ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. আইন-আদালত

দুদককে হাইকোর্ট

এসেনসিয়াল ড্রাগসের ৪৭৭ কোটি লোপাট: স্বাধীন অনুসন্ধান চায় হাইকোর্ট

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ১২:৫৮ পিএম, ০২ আগস্ট ২০২৩

দেশের একমাত্র সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডে সরকারি অডিটে ৩২টি অনিয়ম ও ৪৭৭ কোটি টাকা লোপাটের ঘটনা অনুসন্ধানের কাজ কারও হস্তক্ষেপ ছাড়া স্বাধীনভাবে অব্যাহত রাখতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (২ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ দুদকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ খুরশীদ আলম খান। এসেনসিয়াল ড্রাগসের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট ড. কাজী আখতার হামিদ, সিনিয়র আইনজীবী মো. মোতাহার হোসেন সাজু ও আইনজীবী আব্দুন নুর দুলাল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল প্রতিকার চাকমা।

এর আগে দেশের একমাত্র সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) থেকে ৪৭৭ কোটি টাকা লোপাটের ঘটনা অনুসন্ধান করতে দুদককে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। অনুসন্ধান করে দুই মাসের মধ্যে সংস্থাটিকে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।

এ ঘটনা নিয়ে একটি দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন নজরে আসার পর স্বঃপ্রণোদিত হয়ে আদালত রুলসহ আদেশ দেন। রুলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্ট।

পরে অনিয়ম ও অর্থ লোপাট নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন আদালতের উপস্থাপন করা হয়। এরপর সেটি আমলে নিয়ে গত ১২ মার্চ হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

আদেশের বিষয়ে আইনজীবীরা জানান, সরকারি ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড থেকে ৪৭৭ কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় দুদককে অনুসন্ধান করে দুই মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারির নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।

‘দুর্নীতির আখড়া এসেনশিয়াল ড্রাগস: সরকারি অডিটে ৩২ অনিয়ম, ৪৭৭ কোটি টাকা লোপাট’ শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে গত ১১ মার্চ প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। আদালতে প্রতিবেদনটি পড়ে শোনান ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন। সঙ্গে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আন্না খানম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এ এক সরকারি অর্থ লুটপাটের স্বর্গরাজ্য। ক্যান্টিন বন্ধ, কিন্তু ভর্তুকির বিল তোলা হয়েছে। কাঁচামালের তুলনায় ওষুধের উৎপাদন কম দেখিয়ে করা হয়েছে তছরুপ। এছাড়া বিধি লঙ্ঘন করে হয় টেন্ডার প্রদান ও বিনা বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ বাণিজ্য- এমন কোনো অনিয়ম নেই যা সেখানে হয়নি।

প্রতিবেদন উপস্থাপনের একপর্যায়ে আদালত বলেন, অনৈতিক পন্থায় বড় ধরনের অনিয়ম দেখা যাচ্ছে। দুর্নীতিবাজ কিছু লোক সিন্ডিকেট তৈরি করে দুর্নীতি করেছে। অবৈধভাবে অর্থ আত্মসাৎ করেছে। ৪৭৭ কোটি টাকা আত্মসাতের বিষয়টি সরকারি নিরীক্ষায় চিহ্নিত করা হয়েছে। ৩২ ধরনের অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে।

পরে আদালত রুলসহ আদেশ দেন। অনৈতিক পন্থায় ও বড় ধরনের অনিয়মের মাধ্যমে এসেনশিয়াল ড্রাগস থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাতে জড়িত ব্যক্তি বা সত্তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা-ব্যর্থতা কেন বেআইনি হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়। অর্থ আত্মসাতের মাধ্যমে দুর্নীতির অপরাধ সংঘটনে জড়িত ব্যক্তি ও সত্তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপসহ কার্যক্রম শুরু করতে কেন প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে না, রুলে তা-ও জানতে চাওয়া হয়।

দুদক, এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্বাস্থ্যসচিব ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালত বলেন, কোনো ব্যক্তি ও সত্তার বিরুদ্ধে এ দুর্নীতিতে জড়িত থাকার প্রাথমিক সত্যতা পেলে তাদের বিরুদ্ধে যে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিবাদীদের স্বাধীনতা থাকবে।

প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল) শতভাগ সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটিতে সরকারি অডিটেই আর্থিক বড় দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। ২০২০-২১ অর্থবছরের অডিট প্রতিবেদনে ৩২টি গুরুতর অনিয়মে সরকারি ৪৭৭ কোটি ৪১ লাখ ৯১ হাজার ৩৭৮ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে। স্বাস্থ্য অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষায় যেসব অনিয়ম ধরা পড়েছে, তার মধ্যে আছে নিয়োগ-বাণিজ্য, টেন্ডার-বাণিজ্য, ব্যবহৃত কাঁচামালের চেয়ে ওষুধ উৎপাদন কম দেখানো, উৎপাদিত ওষুধে সঠিক মাত্রায় কাঁচামাল ব্যবহার না করে গুণগত মানের ওষুধ উৎপাদন না করা, কনডম প্রস্তুতে কাঁচামালের ঘাটতি, বনভোজনের নামে ভ্রমণ ভাতা, করোনাকালে ক্যানটিন বন্ধ থাকলেও প্রাপ্যতা না হওয়া সত্ত্বেও কর্মকর্তা-কর্মচারী-শ্রমিকদের অনিয়মিতভাবে ক্যানটিনে সাবসিডি প্রদানের নামে টাকা আত্মসাৎ।

এফএইচ/এমকেআর/এমএস