ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. লাইফস্টাইল

নতুন বছরে নতুনত্বের ছোঁয়ায় সাজিয়ে নিন নিজের ঘর

লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ০২:২২ পিএম, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬

 

মুহিবুল হাসান রাফি
নতুন বছর নিয়ে নানান পরিকল্পনা থাকে সবার। সেই পরিকল্পনায় রাখা যেতে পারে নিজের ঘরটিকেও। গৃহের প্রতিটি কোণে নতুনত্বের ছোঁয়া থাকুক। নিজের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ঘরেরও পরিবর্তন হোক কারণ দিনশেষে সবচেয়ে শান্তির এবং প্রিয় জায়গা হচ্ছে ঘর। যে ঘরে আমরা আমাদের সুখ দুঃখ শান্তি অবসাদ ক্লান্তি সবকিছু এক ভরসার নামই হচ্ছে ঘর বা গৃহ। তাই নতুন বছর উপলক্ষে টুকটাক পরিবর্তন আনাই যায়।

নতুন যে কোন কিছুই মনকে অনেক উৎফুল্ল রাখে। নতুনভাবে অন্দর বা গৃহকে সাজানোর নানান ধরনের প্রকারভেদ রয়েছে। তবে এর মানে এই নয় নতুনভাবে অন্দর বা গৃহ সাজানোর জন্য সবকিছুতেই পরিবর্তন আনতে হবে। ঘরে থাকা জিনিসকে নতুনভাবে রূপ দেওয়া যেতে পারে।

JAGONEWSএছাড়াও বিভিন্ন থিমে ঘরকে সাজানো যেতে পারে। অন্যদিকে এক একটি ঘরকে একেকভাবে সাজানো যেতে পারে যেমন- বোহিমিয়ান থেকে শুরু করে মর্ডান, বাঙালিয়ানা থেকে পুরোনো আভিজাতময় শৈল্পিক রূপ দেওয়া যেতে পারে। আপনি কীভাবে আপনার অন্দর বা গৃহ সাজাবেন তা নির্ভর করবে আপনার পছন্দ এবং ভালোলাগার ওপর। নতুনভাবে নিজের ঘরটিকে সাজানোর পরিকল্পনা করার এর থেকে উপযুক্ত সময় আর কী হতে পারে। নতুন বছরে ঘরে নতুনত্বের ছোঁয়া আনার নানান ভাবনা নিয়েই আজকের লেখা।

দেয়ালে নতুনত্বের ছোঁয়া
একটি ঘরের আবহ তৈরির ক্ষেত্রে রঙের ভূমিকা অনেক বেশি। ঘরে ঢুকেই সবার আগেই ঘরের রংটা চোখে পড়ে। তাই দেয়ালের রং পরিবর্তনের মাধ্যমে ঘরে সহজেই নতুনত্ব নিয়ে আসা যায়। রং নির্ধারণে ঘরের আকারের দিকে লক্ষ রাখা জরুরি। ছোট স্পেসে হালকা রং স্নিগ্ধ অনুভূতির আবেশ ছড়ায়। সাধারণত হালকা নীল, সবুজ, বেগুনি এবং সাদা এই রংগুলো আমাদের চোখে শান্তি দেয়, মনকে শান্ত করে। নীল রঙের ক্ষেত্রে পাউডার ব্লু পেইল ব্লু, নীলাভ সবুজ চাইলে টিল শেডের রংগুলো ব্যবহার করা যায়। এছাড়া ক্রিম বেইজ বা হালকা গ্রে রং ব্যবহার করা যায়, যা ছোট ঘরকেও বড় দেখাতে সাহায্য করবে।

আর ঘর বড় হলে একটি দেয়ালকে একটু ভিন্ন রং করে বাকি দেয়ালগুলো নিউট্রাল বা হালকা রং করলে মানানসই দেখায়। গাঢ় রং রুমে একটা বোহেমিয়েন আবহ আনে; তবে সে ক্ষেত্রে ঘরের বাকি সামগ্রীগুলো সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া জরুরি। দেয়ালের রং নির্ধারণের ক্ষেত্রে আসবাবপত্র এবং ঘরটি কী কাজে ব্যবহার করা হয়, সেটি অনেক বড় ভূমিকা পালন করে।

