তথ্য উপদেষ্টা
চলতি মেয়াদে সম্প্রচার-গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ চূড়ান্তে কাজ চলছে
অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদেই সম্প্রচার অধ্যাদেশ এবং স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন অধ্যাদেশ চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ান হাসান। রোববার (৪ জানুয়ারি) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে ‘বিএসআরএফ মতবিনিময়’ অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
সচিবালয় বিট কাভার করা সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) এ মতবিনিময়ের আয়োজন করে।
বর্তমান সরকারের সময় আর এক মাস আছে জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ সময়ের মধ্যে কী কী করা যাবে বা আমার কী পরিকল্পনা সেটা আপনাদের বলি। একটা হচ্ছে সম্প্রচার অধ্যাদেশ একটা করে দেওয়া যায় কি না এটা দেখছি। আর হচ্ছে মিডিয়া কমিশন, সেটার একটা খসড়া যার মধ্যে সাংবাদিক সুরক্ষার বিধানটা থাকবে, এই দুটো চূড়ান্ত করা যায় কি না এটা দেখব। একটা আইন চূড়ান্ত করতে স্টেকহোল্ডার কনসালটেশন লাগে, ওয়েবসাইটে দিয়ে জনগণের মতামত নিতে হয়, তারপরে আইনটা উপদেষ্টা পরিষদে পাস হলে, আইন মন্ত্রণালয় ওটা ভেটিং করে, তারপর সেটা গেজেট নোটিফিকেশন হয়। কাজেই সেটার সময় আমাদের হাতে খুব কম, তারপরও আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে এই দুটো কাজ অন্তত এগিয়ে নিয়ে যেতে।
মানুষকে গণভোটে অংশ নিতে আগ্রহী করে তুলতে সাংবাদিকদের প্রচার-প্রচারণা করার অনুরোধ জানান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, মানুষ খুবই চায় ভোট দিতে, কিন্তু তারপরও ভোট যাতে দিতে না পারে, একটা ভয়-ভীতি দেখানোর টেন্ডেন্সি আছে। এটাকে আমাদের ওভারকাম করতে হবে। একসঙ্গে অ্যাজ আ নেশন উইল হ্যাভ টু ওভারকাম ইট।
একটা অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের কথা আপনারা বলছেন। সেই অংশগ্রহণমূলক বলতে কি আওয়ামী লীগও আসলে থাকছে? এমনও শোনা যাচ্ছে যে, তফসিল পরিবর্তন হয়ে এপ্রিলে নির্বাচন যাবে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে আনার জন্য- এ বিষয়ে উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসানের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘শোনার তো শেষ নেই। যার যে রাজনৈতিক অবস্থান, সে সেই রাজনৈতিক অবস্থান থেকে নানা কথা প্রচার করা শুরু করে। এগুলোর কোনো ভিত্তি এখনো পর্যন্ত আছে বলে আমার জানা নেই।’
এখন যে পরিবেশ সেটি নির্বাচনের জন্য অনুকূল কি না- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পরিবেশ আমার কাছে গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হচ্ছে। যে কাজগুলো করার কথা, সেই কাজগুলো আমরা করে যাচ্ছি। রাজনৈতিক দলগুলোও উৎসাহ নিয়ে নির্বাচনের কাজে অংশগ্রহণ করছে। কাজেই পরিবেশ গ্রহণযোগ্য না, এই কথাটা বলবো না। তবে একটা ন্যারেটিভ বা বলার কোনো সুযোগও নেই। একটা ন্যারেটিভ করার চেষ্টা করা হচ্ছে যে, না এখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বা এই কারণে নির্বাচনটা শেষ পর্যন্ত হবে না। এটা মনে করার কোনো কারণই নেই। সরকার নির্বাচনের একটা ক্লিয়ার রোডম্যাপ দিয়েছে। নির্বাচনের দিকে দেশ অবশ্যই এগিয়ে যাচ্ছে।
উপদেষ্টা বলেন, বিচারকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের রাজনৈতিক কার্যক্রম যেহেতু স্থগিত, নির্বাচনের কাজগুলোতো শুরু হয়ে গেছে। এগুলো তো এখন যাচাই-বাছাই করে প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হয়ে যাবে। কাজেই এটা তো এখন একটা অবান্তর প্রশ্ন।
পার্শ্ববর্তী একটি দেশ থেকে আগামী নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে- এ বিষয়ে তিনি বলেন, এখন অনেকগুলো মাধ্যম থেকে গুজবের বিষয়ে ফ্যাক্ট চেক করা হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টার সেখান থেকে কিছু কিছু ফ্যাক্ট চেক করে বলা হচ্ছে। কিছু কিছু মিডিয়া সেল থেকে ফ্যাক্ট চেক করা হচ্ছে। আমাদের ভিআইপি এবং পিআইডি থেকেও করা হচ্ছে। গুজবটাকে কাউন্টার করা তো আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। নির্বাচনটা আমাদের গণতন্ত্রের স্বার্থে দেশের স্বার্থে হবে। এখন আমরা কোন দেশ থেকে কি গুজব রটাচ্ছে সেটা নিয়েই বেশি পড়ে থাকবো, সেটা নিয়েই বেশি প্রশ্ন করবো? নাকি আমরা আমাদের প্রস্তুতি নেবো, যাতে করে আমাদের নির্বাচনটা হয়, আমাদের দেশটা গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করতে পারে?
সেটাই বললাম যে যত রকমের কথা শুনে, সব রকমের কথাই কিন্তু প্রশ্নের বিষয়বস্তু হতে পারে না। কারণ সে তার রাজনৈতিক অবস্থান থেকে এই প্রচারটা করে। কিন্তু আমার রাজনৈতিক অবস্থান তো একটা দেশের নাগরিক হিসেবে, সরকারের অংশ হিসেবে, গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে তা হতে পারে না’ বলেন সৈয়দা রিজওয়ানা।
বিএসআরএফ সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে মতবিনিময় অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
আরএমএম/এমআইএইচএস/এমএস