ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. সাহিত্য

ডরোথি পার্কারের গল্প: আ টেলিফোন কল

সাহিত্য ডেস্ক | প্রকাশিত: ০১:২৪ পিএম, ২৮ জানুয়ারি ২০২৬

ভাষান্তর: হাসানাত রাজিব

ও ঈশ্বর, দয়া করুন। সে যেন এখনই আমাকে টেলিফোন করে। প্রিয় ঈশ্বর, সে যেন এখনই আমাকে টেলিফোন করে। আমি আর কিছু চাইবো না আপনার কাছে। সত্যিই কিছু চাইবো না। খুব বেশি কিছু চাইছি না তো। এটা তো আপনার কাছে সামান্য একটা জিনিস, খুবই সামান্য একটা জিনিস। ও ঈশ্বর, দয়া করুন। যেন সে এখনই আমাকে টেলিফোন করে। দয়া করুন, ঈশ্বর। দয়া করুন, দয়া করুন, দয়া করুন।

আমি যদি টেলিফোন আসার ভাবনায় ডুবে না থাকতাম, হয়তো এখনই টেলিফোনটা বেজে উঠতো। মাঝে মাঝে এমনটা হয়েও থাকে। যদি আমি অন্য কোনো ভাবনায় থাকি! যদি পাঁচ পাঁচ করে একটানা পাঁচশ পর্যন্ত গণনা করতাম, এর মধ্যেই টেলিফোনটা বেজে উঠতো। আমি ধীরে ধীরে গণনা করবো। কোনো প্রকার ছলনা করবো না। আমি যখন তিনশতে পৌঁছাবো; তখন যদি ফোন বেজে ওঠে, আমি তখনও থামবো না, যতক্ষণ না আমি পাঁচশতে পৌঁছাবো, আমি টেলিফোন ধরবো না। পাঁচ, দশ, পনেরো, বিশ, পঁচিশ, ত্রিশ, পঁয়ত্রিশ, চল্লিশ, পঁয়তাল্লিশ, পঞ্চাশ... ওহ! দয়াকরে ফোনটা বেজে উঠুক।

শেষবারের মতো আমি ঘড়ির দিকে তাকাবো। এরপর আর তাকাবো না। এখন সাতটা বেজে দশ মিনিট। সে পাঁচটা বাজে টেলিফোন করবে বলেছিল। ‌‘প্রিয়, আমি পাঁচটা বাজে তোমাকে কল করবো।’ সে তখনই আমাকে প্রিয় বলে ডেকেছিল। আমি প্রায় নিশ্চিত সে তখনই বলেছিল। আমি জানি সে আমাকে দুইবার প্রিয় বলে ডেকেছিল। আরেকবার বলেছিল আমাকে বিদায় বলার সময়—‘বিদায়, প্রিয়।’ সে ব্যস্ত ছিল এবং অফিসের মধ্যে সে বেশি কথা বলতে পারেনি। কিন্তু সে আমাকে দুইবার প্রিয় বলে ডেকেছিল। আমি টেলিফোন করাতে সে কিছু মনে করেনি। আমি জানি আপনাদের উচিত না তাদের বারবার টেলিফোন করতে থাকা। আমি জানি তারা এটা পছন্দ করে না। যখন আপনি এটা করবেন, তারা ভাববে আপনি তাদের নিয়ে ভাবছেন এবং তাদের সঙ্গ কামনা করছেন এবং এটা তাদের মধ্যে আপনার প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করবে। কিন্তু তিন দিন হয়ে গেছে আমি তার সাথে কথা বলিনি, তিন দিন হয়ে গেছে। আমি শুধু তাকে জিজ্ঞেস করতাম সে কেমন আছে! এটা জানার জন্য তো যে কেউ টেলিফোন করতে পারে! সে কিছু নাও মনে করতে পারে। সে ভাববে না আমি তাকে বিরক্ত করছি। সে বলেছিল, ‘না, অবশ্যই তুমি বিরক্ত করছো না’ এবং সে বলেছিল আমাকে টেলিফোন করবে। তার এটা না বললেও হতো। আমি তাকে বলতে বলিনি, সত্যিই বলিনি। আমি বলিনি নিশ্চিত। আমি ভাবিনি সে আমাকে টেলিফোন করার কথা বলবে অথচ আর কখনো টেলিফোন করবেই না। ঈশ্বর, দয়া করুন, সে যেন এমনটা না করে। এমনটা যেন না করে।

