ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. লাইফস্টাইল

২০২৬ সালে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

লাইফস্টাইল ডেস্ক | প্রকাশিত: ০৩:২৫ পিএম, ০৬ জানুয়ারি ২০২৬

২০২৬ সালের সম্পর্ক মানে শুধু ভালোবাসা নয়, সচেতনতা, বোঝাপড়া আর দায়িত্বও। প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাস, মনোযোগ ও সম্মানজনক সীমারেখা যেন সম্পর্ককে শক্তিশালী করে। মার্কিন সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ জিলিয়ান টুরেকি বছরের পর বছর ধরে দেখেছেন, সুস্থ ও টেকসই সম্পর্ক গড়ে ওঠে তখনই, যখন সঙ্গী একে অপরের সঙ্গে গভীর সংযোগ স্থাপন করে, মন দিয়ে শোনে এবং ছোট ছোট প্রশংসা ও স্বীকৃতি দিয়ে সম্পর্কের স্পার্ক বজায় রাখে।

সম্পর্ক নিয়ে কাজ করা মার্কিন কোচ, লেখক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর জিলিয়ান টুরেকি দীর্ঘদিন ধরেই ভালোবাসা ও সম্পর্কের বাস্তব দিকগুলো নিয়ে কথা বলে আসছেন। ইনস্টাগ্রামে তার অনুসারী এখন ৩৫ লাখেরও বেশি। প্রায় ২০ বছর ধরে রিলেশনশিপ কোচ হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি পরিচালনা করছেন জনপ্রিয় পডকাস্ট ‘জিলিয়ান অন লাভ’। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জিলিয়ান জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে সুস্থ ও টেকসই সম্পর্কের জন্য কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে।

২০২৬ সালে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

তার কথায়, সম্পর্কে নিজের দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে। কোনো নেতিবাচক ধারণা তৈরি করার আগে সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলুন, প্রশ্ন করুন। এমনভাবে ভালোবাসুন যেন সম্পর্কের ভেতরে নিরাপত্তা, বিশ্বাস আর গভীর সংযোগ গড়ে ওঠে। চলুন দেখে নেওয়া যাক, ২০২৬ সালে সম্পর্কের ক্ষেত্রে যে পাঁচটি বিষয়কে গুরুত্ব দিতে হবে-

একসঙ্গে সময় কাটানোর সক্রিয় অভ্যাস

সম্পর্ককে প্রাণবন্ত রাখতে একসঙ্গে শরীরচর্চা বা হাঁটার মতো ছোট অভ্যাস বড় ভূমিকা রাখে। সপ্তাহে অন্তত চার দিন একসঙ্গে প্রায় ৮ হাজার কদম হাঁটা সম্পর্কের ছন্দ ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি একসঙ্গে জিমে যাওয়া, ভ্রমণ, ব্যাডমিন্টন বা দাবা খেলা, কিংবা সপ্তাহান্তে সিনেমা বা সিরিজ দেখাও সম্পর্কের মধ্যে নতুনত্ব বজায় রাখে।

২০২৬ সালে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বিয়ের পরও ডেটিং চালু রাখুন

বছরের পর বছর একসঙ্গে থাকলেও একে অপরকে ‘ডেট করা’ থামিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। সাজগোজ করে বাইরে খেতে যাওয়া, বারান্দায় বসে কফি ভাগ করে নেওয়া বা ছুটির দিনে নিরিবিলি গল্পে মেতে ওঠা এসব ছোট আয়োজন সম্পর্ককে আবার নতুন করে কাছাকাছি আনে।

২০২৬ সালে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

মন দিয়ে শোনার মানসিকতা

২০২৬ সালে সম্পর্কের সবচেয়ে বড় চাহিদা হলো আবেগগতভাবে পাশে থাকা। শুধু দৈনন্দিন খোঁজখবর নয়, বরং সঙ্গীর ভেতরের কথা শোনার আগ্রহ থাকা জরুরি। তার চিন্তা, ভয়, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা অতীতের কোনো কষ্ট এসব মনোযোগ দিয়ে শোনা সম্পর্ককে গভীর করে তোলে।

সুস্থ সীমারেখা বজায় রাখা

ভালোবাসা মানেই নিজের সবকিছু বিলিয়ে দেওয়া নয়। ব্যক্তিগত জায়গা, গোপনীয়তা ও সম্মানজনক দূরত্ব বজায় রাখাও একটি সুস্থ সম্পর্কের অংশ। এতে দু’জনের আলাদা পরিচয় টিকে থাকে এবং সম্পর্ক আরও শক্ত হয়।

২০২৬ সালে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

ছোট প্রশংসা ও স্বীকৃতি

২০২৬ সালে ভালোবাসা বড় কোনো নাটকীয় প্রমাণ চায় না। বরং নিয়মিত ছোট প্রশংসা, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ বা সঙ্গীর চেষ্টাকে স্বীকৃতি দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এতে দু’জনই নিজেদের সেরা রূপটা তুলে ধরতে উৎসাহ পায়। মনে রাখতে হবে, দাম্পত্য বা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক আসলে একটি টিমওয়ার্ক যেখানে একসঙ্গে এগোনোটাই আসল শক্তি।

ভবিষ্যতের সম্পর্ক মানে শুধু অনুভূতি নয়; সচেতনতা, দায়িত্ব আর পারস্পরিক বোঝাপড়ার সমন্বয়। ২০২৬ সালে ভালোবাসা টিকিয়ে রাখতে এই বিষয়গুলোই হয়ে উঠবে সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি।

জেএস/

আরও পড়ুন