jagonews

আসবাবে নান্দনিকতা
অনেক দিন ধরে ঘরে থাকা আসবাবে একঘেয়েমি চলে আসতে পারে। সেক্ষেত্রে আসবাবপত্র নতুনভাবে রং করা, হ্যান্ডেল বদলানো বা খানিকটা অংশ বদলে ফেললে পুরোনো আসবাবেই নতুন লুক সম্ভব। শোয়ার ঘর প্রথম সাজানোর সময় অনেক সময়ই দেখা যায় বেডসাইড টেবিল কেনা হয় না। খাটের পাশে এটা একটি বেডসাইড টেবিল থাকা অনেক জরুরি। সেক্ষেত্রে নতুন বছরে খাট এবং শোয়ার ঘরের অন্যান্য আসবাবের সঙ্গে মিলিয়ে প্রয়োজনীয় কিছু আসবাব যোগ করা যেতে পারে।

পর্দাতে পরিবর্তন
ঘরে পরিবর্তন আনতে পর্দার জুড়ি নেই। পর্দার রং,টেক্সচার-সবকিছুই ঘরের চেহারা পাল্টে ফেলতে পারে। দেয়ালের রঙের সঙ্গে মানানসই পর্দা ব্যবহারে ঘরের সৌন্দর্য অনেকখানি বেড়ে যায়। পর্দার রং নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেয়ালের সঙ্গে কনট্রাস্ট করা যেতে পারে। দেয়াল গাঢ় রঙের হলে পর্দা হালকা রঙের বেছে নিতে পারেন। আবার হালকা রঙের দেয়ালের সঙ্গে গাঢ়, উজ্জ্বল রঙের পর্দা মানানসই হবে। পর্দা নির্বাচনের ক্ষেত্রে ঋতু দেখে নেওয়াটা সুবিধাজনক। শীতকালে যেমন ভারী পর্দা বেশি উপযোগী, তেমনি গরমকালে হালকা পর্দা বাতাস চলাচলের ক্ষেত্রে বেশি উপযোগী।

সবুজের ছোঁয়া
অন্দরে সবুজের ছোঁয়া ঘরকে নতুন এক মাত্রা দেয়। আর গাছের কারণে বারান্দায় পাখির আগমন দেখা যায়, অনেক অদ্ভুত সব পাখি এখনো যে ইট-কাঠের শহরে টিকে আছে, সে বিষয়টা আপনাকে যেমন অবাক করবে তেমনি মনকে আনন্দে ভরিয়ে তুলবে। ইনডোর প্ল্যান্টস ঘরের পরিবেশকে আরও বেশি মনোরম করে তোলে। ঘরের কোণে গাছ, চেয়ারের মাধ্যমে একটি নিজের কর্নার তৈরি করে ফেলা যায় খুব সহজেই।

jagonewsঘরের সাজসজ্জায় নতুন মাত্রা
ঘরে সাজসজ্জার নানা অনুষঙ্গ ব্যবহার করা যেতে পারে। শোপিস রাখার জন্য ছোট স্ট্যান্ড ঘরের নান্দনিকতা অনেকাংশে বাড়িয়ে দেয়। শোকেসে সব জমিয়ে রাখার দিনগুলোতে এখন পরিবর্তন এসেছে। শোপিস কিংবা বই রাখার জন্য ফ্লোটিং কেবিনেট বেশ উপযোগী। বসার ঘরে রঙিন সোফা ঘরের উজ্জ্বলতা বাড়িয়ে দেয় বহুগুণ আর ঘরকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। ঘরের রঙের সঙ্গে কন্ট্রাস্টিং সোফার ব্যবহার ঘরকে নান্দনিক লুক দেয়। নতুন বছরে ঘরের সোফা বদলে ফেলাটাও পরিকল্পনায় রাখা যেতে পারে।