‘আমি পাঁচটা বাজে কল দেবো, প্রিয়। বিদায় প্রিয়।’ সে ব্যস্ত ছিল এবং তাড়ার মধ্যে ছিল এবং তার চারপাশে মানুষ থাকা সত্ত্বেও সে আমাকে দুইবার প্রিয় বলে ডেকেছিল। এটা আমার, এটা শুধুই আমার। আমি এটা পেয়ে গেছি, এমনকি যদিও তাকে কখনো আবার না দেখি। ওহ! কিন্তু এটা খুব সামান্য। এটা যথেষ্ট নয়। কোনো কিছুই যথেষ্ট নয় যদি আমি তাকে আবার না দেখি। ঈশ্বর, আমি যেন তাকে আবার দেখতে পাই। আমি তাকে খুব করে চাই। আমি তাকে ভীষণভাবে চাই। ঈশ্বর, আমি নিজেকে শুধরে ফেলবো। আমি আরও উত্তম হওয়ার চেষ্টা করবো, আমি আরও উত্তম হবো যদি আপনি তাকে আবার দেখার সুযোগ দেন, যদি আপনি তাকে টেলিফোন করার সুযোগ দেন। ওহ! সে যেন এখনই আমাকে টেলিফোন করে।

আহ! ঈশ্বর, আমার প্রার্থনা যেন তুচ্ছ না হয় আপনার কাছে। ধবধবে সাদা আর প্রবীণ আপনি বসে আছেন সেখানে; যার চারপাশে সমস্ত দেবদূত আর তারাগুলো ঘূর্ণায়মান রয়েছে। এবং আমি একটা টেলিফোন কলের প্রার্থনা নিয়ে বসে আছি। আহ! ঈশ্বর, হাসবেন না। আপনি দেখেন, কিন্তু আপনি জানেন না এটার অনুভূতি কেমন। আপনি আপনার সিংহাসনে অনেক নিরাপদ। যার নিচ দিয়ে নীলাভ আভা ঘুরতে থাকে সদা। কোনো কিছুই আপনাকে স্পর্শ করতে পারে না। কেউ আপনার হৃদয়কে আলোড়িত করতে পারে না। এটা ভীষণ কষ্টের, ঈশ্বর, খুব ভয়ানক কষ্টের। আমাকে সাহায্য করবেন না?

আমাকে এবার অবশ্যই থামতে হবে। আমার এমনটা হওয়া উচিত নয়। দেখুন, মনে করুন একজন তরুণ বলল, সে একজন মেয়েকে টেলিফোন করবে এবং হঠাৎ কিছু একটা হয়ে গেল আর সে টেলিফোন করল না। খুব ভয়ানক নয় বিষয়টা, ঠিক না? কেন, এই মুহূর্তেই পুরো পৃথিবীতেই এমনটা ঘটছে হয়তো। ওহ! পুরো পৃথিবীতে কী ঘটছে নাকি ঘটছে না, তা নিয়ে আমি ভাবছি কেন! কেন টেলিফোনটা বেজে উঠছে না? কেন বাজছে না! তুমি কি বেজে উঠতে পারো না! তুমি কি বেজে উঠতে পারো না! জঘন্য, কুৎসিত আর চকচকে টেলিফোনটা বেজে উঠতে পারো না! বেজে উঠতে তোমার কষ্ট হবে, তাই নয় কি? ওহ! কষ্ট হবে তোমার! জঘন্য একটা! আমি দেওয়াল থেকে তোমার নোংরা শেকড়গুলো উপড়ে ফেলবো। তোমার ফিটফাট কালো মুখটাকে ছোট ছোট টুকরায় চূর্ণ করে দেবো। জঘন্য! খারাপ একটা।

