‘ভুয়া ছবি’র ভিত্তিতে ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার, পরে মুক্তি
শওকতের ফেসবুক প্রোফাইলে প্রকাশিত পুরোনো ছবি এডিট করে তাতে অস্ত্র যুক্ত করা হয়েছে।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় শওকত আলী নামের এক ছাত্রদল নেতাকে ৭ জানুয়ারি গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, সামাজিক মাধ্যমে অস্ত্রসহ তার ছবি ভাইরাল হয়েছে। তার গ্রেফতারের খবরটি একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিতও হয়।
তবে ঢাকাভিত্তিক ডিজিটাল অনুসন্ধানমূলক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডিসেন্ট’ যাচাই করে দেখেছে, অস্ত্র হাতে শওকতের যে দুটি ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে এবং পুলিশের বরাতে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে সেগুলো ভুয়া। মূলত শওকতের ফেসবুক প্রোফাইলে প্রকাশিত পুরোনো দুটি ছবি এডিট করে তাতে অস্ত্র যুক্ত করা হয়েছে।
এডিট করা ছবিগুলো ফেসবুকে ছড়ানোর প্রেক্ষিতে ১২ নভেম্বর রাঙ্গুনিয়া থানায় জিডি করেছিলেন শওকত। তবে এসবের পরও তাকেই উল্টো গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালত থেকে মুক্তি পান তিনি।
গণমাধ্যমের খবরের সঙ্গে দুটি ছবি প্রকাশ করা হয়েছে যেখানে শওকত আলীকে অস্ত্র হাতে হাসিমুখে দেখা যাচ্ছে।
কিন্তু ‘দ্য ডিসেন্ট’ যাচাই করে দেখেছে, শওকতের এই ছবি দুটির একটি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের। ছবিটি শওকত নিজেই তার প্রোফাইলে আপলোড করে ক্যাপশন দিয়েছিলেন, ‘স্বাধীন বাংলা হয়েছে স্বাধীন ২০২৪.০৮.০৫’।
পরে সেই ছবিটি এডিট করে বন্দুক যুক্ত করে সামাজিকমাধ্যমে ছড়ানো হয়।
আরেকটি ছবি তিনি নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর। সেটিও এডিট করে একটি অস্ত্র যুক্ত করা হয়।
শওকত আলী ‘দ্য ডিসেন্টকে’ বলেছেন, এসব ছবির সঙ্গে পরবর্তীতে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে অস্ত্র যুক্ত করে ভুয়া ছবি তৈরি করা হয় এবং অন্তত ১০টি ফেক আইডি থেকে সেগুলো ছড়ানো হয়।’
তিনি জানান, বালুমহল ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার কারণেই তাকে টার্গেট করা হয়েছে।
‘আমার অপরাধ একটাই—আমি বালুমহল আর সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কথা বলেছি।’ বলেন তিনি।
শওকত আলী রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চন্দ্রঘোনা কদমতলী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ সভাপতি।
ভুয়া ছবি ছড়ানোর বিষয়টি নজরে আসার পর তিনি রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় অনলাইন জিডি করেন। সেই জিডিতে ভুয়া আইডিগুলোর নাম ও লিংকও উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে তিনি সেনাবাহিনীর ক্যাম্পেও লিখিত অভিযোগ দেন। শওকত আলীর দাবি, তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত কোনো মামলা বা অভিযোগ ছিল না।
রাঙ্গুনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান হোসেন বলেন, ‘একটি অভিযান পরিচালিত হয়, যেখানে প্রাথমিক তথ্য ও সন্দেহের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছিল।’
ওসি আরও বলেন, ‘অভিযানের সময় শওকত আলীর কাছ থেকে কোনো অস্ত্র, গোলাবারুদ বা অবৈধ কিছুই উদ্ধার হয়নি এবং তার বিরুদ্ধে তখন কোনো সুনির্দিষ্ট মামলাও ছিল না। এ কারণে তাকে গ্রেফতার না দেখিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় সন্দেহভাজন হিসেবে আদালতে সোপর্দ করা হয়।’
এমআইএইচএস/এমএস