ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. লাইফস্টাইল

টাইপ ১ এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের পার্থক্য কী

লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৪:৩৮ পিএম, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বর্তমানে বাংলাদেশে এমন পরিবার খুঁজে পাওয়াই কঠিন, যে পরিবারে কোনো ডায়াবেটিস রোগী নাই। তাই নিজের ও পরিবারের সদস্যদের স্বাস্থ্যরক্ষায় এই রোগ বিষয়ে কিছু সাধারণ জ্ঞান থাকা জরুরি।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে মূলত ডায়াবেটিসের দুটি প্রধান ধরন দেখা যায় - টাইপ ১ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস। নাম কাছাকাছি হলেও, এই দুই ধরনের ডায়াবেটিসের কারণ, শুরু হওয়ার বয়স, চিকিৎসা পদ্ধতি এবং জীবনযাপনে প্রভাব এক নয়। নাম দুইটা হয়তো আপনি আগেও শুনেছেন, কিন্তু বিস্তারিত জানা হয়নি। চলুন আজ জেনে নেওয়া যাক।

টাইপ ১ ডায়াবেটিস

টাইপ ১ ডায়াবেটিস সাধারণত শৈশব বা কৈশোর বয়সে ধরা পড়ে। এই ধরনের ডায়াবেটিসে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভুলবশত অগ্ন্যাশয়ের ইনসুলিন তৈরির কোষগুলো নষ্ট করে ফেলে। ফলে শরীর একেবারেই ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না।

টাইপ ১ এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের পার্থক্য কী

ইনসুলিন ছাড়া রক্তের শর্করা কোষে প্রবেশ করতে পারে না, তাই রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। টাইপ ১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে আজীবন ইনসুলিন নিতে হয়। এখানে খাদ্যাভ্যাস বা জীবনযাপনের চেয়ে জেনেটিক ও অটোইমিউন কারণ বেশি ভূমিকা রাখে।

টাইপ ২ ডায়াবেটিস

অন্যদিকে টাইপ ২ ডায়াবেটিস সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের ধরা পড়ে, যদিও বর্তমানে কম বয়সীদের মধ্যেও এর হার বাড়ছে। এই ক্ষেত্রে শরীর ইনসুলিন তৈরি করে, কিন্তু সেই ইনসুলিন ঠিকমতো কাজ করতে পারে না বা প্রয়োজনের তুলনায় কম তৈরি হয়। একে বলা হয় ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স।

টাইপ ২ ডায়াবেটিসের সঙ্গে অতিরিক্ত ওজন, অনিয়মিত জীবনযাপন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ও পারিবারিক ইতিহাস ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। শুরুতে খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম এবং মুখে খাওয়ার ওষুধেই অনেক সময় রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। তবে সময়ের সঙ্গে কিছু রোগীর ইনসুলিনও প্রয়োজন হতে পারে।

দুই ধরনের ডায়াবেটিসের লক্ষণ

লক্ষণগত দিক থেকেও কিছু পার্থক্য রয়েছে। টাইপ ১ ডায়াবেটিসে –
>> হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া
>> অতিরিক্ত পিপাসা
>> ঘন ঘন প্রস্রাব ও দুর্বলতা তুলনামূলকভাবে দ্রুত দেখা যায়।

টাইপ ২ ডায়াবেটিসে লক্ষণ অনেক সময় ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়, এমনকি দীর্ঘদিন কোনো উপসর্গ না থাকায় রোগটি গোপনেই থেকে যেতে পারে।

টাইপ ১ এবং টাইপ ২ ডায়াবেটিসের পার্থক্য কী

চিকিৎসা ও জীবনযাপনের ক্ষেত্রে দুটির ব্যবস্থাপনাও আলাদা। টাইপ ১ ডায়াবেটিসে ইনসুলিন ছাড়া বিকল্প নেই। আর টাইপ ২ ডায়াবেটিসে জীবনযাপনে পরিবর্তন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। স্বাস্থ্যকর খাবার, ওজন নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম অনেক ক্ষেত্রে রোগের অগ্রগতি কমাতে পারে।

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো - টাইপ ১ বা টাইপ ২, যেকোনো ডায়াবেটিসই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা এবং সচেতন জীবনযাপনই মূলত সুস্থ থাকার মূল চাবিকাঠি।

সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড কিডনি ডিজিজেস

এএমপি/এএসএম

আরও পড়ুন