না! না! না! আমাকে অবশ্যই থামতে হবে। আমাকে অবশ্যই অন্য কিছু নিয়ে ভাবতে হবে। এটাই করবো আমি। ঘড়িটা অন্য কক্ষে রেখে আসবো। তাহলে এটার দিকে আর তাকাতে হবে না। আর যদি তাকাতেই হয়, আমাকে শয়নকক্ষে হেঁটে যেতে হবে। আর এটাই হবে আমার অন্য কিছু করা। ঘড়িটার দিকে আবার তাকানোর পূর্বেই হয়তো সে আমাকে কল করবে। আমি তার সাথে খুব মিষ্টি করে কথা বলবো, যদি সে আমাকে কল করে। যদি সে বলে আমার সাথে আজ রাতে দেখা করতে পারবে না, আমি বলবো, ঠিক আছে, প্রিয়। অবশ্যই ঠিক আছে, প্রিয়। প্রথমবার দেখা করার সময় আমি যেমন ছিলাম, ঠিক তেমনই থাকবো। তাহলে হয়তো সে আমাকে আবার পছন্দ করবে। প্রথম প্রথম আমি খুব মিষ্টি ছিলাম। ওহ! কাউকে ভালোবাসার পূর্বে তাদের সাথে মিষ্টি করে কথা বলা খুবই সহজ।

আমার মনে হয় সে এখনো কিছুটা পছন্দ করে আমাকে। যদি সে আমাকে সামান্য পছন্দ না-ই করতো, আজকে আমাকে দুইবার প্রিয় বলে ডাকতে পারতো না। এখনই সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি, যদি সে আমাকে সামান্যও পছন্দ করে থাকে, এমনকি সেটা যদি খুব খুব সামান্যও হয়ে থাকে। আপনি দেখেন, ঈশ্বর, সে যদি আমাকে এখনই টেলিফোন করে, আমি আপনার কাছ থেকে আর কিছু চাইবো না। আমি মিষ্টি করে কথা বলবো, আমি খুব আনন্দিত থাকব, আমি যেমন ছিলাম সব সময়, তেমনই থাকবো। তাহলেই সে আমাকে আবার ভালোবাসবে। তারপর আর আপনার কাছ থেকে আমার কিছু চাইতে হবে না। আপনি কি দেখেন না ঈশ্বর? তবুও কি আপনি চান না সে যেন আমাকে টেলিফোন করে? আপনি কি চান না?

ঈশ্বর, আমি খারাপ ছিলাম বলে কি আপনি আমাকে শাস্তি দিচ্ছেন? আমি খারাপ কিছু করেছি বলেই কি আপনি আমার ওপর রেগে আছেন? ওহ! ঈশ্বর, খারাপ মানুষ তো অনেক আছে। আপনি শুধু আমার প্রতি কঠোর হতে পারেন না। আমি খুব খারাপ কিছু করিনি। খুব খারাপ হতে পারতো। ঈশ্বর, আমরা তো কাউকে কষ্ট দিইনি। সেটা খারাপ হতো তখনই; যখন তা মানুষকে আঘাত করা হয়। আমরা একটা আত্মাকেও কষ্ট দিইনি, আপনি জানেন সেটা। আপনি জানেন এটা খারাপ ছিল না, ঠিক না ঈশ্বর? সুতরাং আপনি চান না সে যেন এখনই আমাকে টেলিফোন করে?

যদি সে আমাকে টেলিফোন না করে, আমি বুঝবো ঈশ্বর আমার ওপর রেগে আছেন। আমি পাঁচ পাঁচ করে পাঁচশ পর্যন্ত গণনা করবো এবং সে যদি তখনও কল না করে, আমি বুঝবো ঈশ্বর আমাকে সাহায্য করবেন না, কখনোই করবেন না। এটাই হবে সংকেত। পাঁচ, দশ, পনেরো, বিশ, পঁচিশ, ত্রিশ, পঁয়ত্রিশ, চল্লিশ, পঁয়তাল্লিশ, পঞ্চাশ, পঞ্চান্ন...। এটাও ভুল ধারণা। আমি জানতাম এটাও ভুল ধারণা। অনেক হয়েছে ঈশ্বর, আমাকে দোজখে পাঠিয়ে দাও। আপনার ধারণা আপনার দোজখ দিয়ে আপনি আমাকে ভয় দেখাচ্ছেন, তাই না? আপনি এমনটাই ভাবছেন যে আপনার দোজখ আমার দোজখের চেয়েও ভয়ংকর।

