ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

ইসির হুঁশিয়ারি

পোস্টাল ভোটে অনিয়ম করলে প্রয়োজনে প্রবাসীদের দেশে ফেরত আনা হবে

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৯:৪৬ পিএম, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬

 

প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছ থেকে প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ উদ্যোগ ঘিরে কোনো ধরনের অনিয়ম, ছাড় বা আপস মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে কমিশন।

সংস্থাটি জানিয়েছে, কেউ পোস্টাল ব্যালট নিয়ে সামান্যতম অনিয়মে জড়িত হলে তার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক, ফৌজদারি মামলা ও প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দেশ থেকে বাংলাদেশে ফেরত আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

তিনি জানান, আউট অব কান্ট্রি ভোটিংয়ের আওতায় বাংলাদেশ ডাক বিভাগের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটারদের কাছে মোট সাত লাখ ৬৭ হাজার ৮৪টি পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে কমিশনের কাছে একটি ব্যালটও অবশিষ্ট নেই। সবগুলো পাঠানো সম্পন্ন হয়েছে। এর মধ্যে ৫৯ হাজার ৫৮৪টি এখনো পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দেশে পৌঁছেছে সাত লাখ সাত হাজার ৫০০টি। এখন পর্যন্ত এক লাখ ৪০ হাজার ৮৭৩ জন ভোটার ব্যালট হাতে পেয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করেছেন। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানান তিনি।

ভুল ঠিকানায় ৪৫২১ ব্যালট
ভুল ঠিকানার কারণে এ পর্যন্ত চার হাজার ৫২১টি ব্যালট সরবরাহ না হয়ে ফেরত এসেছে। যার বেশির ভাগই এসেছে মালয়েশিয়া থেকে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ফেরত এসেছে ইতালি থেকে। বিষয়টি কমানোর জন্য সংশ্লিষ্ট মিশনগুলোকে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে।

একই ঠিকানায় শতাধিক ভোটার
মধ্যপ্রাচ্য ও মালয়েশিয়ার মতো শ্রমিক-নিবিড় দেশগুলোতে প্রবাসীরা সীমিত জায়গায় বসবাস করায় একাধিক ভোটার একই ঠিকানা ব্যবহার করেছেন বলে জানান নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, অনেকে পোস্ট বক্স, দোকান বা কাছের কোনো স্থানের ঠিকানা ব্যবহার করেন।

পোস্টাল ব্যালটের ভিডিও
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টাল ব্যালট বিতরণের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি ইসি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে জানান নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, তিনটি দেশের ভিডিও ক্লিপ যাচাইযোগ্য প্রমাণ হিসেবে পাওয়া গেলেও কোথাও এখন পর্যন্ত নির্বাচনি স্বচ্ছতা লঙ্ঘনের প্রমাণ মেলেনি।

১১ জানুয়ারি বাহরাইনের একটি এলাকায় একসঙ্গে অনেক ব্যালট বিতরণের ভিডিও পাওয়া যায়। ওই এলাকায় ১৬০ থেকে ২৩৩ জন বাংলাদেশি একই স্থানে বসবাস করেন। বাহরাইন পোস্টকে নোট ভার্বাল (বার্তা) দেওয়া হয়েছে এবং সিপিআর (জাতীয় পরিচয়পত্রের সমতুল্য) দেখানো ছাড়া ব্যালট না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সৌদি আরবে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে কমিশন নিশ্চিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৌদি আরব উল্লেখ করা কিছু ভিডিও যাচাই করা যায়নি এবং এগুলো সম্ভবত ভুয়া বলে ধারণা করা হচ্ছে। সৌদি আরবে ইকামা (কাজের অনুমতিপত্র) বা পাঁচ ডিজিট কোড ছাড়া ব্যালট হস্তান্তর করা হয় না।

ওমানের পাওয়া একটি ভিডিও সত্য বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। পোস্ট বক্স ব্যবহারের কারণে সেখানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পরে আইডি কার্ড বা পাসপোর্ট ছাড়া ব্যালট না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এমনকি স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রেও ব্যালট হস্তান্তর করা হচ্ছে না।

কুয়েতের একটি ভিডিও পাওয়া গেলেও কোনো অনিয়মের প্রমাণ মিলেনি। কুয়েত পোস্টের নিচের স্তরে কর্মরত অনেক বাংলাদেশি কর্মচারী উৎসাহবশত ভিডিও ধারণ করেছেন, যা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।

এছাড়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি বলে জানান নির্বাচন কমিশনার।

আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, পোস্টাল ব্যালট নিয়ে কোনো অবস্থাতেই ছাড় দেওয়া হবে না। অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে এনআইডি ব্লক, ফৌজদারি মামলা ও প্রয়োজনে দেশে ফেরত আনা হবে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) বৈঠকেও এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।

লাইভ ভেরিফিকেশন
নির্বাচন কমিশনার জানান, প্রয়োজনে লাইভ ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হতে পারে। লাইভ ভেরিফিকেশন ছাড়া কোনো ভোটগ্রহণ করা হবে না- এমন সিদ্ধান্তও আসতে পারে।

অঙ্গীকারপত্র ও ব্যালটে একই সিরিয়াল নম্বর থাকা গোপনীয়তার লঙ্ঘন নয় বলে জানান কমিশনার। তিনি বলেন, এটি নিরাপত্তাব্যবস্থার একটি অংশ।

দেশের মধ্যে ব্যালট পাঠানো
দেশের ভেতরে যারা পোস্টাল ভোট দেবেন তাদের জন্য এখনো কোনো ব্যালট পাঠানো হয়নি। ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর ব্যালট ছাপানো হবে। আগামীকাল (শুক্রবার) কমিশনের বৈঠকে প্রবাসে পাঠানো ব্যালটের বদলে দেশের পোস্টাল ভোটে প্রচলিত ব্যালট ব্যবহারের বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

এমওএস/একিউএফ/জেআইএম