ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. লাইফস্টাইল

মানসিকভাবে শক্ত নারীরা কি সত্যিই ‘ম্যারেজ মেটিরিয়াল’ নন?

লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৫:১০ পিএম, ২১ জানুয়ারি ২০২৬

 

মানুষ মাত্রই জীবনের সব ঘাত-প্রতিঘাতের সঙ্গে লড়াই করে। প্রতিটি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য মনোবল বা মানসিক শক্তি অপরিহার্য। মনোবল থাকলে বড় চ্যালেঞ্জও সহজে মোকাবিলা করা সম্ভব, আর তা না থাকলে সামান্য সমস্যাও কঠিন মনে হয়। জীবনযুদ্ধে জয়লাভ করার প্রধান হাতিয়ার হলো এই মানসিক শক্তি। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় অনেক সময়ই মানসিকভাবে শক্তিশালী নারীদের বিয়ের জন্য উপযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয় না।

ftg

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রবীণ অভিনেত্রী নীনা গুপ্তা জানান, মানসিকভাবে শক্তিশালী, দাপুটে নারীরা ‘ম্যারেজ মেটিরিয়াল’ নন। তার মতে, অনেক পুরুষ এমন নারীদের পছন্দ করেন না, তারা চায় এমন নারীদের যারা অসহায় মনে হয় এবং যাদের উপর তারা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, যাদের নিজস্ব চিন্তাভাবনা ও মতামত আছে, তাদের অধিকাংশ পুরুষ সহ্য করতে পারেন না। যারা নিজেদের কর্মজীবনকে অগ্রাধিকার দেন, তারা অনেক পুরুষের চোখে গ্রহণযোগ্য নয়। যদিও সকলে এমন নয়, তবে ৯৫ শতাংশ পুরুষ এই প্রবণতা প্রকাশ করেন।

অভিনেত্রী উল্লেখ করেন, এটি তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা নয়, বরং সমাজ ও পরিবারের বাস্তবতা।

নারী-পুরুষের সমানাধিকার এবং নারীদের আর্থিক স্বাবলম্বিতা নিয়ে সামাজিক আলোচনা রয়েছে। তবু বিবাহের মতো দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে চার দেয়ালের ভেতরে আজও পুরুষের মতামত প্রাধান্য পায়।

এ ব্যাপারে ভারতীয় মনোবিদ অতুল রাজ ব্যাখ্যা করেন, আমাদের উপমহাদেশের বৈবাহিক সম্পর্কগুলোতে পুরুষের ক্ষমতার ভার এখনো বেশি। যদি নারী মানসিকভাবে শক্তিশালী হয়ে নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেন এবং সঙ্গীর মতামতকে অগ্রাধিকার না দেন, তা অনেক পুরুষের জন্য অস্বস্তিকর হয়ে দাঁড়ায়।

drfr

এই অস্বস্তিই নারীর চরিত্রগত ত্রুটি খুঁজে বের করার পিতৃতান্ত্রিক প্রবণতাকে জন্ম দেয়। অনমনীয় ও দাপুটে নারীদের ‘ম্যারেজ মেটিরিয়াল’ হিসেবে অগ্রাহ্য করা হয়, যা এক ধরনের কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এর মাধ্যমে পুরুষ সম্পর্কের কেন্দ্রে থাকেন, আর সব পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার দায়টা নিঃশব্দে নারীদের কাঁধে চাপানো হয়।

মনোবিদদের মতে, সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে ঘরের মেয়েরা সাধারণত সবরকম আপস করেন। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পুরুষদের হাতে থাকে।

ছেলেরা ছোটবেলায় এই ধারণা দেখে বড় হয় এবং তথাকথিত প্রগতিশীল পরিবারের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম দেখা যায় না।

ফলস্বরূপ, পুরুষদের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়, নারীর উপর নিয়ন্ত্রণই সম্পর্কের স্থিতিশীলতা। কোনো নারী যদি আপস না করেন, তবে ছোটবেলা থেকে তৈরি হওয়া এই ধারণা ভেঙে যায়, যা সরাসরি পুরুষের অহংবোধে আঘাত করে।

তাই বলা চলে স্বাবলম্বী নারীরা সামাজিক ও বৈবাহিক ক্ষেত্রে প্রায়ই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন, যদিও তাদের মানসিক শক্তি হলো জীবনের যেকোনো সমস্যার মোকাবিলার মূল হাতিয়ার।

সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

আরও পড়ুন:
ব্রেকআপের আগেই সঙ্গী খুঁজে রাখেন, চিটিংয়ের নতুন ট্রেন্ড 
কিছুদিন প্রেমে পাগল, তারপর কেন আর ভালো লাগে না 

এসএকেওয়াই/

আরও পড়ুন