আমার এটা করা ঠিক হচ্ছে না। আমি অবশ্যই এটা করবো না। হতে পারে তার কল দিতে দেরি হচ্ছে। এটা নিয়ে মানসিকভাবে অস্থির হওয়ার কিছু নেই। হতে পারে সে কল দিচ্ছে না। বরং কল করা ছাড়াই সে এখানে সরাসরি চলে আসছে। যদি আমাকে কান্না করতে দেখে, সে রেগে যাবে। তারা আপনার কান্না পছন্দ করে না। সে নিজেও কান্না করে না। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা যদি আমি তাকে কাঁদাতে পারতাম! আমি যদি তাকে কাঁদাতে পারতাম এবং তার হৃদয়কে ভারী আর বড় করে তুলতে পারতাম এবং তার মধ্যে পচন ধরাতে পারতাম! আমার ইচ্ছে হয় তাকে দোজখের মতো কষ্ট দিই।

সে আমার এমন কিছু হোক চায় না। আমার মনে হয় সে এমনকি জানেই না তার জন্য আমার কেমন অনুভূতি হচ্ছে! আমি বলা ছাড়াই সে যদি জানত! আপনি তাদের জন্য কাঁদেন এটা তাদের জানানো তারা পছন্দ করে না। আপনি তাদের জন্য কষ্টে আছেন এটা জানানোও তারা পছন্দ করে না। যদি আপনি জানান, তারা ভাববে আপনি বেশি অধিকার খাটাচ্ছেন এবং আপনি খুব রুক্ষ। এবং তারা আপনাকে ঘৃণা করবে। তারা আপনাকে ঘৃণা করবে যখন আপনি সেটাই বলছেন যা আপনি সত্যিই ভাবছেন। আপনাকে সব সময় কৌশল করে চলতে হবে। ওহ! আমি ভেবেছিলাম আমাদের এমন কিছুই করতে হবে না। আমি ভেবেছিলাম আমার মনের মধ্যে যা আছে আমি তাই বলতে পারবো। আমার মনে হয় আপনি এটা কখনোই পারবেন না। তার জন্য যথেষ্ট বড় সুযোগও নেই। ওহ! সে যদি আমাকে টেলিফোন করতো, তার জন্য আমার মন খারাপের কথা বলতাম না তাকে। তারা দুঃখী মানুষকে ঘৃণা করে। আমি খুব মিষ্টি আর খুশি থাকতাম, সে আমাকে পছন্দ না করে থাকতেই পারতো না। সে যদি একবার টেলিফোন করতো। সে যদি শুধু একবার টেলিফোন করতো।

সে তাই করছে হয়তো। আমাকে কল করা ছাড়াই হয়তো সে এখানে চলে আসছে। হয়তো সে পথেই আছে এখন। কিছু হয়তো হয়েছে তার সাথে। নাহ! তার কখনোই কিছু হতে পারে না। তার কিছু হওয়া আমি কল্পনায়ও ভাবতে পারি না। তার কোনো গাড়ির নিচে চাপা পড়ার কথাও ভাবতে পারি না। আমি এমনটা কল্পনায়ও ভাবি না যে, সে দীর্ঘক্ষণ শ্বাস-প্রশ্বাস ছাড়া পড়ে মরে আছে। সে যদি মারা যেত! এটা একটা খুব খারাপ ইচ্ছে আমার। আবার এটা একটা সুন্দর ইচ্ছে। সে যদি মারা যেত, সে আমার হয়ে যেত। সে যদি মারা যেত, আমি এখন কিংবা গত কয়েক সপ্তাহের কথা ভাবতামই না। আমি শুধু সুন্দর সময়গুলোর কথা ভাবতাম। সবকিছুই সুন্দর হতো। সে যদি মারা যেত! সে যদি মারা যেত, মারা যেত, মারা যেত।

