ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. লাইফস্টাইল

রুম হিটার ব্যবহারের আগে যেসব বিষয় জানা জরুরি

লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ১২:২৩ পিএম, ২২ ডিসেম্বর ২০২১

শীত পড়তে অনেকেই ব্যবহার করছেন রুম হিটার। এটি তাৎক্ষণিক ঘর গরম করলেও শরীরে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। হিটার ব্যবহারে হয়তো আপনি সাময়িকভাবে ঘর গরম করতে পারবেন। তবে নিয়মিত রুম হিটার ব্যবহারে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে কঠিন রোগ।

কীভাবে কাজ করে হিটার? অধিকাংশ হিটারের ভেতরেই গরম ধাতুর পাত বা সিরামিক কোর থাকে। ঘরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির জন্য গরম হাওয়া বের করে এটি।

রুম হিটার ব্যবহার করছেন? এই সাবধানতাগুলো জানা জরুরি

হিটার থেকে নির্গত গরম বাতাস ঘরের আর্দ্রতা শুষে নেয়। এমনকি এই রুম হিটার আবহাওয়ায় উপস্থিত অক্সিজেনকে পুড়িয়ে দেয়। বুঝতেই পারছেন হিটার ব্যবহারের ফলে অজান্তে কতটা ক্ষতি করছেন নিজের!

সাধারণ রুম হিটার ব্যবহার করলে কী কী শারীরিক সমস্যা হতে পারে?

সাধারণ হিটার (যেমন: কনভেনশান বা হ্যালোজেন হিটার) থেকে নির্গত গরম বাতাস ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক ও রুক্ষ করে দেয়। এর ফলে অনিদ্রা ও মাথাব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া, হিটার থেকে নির্গত রাসায়নিক শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে অভ্যন্তরীণ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের ক্ষতি করতে পারে।

শ্বাসকষ্ট বা সাইনাসের রোগীদের জন্য হিটার কেন ঝুঁকিপূর্ণ?

হিটারের বাতাস ফুসফুসে কফ জমাতে শুরু করে, যা থেকে হাঁচি বা কাশি হতে পারে। বিশেষ করে ব্রঙ্কাইটিস ও সাইনাস রোগীদের ক্ষেত্রে এই কফ ফুসফুসে শুকিয়ে গিয়ে জটিলতা তৈরি করে, যার ফলে অনেক সময় অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের প্রয়োজন পড়ে। তাই শ্বাসকষ্টের রোগীদের হিটার থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।

অ্যাজমা বা অ্যালার্জি থাকলে কোন ধরনের হিটার ব্যবহার করা নিরাপদ?

বিশেষজ্ঞদের মতে, যাদের অ্যাজমা বা অ্যালার্জি আছে তারা সাধারণ হিটারের বদলে অয়েলি হিটার ব্যবহার করতে পারেন। এই হিটারে তেল ভর্তি পাইপ থাকে যা বাতাসকে শুষ্ক হতে দেয় না। এছাড়া বাতাসে আর্দ্রতা বজায় রাখতে হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করা সবচেয়ে কার্যকর সমাধান।

শিশুদের ক্ষেত্রে গ্যাস হিটার ব্যবহারের ঝুঁকি কী?

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব বাড়িতে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি হিটার বেশি ব্যবহার করা হয়, সেখানকার শিশুদের মধ্যে অ্যাজমা বা হাঁপানির সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই শিশুদের সুরক্ষায় গ্যাস হিটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিশেষ সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত।

এ ছাড়াও কাশি, হাঁচি, বুকে ঘরঘর শব্দ ও ফুসফুসের ক্ষতির লক্ষণ বেশি দেখা যায় এসব পরিবারেই। এই হিটার থেকে কার্বন মনোঅক্সাইড নির্গত হয়। যা ছোট শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যের ওপর কুপ্রভাব ফেলে। 

রুম হিটার ব্যবহার করে বিপদ ডেকে আনছেন না তো!

হিটার ব্যবহারের সময় অগ্নি-নিরাপত্তায় কোন বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে?

ভুলেও কখনো কম্বলের ভেতরে হিটার রাখা যাবে না। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক এবং এর ফলে যেকোনো সময় আগুন লেগে বড় ধরণের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

প্রতিদিন হিটার ব্যবহার করলে- কাশি, মাথাব্যথা, বমি বা গা গোলানো, চোখ শুকিয়ে যাওয়া, নাক বন্ধ হওয়া, শ্বাস-প্রশ্বাস সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি, অ্যাজমার রোগীদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

যদি হিটার ব্যবহার করতেই হয়, তাহলে কিছু সাবধানতা মেনে চলা ভালো। কী কী করবেন?

পাশে পানি রাখুন, পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল নিশ্চিত করুন এবং কম্বল থেকে দূরে রাখুন। একটানা না চালিয়ে বিরতি দিন। সুস্থ থাকুন

  • নির্দিষ্ট সময় পরপর চা, কফি বা স্যুপ পান করুন। এর ফলে গলার আর্দ্রতা বজায় থাকবে।
  • ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।
  • পর্যাপ্ত পরিমাণে হালকা গরম পানি পান করুন।
  • ঘরের কোনো অংশে পাত্র ভরতি পানি রাখুন। এর ফলে বাড়ির ভেতরের বায়ু আর্দ্র থাকবে।
  • হিটারের তাপমাত্রা নির্দিষ্ট রাখুন।

শেষ কথা

বিশেষজ্ঞদের মতে, হিটারের শুষ্কতা এড়াতে ঘরে এক পাত্র পানি রাখুন এবং পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন নিশ্চিত করুন। সরাসরি হিটারের সামনে বসা থেকে বিরত থাকুন। একটানা ব্যবহার না করে বিরতি দিন এবং ঘুমানোর আগে হিটার বন্ধ রাখা সবচেয়ে নিরাপদ।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

জেএমএস/জেআইএম

আরও পড়ুন