ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে মার্কিন কর্মকর্তাদের বৈঠক

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশিত: ০১:৩৮ এএম, ১৬ জানুয়ারি ২০২৬

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান গত ৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে রাজনৈতিক বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি মিস অ্যালিসন হুকার এবং সহকারী পররাষ্ট্র সচিব মি. পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন, অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং আঞ্চলিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়।

আন্ডার সেক্রেটারির সঙ্গে বৈঠকে ড. রহমান আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে মিস হুকারকে অবহিত করেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে, বিশেষ করে নির্বাচন প্রক্রিয়ায়, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জবাবে মিস হুকার বলেন, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতি যুক্তরাষ্ট্র তার দৃঢ় সমর্থন অব্যাহত রাখছে এবং ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশা করছে।

১৫ জানুয়ারি দিনগত রাত সোয়া ১২টায় প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, ৯ জানুয়ারি প্রকাশিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি হালনাগাদ করা হয়েছে এবং এতে অতিরিক্ত তথ্য সংযোজন করা হয়েছে।

তিনি জানান, ৯ জানুয়ারির বৈঠকে ড. রহমান যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে কৃষিপণ্য আমদানির উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি এবং পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি সাম্প্রতিক ভিসা বন্ডের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ সহজ করার অনুরোধ জানান এবং সম্ভব হলে স্বল্পমেয়াদি ব্যবসায়িক ভিসা (বি-১) থেকে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের ভিসা বন্ডের আওতামুক্ত করার আহ্বান জানান। মিস হুকার জানান, ভবিষ্যতে যদি পর্যটকদের ওভারস্টে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র বন্ড-সংক্রান্ত শর্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারে। তিনি অনথিভুক্ত বাংলাদেশিদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।

ড. রহমান বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সহায়তার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বড় দাতা এবং এই সহায়তা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান।

মিস হুকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ যে বড় ধরনের দায়িত্ব বহন করছে, তার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি এই সংকটের সমাধানে ব্যাপকভিত্তিক দায়িত্ব ভাগাভাগির প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন এবং যত দিন রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অবস্থান করবে, ততদিন তাদের জন্য জীবিকাভিত্তিক সুযোগ সম্প্রসারণের অনুরোধ জানান।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. রহমান বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের জন্য ডিএফসি (ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স করপোরেশন) অর্থায়নে প্রবেশাধিকার দেওয়া এবং বাংলাদেশে সেমিকন্ডাক্টর উন্নয়নে অর্থায়নের সুযোগ বিবেচনার অনুরোধ জানান। আন্ডার সেক্রেটারি হুকার এসব প্রস্তাব বিবেচনার আশ্বাস দেন।

ড. রহমান গাজায় মোতায়েনযোগ্য আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে নীতিগতভাবে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন। আন্ডার সেক্রেটারি হুকার বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।

সহকারী পররাষ্ট্র সচিব মি. পল কাপুরের সঙ্গে পৃথক বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. রহমান বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচন, যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, রোহিঙ্গা সংকট, যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ড, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং অন্যান্য আঞ্চলিক বিষয়সহ পারস্পরিক আগ্রহের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন।

বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. রহমান মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের নতুন নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মি. ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন। ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ বিষয়ক ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট মি. মাইকেল জে. রিগাস শপথ পাঠ করান। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, দূতাবাসের কর্মকর্তারা, পররাষ্ট্র দপ্তর ও সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা, বাংলাদেশে সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূতরা এবং মার্কিন ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তাঁর বক্তব্যে ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের যাত্রায় যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত সমর্থনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের উজ্জ্বল গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের পথে যাত্রাকে সমর্থন করে। ফলাফল দেখতে আমি আগ্রহী এবং নতুন নির্বাচিত সরকার ও আমি একসঙ্গে কীভাবে যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে পারি, সে বিষয়ে প্রত্যাশী।”

সব কর্মসূচিতে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. রহমানের সঙ্গে দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তীতে, ১২ জানুয়ারি ড. রহমান নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল পরিদর্শন করেন। কনসাল জেনারেল তাকে বৃহত্তর নিউইয়র্ক অঞ্চলের প্রবাসী ভোটারদের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে অংশগ্রহণ-সংক্রান্ত গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করেন। তিনি জানান, ভোটারদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও সমর্থন প্রদান করা হচ্ছে এবং গণভোটে তাদের সামনে থাকা বিকল্পগুলো সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হচ্ছে।

এমইউ/কেএএ/