এটা বোকামি। ঠিক যেই সময়ে কোনো ব্যক্তি কল দেওয়ার কথা বলেছিল, তখনই কল না দেওয়াতে তাদের মৃত্যু কামনা করা খুবই বোকামি। হতে পারে ঘড়িটা দ্রুত চলছে। আমি জানি না এটা ঠিক কি না। সে দেরি করছেই না হয়তো। অন্য কোনো কিছু তাকে দেরি করাতে পারে। হয়তো তাকে অফিসেই থাকতে হচ্ছে। হতে পারে সে বাড়িতে গেছে সেখান থেকে কল করার জন্য এবং তখন বাড়িতে কেউ এসে পড়েছে। কারো সামনে সে আমাকে টেলিফোন করতে পছন্দ করে না। আমাকে অপেক্ষা করিয়ে হয়তো সে চিন্তিত, সামান্য হলেও চিন্তিত। সে হয়তো আশা করছে আমি কল করবো। আমি তো এটা করতে পারি। আমি তাকে টেলিফোন করতেই পারি।

আমি টেলিফোন করবো না। করবো না, করবো না। ওহ! ঈশ্বর, আমি যেন তাকে টেলিফোন না করি। দয়াকরে এটা করা থেকে আমাকে বিরত রাখুন। আমি জানি ঈশ্বর, যেমনটা আপনিও জানেন যে, সে যদি আমাকে নিয়ে চিন্তিত থাকত, সে যেখানেই থাকুক অথবা যতো মানুষই তার পাশে থাকুক না কেন সে আমাকে টেলিফোন করত। আমাকে জানিয়ে দিন, ঈশ্বর। আমি চাইছি না আপনি আমার জন্য এটা সহজ করে দিন। বিশ্ব তৈরি করতে যা করেছেন তা দিয়েও আপনি এটা সহজ করতে পারবেন না। শুধু আমাকে জানিয়ে দিন, ঈশ্বর। আমাকে আশা করিয়ে রাখবেন না। আমি যেন নিজেকে আর সান্ত্বনা না দিই। আমি যেন আর না আশা করি, প্রিয় ঈশ্বর। আর যেন আশা না করি।

আমি তাকে টেলিফোন করবো না। যতদিন বেঁচে থাকবো তাকে টেলিফোন করবো না। সে দোজখে পচে মরবে তবুও আমি কল করবো না। ঈশ্বর, আমাকে শক্তি জোগাতে হবে না, আমার নিজেরই সেটা আছে। সে যদি আমাকে চাইত, আমাকে পেয়েই যেত। সে জানে আমি কোথায় আছি। সে জানে আমি এখানেই অপেক্ষা করছি। সে এটা নিশ্চিত। সে সম্পূর্ণ নিশ্চিত। আমি বুঝতে পারি না তারা আপনাকে নিয়ে যখনই নিশ্চিত হয়ে যায়; তখনই ঘৃণা করা শুরু করে কেন! বরং আমি মনে করি কোনো কিছু নিয়ে নিশ্চিত হওয়া খুব মজার ব্যাপার।

তাকে টেলিফোন করা খুব সহজ হতো। তখন আমি সব জানতে পারতাম। টেলিফোন করা হয়তো বোকামি হতো না। হয়তো সে কিছু মনে করত না। হয়তো সে এটা পছন্দ করত। সে হয়তো আমার সাথে কথা বলতে চেষ্টা করছে। মাঝে মাঝে মানুষ কাউকে টেলিফোনে পেতে চেষ্টা করতেই থাকে এবং নম্বরটি একবারও সাড়া দেয় না। আমি নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য বলছি না। এমনটা সত্যিই হয়ে থাকে। আপনি জানেন এটা সত্যিই হয়ে থাকে, ঈশ্বর। ওহ! ঈশ্বর, এই টেলিফোনটা থেকে আমাকে দূরে রাখুন। আমাকে দূরে রাখুন। আমি যেন এখনো সামান্য পরিমাণ আত্মাভিমান ধরে রাখতে পারি। আমি মনে করি আমার এটা থাকা দরকার, ঈশ্বর। আমি মনে করি এটুকু আত্মাভিমানই আমার থাকবে।

আত্মাভিমান দিয়ে কী করবো, যদি আমি তার সাথে কথা না বলে থাকাটা সহ্যই করতে না পারি। আত্মাভিমান এমনই তুচ্ছ আর নিকৃষ্ট বিষয়। আত্মাভিমান না থাকাই হলো সবচেয়ে বড় আর সত্যিকারের গৌরব। আমি তাকে কল করতে চাই বলে এমনটা বলছি না। আমি এমনটা বলছি না। এটাই সত্যি। আমি জানি এটা সত্যি। আমি মহান হবো। আমি তুচ্ছ আত্মাভিমানের অনেক ঊর্ধ্বে থাকবো।

