বিসিএস অফিসার্স ফোরাম
রিটার্নিং-সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অবিলম্বে অব্যাহতির দাবি
রিটার্নিং-সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অবিলম্বে অব্যাহতির দাবি/ছবি-ইয়াসির আরাফাত
নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত যেসব কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ করে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের অনতিবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরাম।
সংগঠনটির মতে, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে না। আগামী জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে মাঠ প্রশাসনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরামের সভাপতি এবং সাবেক সচিব আব্দুল কাইয়ুম, অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরামের সদস্য সচিব এবং সাবেক সচিব অধ্যাপক ড মোহাম্মদ শরিফুল আলম, সাবেক সচিব মোতাহার হোসেন, সাবেক সচিব রেজাউল করিম, সাবেক অতিরিক্ত সচিব আবদুল কাইয়ুমসহ সাবেক সচিব।
সদস্য-সচিব ও সাবেক সচিব প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরিফুল আলম বলেন, ২০২৬ সালের নির্বাচন প্রশাসনের জন্য একটি বড় পরীক্ষা ও সুযোগ। এই পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের রিটার্নিং বা সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনের দাবি দুর্বল হয়ে পড়বে।
প্রার্থিতা বাছাইপর্বে উদ্ভূত বিভিন্ন বিতর্ক ও প্রতিক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে টেকনিক্যাল ব্যাখ্যার মাধ্যমে প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া বেড়েছে। এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে খোলা মন ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে আপিল নিষ্পত্তি করতে হবে।
সংগঠনটির মতে, অতীতে অনেক রাজনৈতিক কর্মী মিথ্যা মামলা ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন, কেউ কেউ দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের কাছে ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
সংগঠনটির দাবির মধ্যে রয়েছে
যেসব রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাদের অনতিবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি। নির্বাচনি আইন প্রয়োগে নির্বাচন কমিশনের কঠোর ও পক্ষপাতহীন ভূমিকা নিশ্চিত করা। ভোট কারচুপি ও অনিয়ম রোধে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন। নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার নিরপেক্ষতা নিশ্চিতে প্রয়োজনে স্বতন্ত্র গাইডলাইন প্রকাশ।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তদন্ত সাপেক্ষে সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার ও নির্বাচন কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা। অভিযুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে অভিযোগের বিষয় বিবেচনা এবং প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুতি। নির্বাচন কমিশন অফিসসহ বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ‘অভিযোগ বক্স’ স্থাপন এবং নিয়মিত ব্রিফিং।
সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ, বিশেষ সহকারী ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা পরবর্তী সরকারের অংশ হবেন না-এ মর্মে প্রজ্ঞাপন জারি। নির্বাচনকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক, ইউএনও, পুলিশ সুপার ও ওসিদের নির্বাচন শেষের এক সপ্তাহের মধ্যে লটারির মাধ্যমে বদলি। এসব বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি।
সংবাদ সম্মেলন শেষে বক্তারা বলেন, তাদের মূল উদ্দেশ্য কোনো পক্ষের স্বার্থ রক্ষা নয়; বরং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে একটি সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানে সহায়তা করা।
ইএআর/এমআরএম/জেআইএম