খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর
রাষ্ট্রদোহ, নাশকতা ও দুর্নীতিসহ পাঁচ মামলায় জামিন পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার সকালে প্রথমে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে যাত্রাবাড়ী থানায় করা হত্যা মামলাসহ দুটি মামলায় জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। পরে পৃথক পৃথক আদালত খালেদার আরো তিনটি মামলার জামিন দেন। ব্যারিস্টার এহসানুল রহমান জাগো নিউজকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
যাত্রাবাড়ীতে নাশকাতার ঘটনায় পুলিশের করা দুই মামলাসহ জামিন পাওয়া অন্যান্য মামলাগুলো হলো- গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা, শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার (রাষ্ট্রদ্রোহ) মামলা ও নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানের মিছিলের উপর হামলার ঘটনায় করা মামলা।
এর আগে মঙ্গলবার সকাল ১০টা ২০ মিনিটের দিকে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন খালেদা জিয়া। জামিন আবেদন শুনানির সময় আদালত প্রাঙ্গণে এবং তার আশেপাশে কয়েকশ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা ২০ মিনিটের দিকে গুলশানের বাসভবন থেকে আদালতের দিকে রওনা হন খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়ার আদালতে হাজির উপলক্ষে আদালত চত্বরে পুলিশ- র্যাবের সমন্বয়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে ওই অঞ্চলে যানবাহন চলাচলেও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।
আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন তার সিনিয়র আইনজীবী দলের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সানাউল্লাহ মিয়া, মাসুদ আহমেদ তালুকদার। এছাড়াও এ সময় আদালতে আরো অর্ধশতাধিক আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।
যাত্রাবাড়ী থানার করা মামলায় সিনিয়র আইনজীবী ও দলের উপদেষ্টা খন্দকার মাহবুব হোসেনও এসময় জামিন পেয়েছেন।
যাত্রাবাড়ী থানার হত্যাসহ দুই মামলা
বিএনপি চেয়ারপারসন মঙ্গলাবর সকালে প্রথমে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ (১ নম্বর মহানগর বিশেষ ট্রাইবুনাল) কামরুল হোসেন মোল্লা তা মঞ্জুর করেন।
২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাঠের পুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের একটি বাসে পেট্রোল বোমা ছোড়া হলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে ৩০ জন আহত হয়। এর মধ্যে নূর আলম নামে একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ ঘটনায় যাত্রাবাড়ী থানা পুলিশ দুটি মামলা করেন, যাতে অবরোধ আহ্বানকারী বিএনপি চেয়ারপারসনকে হুকুমের আসামি করা হয়। ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে ঘটনার পরিকল্পনাকারী হিসেবে বিএনপির ১৮ নেতার নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী হিসেবে যাত্রাবাড়ী এলাকার বিএনপির ৫০ নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে গোয়েন্দা পুলিশ ২০১৫ সালের ৬ মে হত্যা মামলায় এবং ১৯ মে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। গত ২৮ জানুয়ারি বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলাটিও বিচারের জন্য ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৭ এপ্রিল তারিখ ধার্য ছিল।
গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা
খালেদা জিয়া ও তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ২০০৭ সালের ২ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও থানায় গ্যাটকো দুর্নীতি মামলা দায়ের করেন দুদকের উপ পরিচালক গোলাম শাহরিয়ার চৌধুরী।
মামলা হওয়ার পরদিনই খালেদা ও কোকোকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ওই বছর ১৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি অন্তর্ভুক্ত করা হয় জরুরি ক্ষমতা আইনে। পরের বছর ১৩ মে খালেদা জিয়াসহ ২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় দুদক।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকার তৃতীয় বিশেষ জজ আদালতে হাজির হয়ে এ মামলায় জামিন চাইলে বিচারক আবু আহমেদ জমাদার শুনানি শেষে এক লাখ টাকা মুচলেকায় জামিন মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগে করা মামলা
গত বছরের ২১ ডিসেম্বর এক সভায় খালেদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদের সংখ্যা নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য দেন। দেশদ্রোহীতার অভিযোগে গত ২৫ জানুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে খালেদার বিরুদ্ধে মামলা করেন আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মমতাজ উদ্দিন আহমদ মেহেদী।
ঢাকার মহানগর হাকিম রাশেদ তালুকদার গত ২৫ জানুয়ারি ওই মামলা আমলে নিয়ে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে সমন জারি করেন। আজ (মঙ্গলবার) শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।
নৌমন্ত্রী শাহজাহান খানের মিছিলে হামলা
বিএনপি প্রধানের গুলশান কার্যালয় ঘেরাওয়ের পথে নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের মিছিলে হাতবোমা হামলার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়, যাতে খালেদা জিয়াকে ওই হামলার হুকুমের আসামি করা হয়।
সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতা ইসমাইল হোসেন বাচ্চু ওই দিন গভীর রাতে গুলশান থানায় মামলা করেন। এতে খালেদা জিয়া ছাড়াও বিএনপি-জামায়াতের ১৪ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়।
হরতাল-অবরোধের প্রতিবাদে খালেদা জিয়াকে ঘেরাওয়ের জন্য শাজাহান খানের নেতৃত্বে শ্রমিক-কর্মচারী-পেশাজীবী-মুক্তিযোদ্ধা সমন্বয় পরিষদের একটি মিছিল গুলশানের ২ নম্বর সেকশনের ৮৬ নম্বর সড়কে যাওয়ার পথে মেট্রোপলিটন শপিংমলের ওপর থেকে ৬-৭টি বোমা ফেলা হয়। এ ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
এফএইচ/আরএস/এমএস
আরও পড়ুন
সর্বশেষ - আইন-আদালত
- ১ স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে গ্রেফতার মিষ্টি সুভাষসহ ২ জন রিমান্ডে
- ২ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক সাহেবের জামিনে সরাসরি ভূমিকা রেখেছি
- ৩ হত্যা মামলায় রিমান্ডে ডিজিএফআইয়ের সাবেক ডিজি শেখ মামুন খালেদ
- ৪ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে আইন সমিতির পুষ্পস্তবক অর্পণ
- ৫ ছাত্রলীগ নেতা তারেককে ফের গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