বোহেমিয়ান অন্দর
বোহেমিয়ান অন্দর সাজানো অবশ্যই অন্য দশটা অন্দর সাজানোর থেকে আলাদা। এখানে থাকবে অনেক ভিন্নতা। একটু কঠিন কাজও, তবে এর জন্য দরকার একটা স্থির শৈল্পিক চিন্তাভাবনা। বোহেমিয়ার অর্থ এলোমেলো বা ভবঘুরে। তাই ঘরের মধ্যে যদি এলোমেলো ভবঘুরে বিষয়টাকে ফুটিয়ে তুলতে হয় তাহলে অবশ্যই অনেকগুলো দিকে খেয়াল রাখতে হবে। বোহেমিয়ান থিমে অন্দর সাজানোর জন্য সর্বপ্রথম নানান ধরনের রং এবং নানান ধরনের আকারের জিনিস এবং আনকমন অনেক টুলস রাখতে হবে। যেসব টুলসগুলো সাধারণ ঘর সাজানোর টুলস এর থেকে একটু ভিন্ন। তাহলে বোহেমিয়ান অন্দর সাজানো সহজ হবে।

বোহেমিয়ার অন্দরের জন্য যে বিষয়টা সর্বপ্রথম মাথায় রাখতে হবে তা হলো রং। বোহেমিয়ার অন্দর সাজানো ক্ষেত্রে রং যত উজ্জ্বল ও গাড় হবে বোহেমিয়ান বিষয়টা তত বেশি ফুটে উঠবে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কমলা, হলুদ, গাঢ় নীল, টিয়া,লাল, গাঢ় বেগুনি এই ধরনের রং গুলো এই ধরনের রং গুলো দিয়েই নানান থিম পরিকল্পনা করতে হবে।

jagonews

মর্ডান অন্দর
মর্ডান অন্দর বলতেই বর্তমান সময়ে খুব মিনিমাল আসবাব দিয়ে অন্দর সজ্জা করা হবে। খুব অল্প স্বল্প আসবাব থাকবে এবং ডিজাইনগুলোও থাকবে একদম কম মূলত মর্ডান ডিজাইনগুলো খুব প্লেন ক্যাটাগরির হয়ে থাকে এছাড়াও মডার্ন অন্দরের ক্ষেত্রে খুব হালকা রং ব্যবহার করা হয় আর হালকা রঙের কোনো কিছু যদি ঘরে থাকে তাহলে ঘর আয়তনেও বেশ বড় মনে হয়।

পুরোনো রূপে অন্দর
আধুনিক সময়ে এখন সবাই আধুনিকভাবে নিজের ঘরকে সুসজ্জিত করতে চায়। সবাই চায় নতুন কিছু দিয়ে নতুনভাবে নতুন রূপে ঘর সাজাতে। সেজন্য পরিবর্তন করতে হয় পুরনো জিনিসগুলো। তবে আপনি যদি নান্দনিকতার সঙ্গে সেই পুরোনো জিনিসগুলোকে একটু পরিকল্পনা আর সৃজনশীলভাবে নতুন করে রূপ দিতে পারেন, তবে তার চেয়ে সুন্দর অন্য কিছু হবে না হয়তো।

jagonews

বাঙালিয়ানা ছোঁয়া
ঘরকে বাঙালিয়ানা বা দেশীয় শিল্পে দেশীয় রূপে দেশীয় সংস্কৃতিতে সাজিয়ে রাখা যায় তাহলে কতই না ভালো লাগবে। প্রতিটা মানুষের গৃহের সাজাই তার রুচির এবং আভিজাত্যের পরিচয় দেয়। বাঙালিয়ানা বা দেশীয় সংস্কৃতিতে গৃহ সাজালে দেশীয় ভাবের পাশাপাশি আভিজাত্য, শৈল্পিকতা ও নান্দনিকতা ফুটে উঠবে।

গৃহে যদি বাঙালিয়ানা ছোঁয়া রাখতে হয় প্রথমেই দেশীয় পণ্যের দিকে নজর দিতে হবে যেমন বেত-বাঁশ, মাটির জিনিসপত্র, স্টিলের জিনিসপত্র। এতে ঘর যেমন আধুনিক লাগবে তেমন বাঙালিয়ানাও বজায় থাকবে। ঘরের শো-পিস রাখতে পারেন মাটির বা সিরামিকের। দেয়াল সাজাতে পারেন পাটের তৈরি নানান কিছু দিয়ে। মেঝেতে কার্পেটের বদলে রাখতে পারেন শীতলপাটি।

আরও পড়ুন
বর্ষায় ঘরের গাছের পরিচর্যা একটু আলাদা, যেভাবে যত্ন নেবেন
ব্যস্ত শহরে বাসা হলে কেমন হবে বসার ঘর

লেখক: চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ

কেএসকে

আরও পড়ুন