করে কর্মসূচি পালন করেন এবং যানচলাচলসহ সাধারণ জনগণের চলাচলের বিঘ্ন সৃষ্টি করতে থাকেন।

বিএনপির সিনিয়র নেতা গয়েশ্বর রায় চৌধুরী, নিপুণ রায় চৌধুরী ও ইশরাক হোসেনদের অনুমতিবিহীন অবস্থান কর্মসূচি পালন থেকে বিরত থাকার জন্য বারবার অনুরোধ করে পুলিশ। নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে বেলা সাড়ে ১১টার সময় নিপুণ রায় চৌধুরীর নির্দেশে এজাহারনামীয় ও পলাতক আসামিসহ আশপাশে থেকে আসা অজ্ঞাতনামা আরও আসামিরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। তখন পুলিশ লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে কিন্তু অবস্থান কর্মসূচিতে থাকা বিশৃঙ্খলাকারী আসামিরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেলসহ সঙ্গে নিয়ে আসা প্লাস্টিকের শক্ত পাইপ, কাঠের লাঠি ও বাঁশের লাঠি দিয়ে আক্রমণ করেন।

একপর্যায়ে সূত্রাপুর থানায় কর্মরত এসআই মো. নাহিদুল ইসলামের ওপর প্লাস্টিকের শক্ত পাইপ, কাঠের লাঠি ও ইট-পাটকেল এলোপাতাড়িভাবে নিক্ষেপ করায় হেলমেট খুলে যায় এবং মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম হয়। সরকারি সম্পত্তি ও জানমাল রক্ষার্থে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা এপিসিসহ ঘটনাস্থলে থাকা আসামিদের ছত্রভঙ্গ করার জন্য লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেন।

আরও পড়ুন: ধোলাইখালে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষ

অবস্থান কর্মসূচিতে থাকা উচ্ছৃঙ্খল আসামিরা বিভিন্ন দিক থেকে পুলিশের ওপর হিংস্র ও আক্রমণত্মাকভাবে চড়াও হয়ে ইট-পাটকেল ও একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটাতে থাকেন এবং আশপাশের দোকান ও বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ও লাঠি দিয়ে আঘাত করে দোকান ও বাড়িঘরের ভাঙচুর করে ক্ষতিসাধন করতে থাকেন। একপর্যায়ে পুলিশ সরকারি সম্পত্তি, জানমাল রক্ষার্থে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যদের ইস্যুকৃত অস্ত্র শর্টগানের কার্তুজ ও গ্যাসশেল নিক্ষেপ করে।

মামলার গ্রেফতার আসামিরা হলেন- বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, কেরাণীগঞ্জের জিনজিরা ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মমিন, বিএনপির সক্রিয় কর্মী কবির, সোহাগ গাজী ও মো. রিয়াজ উদ্দিন রাজু।

পলাতক আসামিরা হলেন- পলাতক বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুস সাত্তার, বিএনপির সক্রিয় সদস্য মো. মিজানুর রহমান মিজান, সূত্রাপুর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তার হোসেন, কবি নজরুল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক ভিপি মো. জাবেদ কামাল রুবেল, সূত্রাপুর থানার নেতা মজিবুর রহমান, নুরুল আফসার ভূঁইয়া মাসুন, মনির হোসেন, মোখলেছুর রহমান, কাজী শাকিল আহম্মেদ, সৌরভ রাসেল, মো. কামরুল ইসলাম কামির, শাকিল আহমেদ ফয়সাল, হাসান খান প্রদীপ, শাহিন খন্দকার শাহিন, মানিক চন্দ্র দত্ত, মো. মনির হোসেন ব্যাপারী, সবুজ হোসেন ব্যাপারী ও আব্দুল কুদ্দুস মিয়া।

এফএইচ/কেএসআর/এএসএম