তারেকের সমন জারি হয়েছে কিনা, তথ্য চায় হাইকোর্ট
অর্থপাচারের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে সমনের নোটিশ জারি করা হয়েছে কিনা বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, ঢাকার মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতকে আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে সমন জারি করার পর তা গ্রহণ করে তারেক রহমান তা রির্টান করেছেন কিনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে হাইকোর্টকে জানাতে। একইসঙ্গে এ সংক্রান্ত বিষয়ে পরবর্তী আদেশের জন্য আগামী ৬ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি আমির হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে তারেক রহমানের পক্ষে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও দুদকের পক্ষে অ্যাডভোকেট খুরশিদ আলম খান উপস্থিত ছিলেন।
দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের লন্ডনের ঠিকানায় পাঠানো আত্মসমর্পণের সমন পৌঁছেছে কি-না, তা বিচারিক আদালতকে জানাতে নির্দেশ দিয়েছিলো হাইকোর্ট। পরে ৩ মার্চ সিএমএম হাইকোর্টকে জানিয়েছেন-প্রথমে তারা হাইকোর্টের আদেশ বুঝেন নি। পরে ২৯ ফেব্রুয়ারি আবার সমন পাঠিয়েছেন।
অর্থপাচার মামলায় তারেক রহমানের খালাস পাওয়ার রায়ের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা আপিলের পর ২০১৪ সালের ১৯ জানুয়ারি তাকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। কিন্তু তিনি আজ পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করেননি।
এরপর মামলাটি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কার্যতালিকায় আসলে গত ১২ জানুয়ারি ফের বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
এরপর তারেক রহমানকে আত্মসমর্পণ ও আপিলের বিষয়ে অবহিত করতে গত ২০ ও ২১ জানুয়ারি দু’টি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেন হাইকোর্ট বিভাগ। চার্জশিটে থাকা দুই ঠিকানায় (লন্ডন ও ঢাকা) সমনের নোটিশও পাঠিয়েছেন বিচারিক আদালত।
২০১৩ সালের ১৭ নভেম্বর তারেক রহমানকে বেকসুর খালাস দিয়ে তার বন্ধু গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে অর্থপাচার মামলায় ৭ বছরের কারাদণ্ড দেন ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালত।
রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি মামুনকে ৪০ কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়। পাচার করা ২০ কোটি ৪১ লাখ ২৫ হাজার ৬১৩ টাকা রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দেন আদালত।
এ রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরের ৫ ডিসেম্বর আপিল করে দুদক। ২০১৪ সালের ১৯ জানুয়ারি আপিল শুনানির জন্য তারেক রহমানকে বিচারিক আদালতে আত্মসমপর্ণের আদেশ দেন বিচারপতি নিজামুল হক ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ।
এরপর গত ৩ জানুয়ারি হাইকোর্টে শুনানির দিন ধার্যের আবেদন জানায় দুদক। এ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট ১২ জানুয়ারি তারেকের বিরুদ্ধে সমনে নোটিশ জারির আদেশ দেন।
২০০৯ সালের ২৬ অক্টোবর রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানায় এ মামলাটি করে দুদক। এরপর ২০১০ সালের ৬ জুলাই তারেক রহমান ও গিয়াস উদ্দিন আল মামুনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হয়।
এফএইচ/এএইচ/পিআর
সর্বশেষ - আইন-আদালত
- ১ সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথে বিএনপির ‘না’, আইনজীবীদের মতপার্থক্য
- ২ গুমের মামলায় ব্যারিস্টার আরমানের জেরা ২৫ ফেব্রুয়ারি
- ৩ এনসিপির আইনজীবী সংগঠন থেকে নাজমুস সাকিবকে বহিষ্কার
- ৪ একেএম শহীদুল-জাবেদ পাটোয়ারীসহ ১০ জনকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ
- ৫ বিমানের এমডির বাসায় শিশু নির্যাতন: কারাগারে পাঠানো হলো আরেক গৃহকর্মীকে