রোজায় পিপিআই ও অ্যান্টাসিড খাওয়ার সঠিক নিয়ম
প্রতীকী ছবি, এআই দিয়ে বানানো
রমজান মাসে গ্যাস্ট্রিক, আলসারের সমস্যায় ভোগা অনেকেই দ্বিধায় পড়েন নিয়মিত অ্যান্টাসিড বা পিপিআই (প্রোটন পাম্প ইনহিবিটার) ওষুধ কীভাবে খাবেন? দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে অনেকের বুকজ্বালা, টক ঢেঁকুর বা পেটের ব্যথা বেড়ে যায়। ফলে ওষুধের সময় ও পদ্ধতি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এ.কে.এম. যোবায়ের বলেন, যারা নিয়মিত অ্যান্টাসিড বা পিপিআই ওষুধ খান, তারা রোজার সময় হঠাৎ করে ওষুধ বন্ধ করবেন না। এতে অ্যাসিডিটি বেড়ে গিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সময় সামঞ্জস্য করতে হবে।
পিপিআই ও অ্যান্টাসিড কখন খাবেন?
ডা. যোবায়েরের পরামর্শ অনুযায়ী, পিপিআই জাতীয় ওষুধ (যেমন ওমিপ্রাজল, এসোমিপ্রাজল প্রভৃতি) সাধারণত খালি পেটে খেতে হয়। রোজায় এটি সেহরির ৩০ মিনিট আগে খাওয়া সবচেয়ে উপযুক্ত। কেউ যদি দিনে দুইবার পিপিআই খান, তাহলে সেহরির আগে ও ইফতারের আগে (খাবারের অন্তত ৩০ মিনিট আগে) খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। অন্যদিকে অ্যান্টাসিড সিরাপ বা ট্যাবলেট সাধারণত খাবারের পর বা উপসর্গ দেখা দিলে নেওয়া হয়। রোজায় এটি ইফতার বা সেহরির পরে নেওয়া যেতে পারে।
আরও পড়ুন:
রোজায় গ্যাস্ট্রিক ও পেটের যত্নে মানুন চিকিৎসকের পরামর্শ
রোজায় সুস্থ থাকার সহজ ৫ নিয়ম
ওষুধ বন্ধ করলে কী হতে পারে?
অনেকে মনে করেন, রোজার সময় ওষুধ না খেলেই ভালো। কিন্তু ডা. যোবায়ের সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘদিন পিপিআই খাচ্ছেন এমন রোগীরা হঠাৎ বন্ধ করলে রিবাউন্ড অ্যাসিডিটি হতে পারে। এতে আগের চেয়ে বেশি বুকজ্বালা ও ব্যথা হতে পারে। বিশেষ করে যাদের আলসারের ইতিহাস আছে, দীর্ঘদিনের গ্যাস্ট্রিক সমস্যা, আগেও রক্তক্ষরণ হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে ওষুধ বন্ধ করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
খাদ্যাভ্যাসে কী পরিবর্তন আনবেন?
- সেহরি কখনো বাদ দেবেন না
- ইফতারে হঠাৎ ভারী খাবার খাবেন না
- ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত ঝাল এড়িয়ে চলুন
- চা-কফি সীমিত রাখুন
- পর্যাপ্ত পানি পান করুন
কখন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হবেন?
- তীব্র পেটব্যথা
- রক্তমিশ্রিত বমি
- কালো পায়খানা
- ওজন দ্রুত কমে যাওয়া
এ ধরনের লক্ষণ দেখা যায়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
রোজায় অ্যান্টাসিড বা পিপিআই ওষুধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সময় মেনে চলা এবং চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুসরণ করা। নিজের সিদ্ধান্তে ওষুধ বন্ধ বা পরিবর্তন না করে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
জেএস/