ইফতারে পেঁপে খাবেন না যারা
ছবি: সংগৃহীত
ইফতারের টেবিলে নানা ধরনের খাবারের সমারোহ থাকে। ভাজাপোড়া, শরবত, ফল-সব মিলিয়ে জমজমাট আয়োজন। এই তালিকায় অনেকেই রাখেন পাকা পেঁপে। পেঁপে একটি পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য ফল, যা ভিটামিন এ, সি, ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ।
রোজার পর দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে হজম প্রক্রিয়া কিছুটা ধীর হয়ে যায়। সে ক্ষেত্রে পরিমিত পেঁপে হজমে সহায়তা করতে পারে। তবে সবার জন্য পেঁপে সমান উপকারী নয়,কিছু ক্ষেত্রে এটি ক্ষতিকরও হতে পারে।
গর্ভবতী নারীদের জন্য সতর্কতা
গর্ভাবস্থায় সম্পূর্ণ পাকা পেঁপে সীমিত পরিমাণে নিরাপদ বলে ধরা হয়। তবে কাঁচা বা আধা পাকা পেঁপে একেবারেই এড়িয়ে চলা উচিত। কাঁচা পেঁপেতে থাকা ল্যাটেক্স ও প্যাপেইন এনজাইম জরায়ুতে সংকোচন সৃষ্টি করতে পারে, যা গর্ভপাত বা অকাল প্রসবের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই গর্ভবতী নারীদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে পেঁপে খাওয়া উচিত।

অ্যালার্জি ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি
যাদের ল্যাটেক্স বা রাবারে অ্যালার্জি আছে, তাদের ক্ষেত্রে পেঁপে খেলে ‘ওরাল অ্যালার্জি সিনড্রোম’ হতে পারে। এতে ঠোঁট বা মুখ ফুলে যাওয়া, চুলকানি, ত্বকে ফুসকুড়ি, এমনকি শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে অ্যানাফাইল্যাকটিক শকের মতো বিপজ্জনক অবস্থাও তৈরি হতে পারে। তাই এ ধরনের অ্যালার্জি থাকলে পেঁপে খাওয়ার আগে সতর্ক থাকা জরুরি।
ডায়াবেটিস ও রক্ত পাতলা হওয়ার বিষয়
পেঁপে স্বাভাবিকভাবে খুব বেশি মিষ্টি না হলেও অতিরিক্ত খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের প্রতিদিন আধা কাপ বা ছোট একটি বাটির বেশি না খাওয়াই ভালো।
এছাড়া যারা ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করেন, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পেঁপে রক্তকে আরো পাতলা করে দিতে পারে, ফলে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
হজমের সমস্যা হতে পারে
পেঁপে হজমে সহায়ক এনজাইমসমৃদ্ধ হলেও অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে উল্টো পেটের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে দুধ, দই, লেবুজাতীয় ফল বা উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে খেলে গ্যাস, পেট ফাঁপা, ডায়রিয়া বা অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে।
ইফতারে যদি ভাজাপোড়া ও ঝাল মসলাদার খাবার বেশি খাওয়া হয়, তবে পেঁপে না খাওয়াই ভালো। ঝাল খাবার নিজেই হজমের গোলযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তার সঙ্গে পেঁপে যুক্ত হলে সমস্যা আরও প্রকট হতে পারে, বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই হজমের সমস্যা রয়েছে।
কতটুকু খাবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ১০০-১৫০ গ্রাম বা আধা কাপ পাকা পেঁপে যথেষ্ট। এর বেশি খাওয়ার প্রয়োজন নেই। যাদের থাইরয়েড সমস্যা, কিডনিতে পাথর বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা আছে, তাদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পেঁপে খাওয়া উচিত নয়।
পেঁপে নিঃসন্দেহে উপকারী ফল। তবে সঠিক পরিমাণ ও সঠিক পরিস্থিতিতে খাওয়া জরুরি। ইফতারের টেবিলে পাকা পেঁপে রাখতে পারেন, কিন্তু অতিরিক্ত নয়। সুস্থ থাকতে সচেতন খাদ্যাভ্যাসই সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।
সূত্র: এনডিটিভি
আরও পড়ুন:
ডাবের পানি নাকি আখের রস, ইফতারে কোনটা বেশি উপকারী
রোজায় গ্যাস্ট্রিক ও পেটের যত্নে মানুন চিকিৎসকের পরামর্শ
এসএকেওয়াই