ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. লাইফস্টাইল

এডিএইচডি কি শুধু শিশুদেরই হয়

লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ০২:৫৫ পিএম, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

সানজানা রহমান যুথী

এডিএইচডিকে অনেকেই বাচ্চাদের সাধারণ চঞ্চলতা মনে করে থাকেন। এডিএইচডি মানে হলো অ্যাটেনশন ডেফিসিট হাইপারঅ্যাকটিভিটি ডিজঅর্ডার। সহজ করে বললে, এটি একটি স্নায়ুজনিত বিকাশগত সমস্যা, যেখানে মানুষের মনোযোগ ধরে রাখা, স্থিরভাবে বসে থাকা এবং আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

কিন্তু আমাদের দেশে এখনও এই বিষয়টিকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়না। তাই এডিএইচডি কী, কেন হয় এ বিষয়ে পাঠকদের জানাতে জাগো নিউজের সঙ্গে কথা বলেছেন ডা. এস. এম. নওশের। তিনি অলাভজনক সংস্থা এসো সচেতন হই সোসাইটির চীফ অনারারি কন্সাল্টেন্ট এবং বারডেম জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার।

জাগো নিউজ: এডিএইচডি কী? এটি কীভাবে একজন মানুষের আচরণে প্রভাব ফেলে?

ডা. নওশের: এডিএইচডি হলো একটি স্নায়ুবিক বিকাশজনিত সমস্যা যেখানে মনের মধ্যে সর্বদা বিচলতা কাজ করে। যা মনোযোগ ধরে রাখতে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং অতিসক্রিয়তা বা অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে সমস্যা সৃষ্টি করে। এডিএইচডি শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা গেলেও প্রাপ্তবয়স্কদেরও প্রভাবিত করতে পারে এবং এটি শৈশবে শুরু হয়ে যৌবন পর্যন্ত চলতে পারে।

জাগো নিউজ: এডিএইচডি কি জন্মগত?

ডা. নওশের: সংক্ষেপে বললে, এটা মায়ের দুধের সঙ্গে আসে না, কিন্তু মস্তিষ্কের তার-বাঁধুনির সঙ্গে আসে। তবে পরিবেশ, পড়াশোনার চাপ, পারিবারিক বিশৃঙ্খলা বিষয়গুলো শিশুর আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে। অর্থাৎ এসব পারিপার্শ্বিক কারণে এ সমস্যা বেড়ে যেতে পারে।

জাগো নিউজ: এডিএইচডির প্রধান লক্ষণগুলো কী?

ডা. নওশের: এডিএইচডির প্রধান লক্ষণগুলো হলো - যেকোনো কাজে মন না বসা, কিন্তু মন খারাপও হয় না; কারও কথা শোনার আগেই উত্তর দেওয়া; কাজ শুরু করতে ভয় পাওয়া, কাজ শেষ করব, এই তো করছি বলে ভুলে যাওয়া ইত্যাদি। এডিএইচডির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো ধৈর্য কম থাকা, ও কৌতূহল বেশি থাকা।

জাগো নিউজ: ছেলেদের ও মেয়েদের মধ্যে এডিএইচডির পার্থক্য কী?

ডা. নওশের: লক্ষণে কিছু পার্থক্য আছে। ছেলেরা সাধারণত এডিএইচডি হলে সবাইকে জানিয়ে দেয়। যেমন - দৌড়ঝাঁপ, হৈচৈ, ভাঙাচোরা, এক জায়গায় স্থির হয়ে না বসা। এসব আচরণ দেখে ধারনা করা যায়।
অন্যদিকে মেয়েরা চুপচাপ কাজে ভুল করে, মনোযোগ হারায়, নিজের ভেতরেই যুদ্ধ চালায়। এই কারণে মেয়েদের এডিএইচডি অনেক সময় ধরা পড়েই না।

জাগো নিউজ: কখন বুঝতে হবে যে কাউকে ডাক্তারের কাছে নেওয়া দরকার?

ডা. নওশের: যখন দেখা যাবে জীবনের জরুরি ক্ষেত্রগুলোতে - পড়াশোনা, বন্ধুত্ব, পরিবার - সব জায়গায় অতিরিক্ত অস্থিরতার জন্য সমস্যা হচ্ছে। আর নিজে বা অন্যরা কষ্ট পাচ্ছে। তখনই একজন ডাক্তারের কাছে যাওয়া প্রয়োজন।

এডিএইচডি কি শুধু শিশুদেরই হয়

জাগো নিউজ: সাধারণ দুষ্টুমি আর এডিএইচডির পার্থক্য কীভাবে বোঝা যায়?

ডা. নওশের: উদাহরণ দিয়ে বলি। দুষ্টুমি হলো - আজকে বেশি লাফালাফি করলাম। আর এডিএইচডি হলো - আমি চাইলেও থামতে পারছি না। দুষ্টুমি সময়মতো থামে, এডিএইচডি থামে না - এটাই হলো আসল ফারাক।

জাগো নিউজ: এডিএইচডি নির্ণয়ের জন্য কী ধরনের পরীক্ষা বা মূল্যায়ন করা হয়?

ডা. নওশের: এডিএইচডি নির্ণয়ের জন্য সে রকম সুনির্দিষ্ট কোন পরীক্ষা না থাকলেও গবেষণায় দেখা গেছে রক্তে সেরাম এমোনিয়া আর প্লাজমা লেক্টেটের পরিমান বেশি হলে শিশুদের ভেতর অস্থিরতা বেশি থাকে। তবে এখানে ডায়গোনস্টিক টেস্টের চাইতে বাবা-মা, শিক্ষক ও শিশুর সঙ্গে কথা বলে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে রিপোর্ট ও আচরণগত প্রশ্নমালার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয়।

জাগো নিউজ: এডিএইচডির পেছনে প্রধান কারণগুলো কী?

ডা. নওশের: এডিএইচডি হওয়ার পেছনে প্রধান ৩টি কারণ হলো, বংশগত প্রভাব, মস্তিষ্কের রাসায়নিক ভারসাম্য এবং পরিবেশগত চাপ। এটা কোনো অলসতা নয় বা ‘শাসন না করার ফল’ও নয়। এটি একটি বৈজ্ঞানিক ব্যাপার।

জাগো নিউজ: এডিএইচডির চিকিৎসা কীভাবে করা হয়?

ডা. নওশের: চিকিৎসা মানে শুধু ওষুধ না। আচরণগত চিকিৎসা বা বিহেভেরাল থেরাপি, পরিবার ও স্কুলের শিক্ষকদের সহায়তা এবং সমমর্মিতা, নিয়ম আর ধৈর্যের মাধ্যমে এডিএইচডির চিকিৎসা করা হয়। এখানে সবচেয়ে বড় ওষুধ হলো বোঝাপড়া। এডিএইচডি কোনো অভিশাপ নয়। ঠিকমতো পথ পেলে, এই মানুষরাই আবার সবচেয়ে সৃজনশীল, সবচেয়ে জীবন্ত মানুষ হয়ে ওঠে। শুধু তাদের জন্য পৃথিবীটাকে একটু গুছিয়ে দিতে হয়।

এএমপি/এমএস

আরও পড়ুন