ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

আশুলিয়ায় উদ্ধার হওয়া ৩৮ টুকরা কঙ্কালের রহস্য উদঘাটন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০১:১৭ পিএম, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

সাভারের আশুলিয়ায় উদ্ধার হওয়া ৩৮ টুকরা কঙ্কালের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতাররা হলেন- মো. রনি মিয়া (২৪), মো. এরশাদ আলী (৩৪) এবং মো. আবুল কালাম (৫২)।

পিবিআই বলছে, হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য ছিল অটোরিকশা ছিনতাই।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে পিবিআইয়ের ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত বছরের ১ ডিসেম্বর সাভার মডেল থানাধীন আশুলিয়া মডেল টাউন (আমিন মোহাম্মদ হাউজিং) এলাকায় ৬০ ফিট সড়কসংলগ্ন কাশবনের ভেতর থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মাথার খুলি ও ৩৮ টুকরা হাড় উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধার কাপড় দেখে নিখোঁজ কিশোর মিলন হোসেনের (১৫) কঙ্কাল হিসেবে শনাক্ত করেন তার পরিবার। নিখোঁজের দুই মাস পর মিলনের পরিচয় শনাক্ত হয় কঙ্কাল উদ্ধারে।

এর আগে, গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪টার দিকে মিলন হোসেন অটোরিকশা নিয়ে গ্যারেজ থেকে বের হয়ে আর বাসায় ফেরেনি। পরদিন ৩০ সেপ্টেম্বর তার মা মোসা. জোসনা বেগম আশুলিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরবর্তীতে ১৮ নভেম্বর অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা দায়ের করেন অটোরিকশাচালক মিলনের মা।

তার আবেদনের পর ১ জানুয়ারি আদালতের নির্দেশে মামলার তদন্তভার নেয় পিবিআই ঢাকা জেলা। পুলিশ পরিদর্শক মো. জামাল উদ্দীনকে তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ আরও বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৬ জানুয়ারি গভীর রাতে সাভারের আক্রাইন বাজার এলাকা থেকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত মো. রনি মিয়াকে প্রথমে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যে গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকা থেকে মো. এরশাদ আলী এবং দাড়িয়াপুর এলাকা থেকে মো. আবুল কালামকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের লুণ্ঠিত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মো. রনি মিয়া হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। অন্য দুই আসামি এরশাদ আলী ও আবুল কালাম লুণ্ঠিত অটোরিকশা ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন।

পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, নগদ টাকার প্রয়োজন মেটাতে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৭টার দিকে সুমন ভিকটিমের অটোরিকশা ভাড়া করে আক্রাইন বাজারে যান। পরে রনিকে সঙ্গে নিয়ে আশুলিয়ার কাশবনের ভেতরে নিয়ে গিয়ে গাঁজা সেবনের একপর্যায়ে শ্বাসরোধ করে মিলনকে হত্যা করা হয়। এরপর মরদেহ কাশবনে ফেলে রেখে অটোরিকশা নিয়ে পালিয়ে যান তারা।

গ্রেফতার আসামিদের ১৭ জানুয়ারি আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানিয়েছেন পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা।

টিটি/এএমএ