শাহজালালের অর্থ আত্মসাৎ, ইকবালের ১২ ফ্ল্যাট ও ৯১ গাড়ি জব্দ
ফাইল ছবি
সিলেটের শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্প থেকে আত্মসাৎ করা অর্থে কেনা জমি, জমির শেয়ার, ফ্ল্যাট ও ব্যাংকে রাখা অর্থ জব্দ করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
শাহজালাল ফার্টিলাইজারের সাবেক হিসাব বিভাগের প্রধান খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া বিল ও রসিদ জমা দিয়ে বিসিআইসির শাহজালাল ফার্টিলাইজার প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে নিজের ও স্ত্রী হালিমা আক্তারের নামে স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি কেনার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, জব্দ করা সম্পত্তির মোট মূল্য কমপক্ষে ২৫ কোটি টাকা। শাহজালাল ফার্টিলাইজারের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অনুসন্ধান শেষে সিআইডি বাদী হয়ে ২০২৩ সালের ২৬ এপ্রিল মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করে।
জব্দ করা সম্পত্তির মধ্যে ২৩ দশমিক ৫ কাঠা জমি, ১১টি শেয়ার যার মোট জমির পরিমাণ ৩৯২ দশমিক ৭৩২৩ অযুতাংশ, ১২টি ফ্ল্যাট যার দলিল মূল্য ৮ কোটি ৪৭ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯০ টাকা হলেও বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২৫ কোটি টাকা। পাশাপাশি আদালতের নির্দেশক্রমে ৩টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ৩০ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫২ টাকা জব্দ করা হয়।
মামলাটির তদন্তে সিআইডি জানতে পেরেছে, ২০০৫ সালে বিসিআইসির প্রকল্প শাহজালাল সার কারখানায় সহকারী হিসাবরক্ষক পদে চাকরি নেন খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবাল। পরে পদোন্নতি পেয়ে হিসাব বিভাগের প্রধান হন। ১৪ বছরের চাকরি জীবনে মোট ৯১টি গাড়ি, ঢাকায় একাধিক ফ্ল্যাট, দুটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও ঢাকা-গাজীপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অর্থ আত্মসাতের কারণে ৫ বছর আগে ওই কারখানা থেকে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।
মামলাটির তদন্তে আরও জানা যায়, ২০২২ সালের জুনে ইকবাল ও তার স্ত্রী হালিমা আক্তারকে গ্রেফতার করে অস্ত্র ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করে র্যাব। পরে র্যাবের অভিযোগের ভিত্তিতে ইকবাল ও হালিমা দম্পতির বিষয়ে মানিলন্ডারিং অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি। অনুসন্ধান শেষে বাদী হয়ে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা রুজু করে সংস্থাটি।
বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন আরও জানান, মামলাটি তদন্তকালীন আরও কিছু স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দ করা হয়। জব্দ হওয়া সম্পদের মধ্যে রয়েছে ঢাকার রমনা ও এয়ারপোর্ট এলাকায় ৬টি ফ্ল্যাট; ঢাকা, গাজীপুর ও ময়মনসিংহে মোট ৩০৪ শতাংশ জমি রয়েছে (যার দলিল মূল্য ৭ কোটি ১১ লাখের বেশি)। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, খোন্দকার মুহাম্মদ ইকবালও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নামে ৯১টি গাড়ির নিবন্ধন রয়েছে।
এগুলোর মধ্যে ২১টি মিনিবাস ও দুটি হাইচ জব্দ করা রয়েছে। আদালতের নির্দেশে ২১টি মিনিবাসের রিসিভার হিসেবে সিআইডি প্রধান নিযুক্ত হওয়ায় গাড়িগুলো বর্তমানে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে ভাড়ায় ব্যবহৃত হচ্ছে। ভাড়ায় চালিত গাড়িগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৫৩ লাখ ৮০ হাজার ৩৩৫ টাকা লাভ হওয়ায় সম্পূর্ণ লভ্যাংশ আদালতের অনুমতিতে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
টিটি/এমআরএম/এএসএম
সর্বশেষ - জাতীয়
- ১ জ্বালানি সংক্রান্ত গবেষণার জন্য পৃথক ইনস্টিটিউশন তৈরির নির্দেশ
- ২ বাংলাদেশ যেন ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থায় আর ফিরে না যায় সেজন্যই গণভোট
- ৩ অতিরিক্ত প্রধান তথ্য অফিসার মুন্সী জালাল উদ্দিনের মৃত্যু
- ৪ কম খরচে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সে যেতে পারবেন বাংলাদেশের সেনাসদস্যরা
- ৫ ঢাকায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে গুলি করে হত্যা