ঈশ্বর, দয়াকরে আমাকে টেলিফোন করা থেকে বিরত রাখুন। ঈশ্বর, দয়া করুন।
আমি এটার সাথে আত্মাভিমানের কোনো সম্পর্ক দেখছি না। এটার সাথে আত্মাভিমানের সম্পর্ক টেনে আনা এবং এটা নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হওয়াটা অযৌক্তিক আর জঘন্য। আমি হয়তো তাকে ভুল বুঝছি। হতে পারে সে আমাকে পাঁচটা বাজে কল করতে বলেছিল। ‘পাঁচটা বাজে কল দিও, প্রিয়।’ সে এটা বলে থাকতে পারে, ভালোভাবেই বলতে পারে। এটা খুব সম্ভব যে আমি তার কথা সঠিকভাবে বুঝিনি। ‘পাঁচটা বাজে কল দিও, প্রিয়’ আমি নিশ্চিত সে এটাই বলেছিল। ঈশ্বর, আমি যেন নিজের সাথে এভাবে কথা না বলতে থাকি। আমাকে জানিয়ে দিন, দয়াকরে আমাকে জানিয়ে দিন।

আমি অন্য কিছু নিয়ে চিন্তা করবো। শান্তভাবে বসে থাকবো। আমি যদি শান্ত হয়ে বসে থাকতে পারতাম। হয়তো আমি কিছু পড়তে পারতাম। ওহ, বইগুলো তাদের সম্পর্কেই লেখা যারা একে অপরকে সত্যিই ভালোবাসে। এগুলো নিয়ে লিখে তারা কী চায়? তারা কি জানে না এটা সত্যি না? তারা কি জানে না এটা সম্পূর্ণ মিথ্যে। এটা একটা জঘন্য মিথ্যে। এগুলো নিয়ে বলে তারা কী পায়, যখন তারা জানেই যে এটা কতটা কষ্ট দেয়? তারা জঘন্য, জঘন্য, জঘন্য।

আর কিছু বলবো না। আমি শান্ত থাকবো। এটা নিয়ে এত উত্তেজিত হওয়ার কিছু নেই। দেখুন, ধরুন সে এমন একজন যাকে আমি ভালো করে চিনি না। ধরুন সে একজন মেয়ে। তখন তাকে টেলিফোন করেই বলতাম, ‘আরে হয়েছেটা কি তোমার?’ আমি এটাই করতাম, আর করার আগে আমি এক মুহূর্তের জন্যও ভাবতাম না। আমি কেন স্বাভাবিক হতে পারি না? শুধু তাকে ভালোবাসি বলে? আমি পারবো হতে। সত্যি আমি পারবো। আমি তাকে কল করবো এবং খুব সহজভাবে আর আনন্দের সাথে কথা বলবো। ঈশ্বর, দেখেন আমি পারি কি না! ওহ! আমি যেন তাকে কল না দিই। না না না।

ঈশ্বর, আপনি কি সত্যিই চান না, সে আমাকে কল করুক? আপনি কি নিশ্চিত চান না, ঈশ্বর? আপনি কি অনুগ্রহ করে একটু কোমল হতে পারেন না? আপনি পারেন না? এমনকি আমি বলছি না সে আমাকে এখনই টেলিফোন করুক। ঈশ্বর, সে যেন কিছুক্ষণের মধ্যে করে। আমি পাঁচ পাঁচ করে পাঁচশ পর্যন্ত গণনা করবো। আমি ধীরে ধীরে আর নিরপেক্ষভাবে গণনা করবো। যদি সে এর মধ্যে টেলিফোন না করে, আমি কল করবো। আমিই কল করবো। ওহ! দয়া করুন, প্রিয় ঈশ্বর। আমার প্রিয় দয়ালু ঈশ্বর, আমার স্বর্গের সৃষ্টিকর্তা, তার আগেই যেন সে টেলিফোন করে। দয়া করুন, ঈশ্বর। দয়া করুন।
পাঁচ, দশ, পনেরো, বিশ, পঁচিশ, ত্রিশ, পঁয়ত্রিশ।

এসইউ

আরও পড়ুন