পুরুষদেরও কি মেনোপজ হয়? ‘মেল মেনোপজ’ নিয়ে যত প্রশ্ন
মেনোপজ শব্দটা শুনলেই আমাদের কল্পনায় চলে আসে নারীদের হরমোন পরিবর্তনের বিষয়টি। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক পুরুষও ক্লান্তি, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, যৌন ইচ্ছা কমে যাওয়া বা আত্মবিশ্বাস হারানোর মতো সমস্যায় ভোগেন।
এসব কারণে অনেকের মনেই প্রশ্ন ওঠে — পুরুষদেরও কি মেনোপজ হয়?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বিষয়টি নারীদের থেকে ভিন্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরুষদের ক্ষেত্রে নারীদের মতো হঠাৎ করে কোনো হরমোন বন্ধ হয়ে যায় না। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এই অবস্থাকেই অনেক সময় অনানুষ্ঠানিকভাবে বলা হয় ‘মেল মেনোপজ’।
মেল মেনোপজ আসলে কী?
‘মেল মেনোপজ’ চিকিৎসাবিজ্ঞানের কোনো স্বীকৃত টার্ম নয়। একে বয়সজনিত টেস্টোস্টেরন হ্রাস বা অ্যান্ড্রোজেন ডিক্লাইন ইন এজিং মেল বলা যায়। সাধারণত ত্রিশের পর থেকেই পুরুষদের টেস্টোস্টেরন প্রতি বছর অল্প অল্প করে কমতে শুরু করে।
তবে অনেকের ক্ষেত্রে সমস্যা তখনই হয়, যখন এই হরমোন কমে যাওয়ার প্রভাব দৈনন্দিন জীবনে চোখে পড়ার মতো হয়ে ওঠে।
কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে
টেস্টোস্টেরন কমে গেলে শরীর ও মনের ওপর একসঙ্গে প্রভাব পড়ে। তখন কিছু লক্ষণ দেখা যেতে পারে। যেমন -
>> কাজে আগ্রহ কমে যাওয়া
>> সারাক্ষণ ক্লান্ত লাগা
>> যৌন ইচ্ছা ও কর্মক্ষমতা হ্রাস
>> মেজাজ খারাপ থাকা বা হতাশা
>> ঘুমের সমস্যা
>> এমনকি পেশিশক্তি কমে যাওয়া
এই লক্ষণগুলো ধীরে ধীরে আসে বলে অনেকেই বুঝতে পারেন না যে বিষয়টি হরমোনজনিত।
এটা কি নারীদের মেনোপজের মতো?
না। এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য। নারীদের ক্ষেত্রে মেনোপজ মানে একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং ইস্ট্রোজেন হরমোনের বড় পরিবর্তন। অর্থাৎ মেনোপজের পর নারী আর গর্ভধারণ করতে পারেন না। তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে এমন কোনো ‘শেষ সময়’ নেই। টেস্টোস্টেরন কমে গেলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় না।

তবে চিকিৎসকেরা বলেন, সব বয়সজনিত ক্লান্তি বা মানসিক পরিবর্তনকে মেল মেনোপজ বলে ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
চিকিৎসা দরকার হয় কি?
সব ক্ষেত্রে নয়। যদি রক্ত পরীক্ষায় টেস্টোস্টেরন সত্যিই স্বাভাবিকের চেয়ে কম পাওয়া যায় এবং উপসর্গগুলো জীবনযাত্রায় সমস্যা তৈরি করে, তখন চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারেন।
কিছু ক্ষেত্রে টেস্টোস্টেরন রিপ্লেসমেন্ট থেরাপি দেওয়া হয়। তবে এটি সবার জন্য নয়। কারণ এর সঙ্গে হৃদ্রোগ বা প্রোস্টেট সংক্রান্ত ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই নিজের সিদ্ধান্তে নয়, অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে এগোনো জরুরি।
জীবনযাপনের ভূমিকা কতটা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় জীবনযাপনের পরিবর্তনেই উপসর্গ অনেকটা কমে আসে। নিয়মিত ঘুম, মানসিক চাপ কমানো, শরীরচর্চা, স্বাস্থ্যকর খাবার — এসব অভ্যাস টেস্টোস্টেরনের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
অর্থাৎ বয়স বাড়া মানেই সবকিছু হরমোনের ঘাড়ে চাপানো ঠিক নয়।
মেল মেনোপজ শব্দটি জনপ্রিয় হলেও বাস্তবে এটি কোনো আকস্মিক শারীরিক ঘটনা নয়। এটি ধীরে ধীরে ঘটে যাওয়া একটি হরমোন পরিবর্তন। লক্ষণগুলোকে উপেক্ষা না করে সচেতন হওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ সঠিক তথ্য আর সঠিক সিদ্ধান্তই সুস্থ বার্ধক্যের সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।
সূত্র: ওয়েবএমডি, মায়ো ক্লিনিক, হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অন এজিং
এএমপি/এমএস