ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. লাইফস্টাইল

মাইগ্রেন কি প্রাণঘাতী?

লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২:৩২ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

মাথার তীব্র যন্ত্রণায় কাতর হয়ে চিকিৎসার নিতে হাসপাতালে জন্য ইউএনও ফেরদৌস আরা। মাইগ্রেনের ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরই আসে দুঃসংবাদ-তিনি আর নেই। মৃত্যুর কারণ জানার পর থেকেই অনেকের মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে-মাইগ্রেন হলে কি সত্যিই মানুষের মৃত্যু হতে পারে? 

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ মাইগ্রেন সরাসরি মৃত্যুর কারণ নয়। তবে মাইগ্রেন উইথ অরা থাকলে হৃদরোগ, করোনারি আর্টারি ডিজিজ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কিছুটা বেড়ে যায়। যদিও এই ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বিরল, তবুও একে একেবারে অবহেলা করা যায় না। কারণ কিছু ক্ষেত্রে মাইগ্রেন মস্তিষ্কের রক্তপ্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে, যা মারাত্মক জটিলতার কারণ হতে পারে।

গুরুতর মাইগ্রেন(স্ট্যাটাস মাইগ্রেইনোসাস)
স্ট্যাটাস মাইগ্রেইনোসাস হলো মাইগ্রেনের সবচেয়ে জটিল ও গুরুতর রূপ। এই অবস্থায় মাইগ্রেনের ব্যথা সাধারণ সময়সীমা পেরিয়ে ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে স্থায়ী হয় এবং ব্যথার তীব্রতা অনেক বেশি থাকে। মাথাব্যথার সঙ্গে একটানা বমি বা তীব্র বমি বমি ভাব দেখা দেয়, যার ফলে রোগী স্বাভাবিকভাবে খাওয়া-দাওয়া বা দৈনন্দিন কাজ করতে পারেন না।

এই ধরনের মাইগ্রেনে আলো ও শব্দের প্রতি অসহনীয় সংবেদনশীলতা তৈরি হয়। সামান্য আলো বা শব্দও রোগীর যন্ত্রণা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সাধারণ মাইগ্রেনের জন্য ব্যবহৃত ওষুধগুলো এই অবস্থায় অনেক সময় কাজ করে না। ফলে ব্যথা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।

এ কারণেই স্ট্যাটাস মাইগ্রেইনোসাসকে অবহেলা করা অত্যন্ত বিপজ্জনক। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করে বিশেষ চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হয়, যাতে জটিলতা এড়ানো যায় এবং রোগীকে নিরাপদ রাখা সম্ভব হয়।

মাইগ্রেন কেন হয়?
মাইগ্রেনের সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। তবে চিকিৎসকদের মতে, কিছু শারীরিক ও পরিবেশগত বিষয় একসঙ্গে কাজ করেই মাইগ্রেনের সমস্যা তৈরি করে।

এর অন্যতম কারণ হলো মস্তিষ্কের অস্বাভাবিক কার্যক্রম। স্নায়ু, রক্তনালি ও শরীরের বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হলে মাথার একপাশে তীব্র ব্যথা শুরু হতে পারে। এই কারণেই মাইগ্রেনকে নিউরোভাস্কুলার সমস্যা বলা হয়।

হরমোনজনিত পরিবর্তনও মাইগ্রেনের বড় একটি কারণ। বিশেষ করে ঋতুচক্রের সময় নারীদের শরীরে হরমোনের ওঠানামা হয়, যার ফলে অনেকেই এ সময় মাইগ্রেনের তীব্রতায় বেশি ভোগেন।

শারীরিক কারণেও মাইগ্রেন দেখা দিতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম না হওয়া, অতিরিক্ত পরিশ্রম করা কিংবা হঠাৎ করে শরীর খুব ক্লান্ত হয়ে পড়লে মাইগ্রেনের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

পরিবেশগত পরিবর্তনও মাইগ্রেনকে উসকে দিতে পারে। যেমন-হঠাৎ গরম জায়গা থেকে ঠান্ডা পরিবেশে যাওয়া বা ঠান্ডা থেকে গরমে ঢুকে পড়লে অনেকের মাথাব্যথা শুরু হয়ে যায়।

খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গেও মাইগ্রেনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। অনিয়মিত খাবার খাওয়া, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, শরীরে পানির ঘাটতি, অতিরিক্ত চা বা কফি পান এবং মদ্যপান-এসবই মাইগ্রেনের বড় ট্রিগার হিসেবে কাজ করে।

কীভাবে কমাবেন মাইগ্রেনের সমস্যা?
মাইগ্রেনকে কখনোই সাধারণ মাথাব্যথা ভেবে অবহেলা করা উচিত নয়। শুরু থেকেই সচেতন হলে এবং সঠিক চিকিৎসা নিলে এই সমস্যাকে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। মাথাব্যথা ঘন ঘন হলে বা তীব্রতা বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। নিজের ইচ্ছেমতো পেইনকিলার খাওয়া বিপজ্জনক হতে পারে, কারণ এতে সাময়িক আরাম মিললেও মূল সমস্যা থেকে যায়। অনেক ক্ষেত্রে ব্যথা কমানোর ওষুধের পাশাপাশি স্নায়ুঘটিত বিশেষ ওষুধেরও প্রয়োজন হয়, যা কেবল চিকিৎসকই
নির্ধারণ করতে পারেন।

জীবনযাপনের কিছু পরিবর্তন মাইগ্রেন কমাতে বড় ভূমিকা রাখে। নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অতিরিক্ত আওয়াজ, উজ্জ্বল আলো বা অতিরিক্ত গরম পরিবেশ মাইগ্রেন বাড়াতে পারে, তাই এসব এড়িয়ে চলা ভালো। খাবারের ক্ষেত্রেও সতর্ক হতে হবে-সহজপাচ্য ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, সময়মতো খাওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা মাইগ্রেনের তীব্রতা কমাতে সাহায্য করে।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন। যেমন-ঘন ঘন বা অত্যন্ত তীব্র মাথাব্যথা হওয়া, মাথাব্যথার সঙ্গে বমি বা বমি বমি ভাব থাকা, এক মাসে পাঁচ বারের বেশি মাইগ্রেনের আক্রমণ হওয়া। এছাড়া মুখ বা হাতের এক পাশ হঠাৎ অবশ হয়ে গেলে, কথা জড়িয়ে গেলে বা অস্পষ্ট হয়ে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা যাবে না। মাথাব্যথার সঙ্গে যদি তীব্র জ্বর আসে বা জীবনে প্রথমবার হঠাৎ খুব ভয়াবহ মাথাব্যথা শুরু হয়, সেক্ষেত্রেও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

মানসিক স্বাস্থ্যের দিকেও নজর দিন
চিকিৎসকদের মতে, মানসিক চাপ মাইগ্রেনের সবচেয়ে বড় শত্রু। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ বা মানসিক অস্থিরতা মাইগ্রেনের আক্রমণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই যতটা সম্ভব চাপ কমানোর চেষ্টা করুন। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম, হাঁটা বা শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। প্রয়োজন হলে কাউন্সেলিং নেওয়াও উপকারী হতে পারে।

সূত্র: ক্লিভল্যান্ড ক্লিনিক, মায়ো ক্লিনিক, আমেরিকান মাইগ্রেন ফাউন্ডেশন

আরও পড়ুন:
গর্ভপাতের গল্পে দায় কি শুধুই নারী-শরীরের
শীতের রাতে চুলকানি বাড়ে কেন? জানুন সমাধান 

এসএকেওয়াই/

আরও পড়ুন