চুমু খেলেই হবে না, জানেন কত রকমের চুম্বন আছে?
ছবি: সংগৃহীত
গোলাপ দেওয়া হয়েছে, চকলেটও শেষ, আলিঙ্গনে কেটেছে গতকাল। তারপরই আসে সেই দিন, যা প্রেমকে আরও এক ধাপ ঘনিষ্ঠতায় পৌঁছে দেয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ ‘কিস ডে’। ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের সপ্তম দিনে ভালোবাসার মানুষটিকে কপাল, হাত কিংবা গালে একটি স্নিগ্ধ চুম্বন দিয়ে অনেকে যেন নিঃশব্দে বলে ওঠেন ‘তুমি আমার খুব আপন।’
ভ্যালেন্টাইন সপ্তাহের প্রতিটি দিনই আবেগের একেকটি ধাপ। প্রস্তাব, প্রতিশ্রুতি, উপহার আর আলিঙ্গনের পর চুম্বন যেন সম্পর্কের অনুভূতিকে স্পর্শের ভাষায় প্রকাশ করে। তবে চুম্বন শুধু রোমান্টিক ভঙ্গিই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাও।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘক্ষণ চুম্বনের সময় মস্তিষ্কে ডোপামিন ও অক্সিটোসিনের মতো ‘হ্যাপি হরমোন’ নিঃসৃত হয়। এই হরমোন মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং মনকে প্রফুল্ল করে তোলে।
চিকিৎসকদের মতে, এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে, এমনকি সামান্য ক্যালরিও পোড়াতে পারে। অর্থাৎ, সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর পাশাপাশি চুম্বন মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
চুম্বনের ইতিহাসও কম পুরনো নয়। মানব সভ্যতার প্রাচীন অধ্যায় থেকেই এর উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। ইতিহাসবিদদের মতে, ষষ্ঠ শতকে ফ্রান্সে নাচের শেষে সঙ্গীকে চুম্বন করার এক ধরনের প্রথা প্রচলিত ছিল। আবার রোমানরা চুম্বনকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করেছিল ‘অস্কুলাম’, যা বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে গালে দেওয়া হতো; ‘বাসিয়াম’, যা ঠোঁটে চুম্বন; আর ‘সুভিয়াম’, যা ছিল গভীর আবেগময় চুম্বন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অভ্যাস বদলেছে, তবে অনুভূতির গভীরতা রয়ে গেছে একই।

ভালোবাসার প্রকাশভঙ্গি অনুযায়ী চুম্বনের ধরনও ভিন্ন হতে পারে। যেমন-
কপালে চুম্বন: এটি ভালোবাসার পাশাপাশি দায়িত্ববোধ, সুরক্ষা ও শ্রদ্ধার প্রকাশ। সঙ্গীকে আশ্বস্ত করার এক কোমল উপায়।
হাতে চুম্বন: আভিজাত্য, সম্মান ও মুগ্ধতার প্রতীক। অনেক সময় এটি সম্পর্কের সূক্ষ্ম রোমান্টিক ইঙ্গিত বহন করে।
গালে চুম্বন: স্নেহ, বন্ধুত্ব ও উষ্ণতার সহজ প্রকাশ।

সব মিলিয়ে, চুম্বন শুধু একটি দিনকে ঘিরে সীমাবদ্ধ নয়। এটি অনুভূতির ভাষা যেখানে শব্দের প্রয়োজন হয় না, তবুও অনেক কিছু বলা হয়ে যায়।
তথ্যসূত্র: এমডিপিআই/টিভি নাইন
জেএস/