র্যাবের ওপর হামলা: জঙ্গল সলিমপুরে শিগগির যৌথ অভিযান
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল/ ছবি- সংগৃহীত
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় র্যাবের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে শিগগির অভিযান পরিচালনা করা হবে। সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে এ যৌথ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল।
তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন উৎস থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও এবং মোবাইল ফোনের কল ডাটা পর্যালোচনা চলছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত এজাহার পাওয়া যায়নি। এজাহার পাওয়া মাত্রই মামলা করা হবে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানান, অভিযানের সময় স্থানীয় জনগণের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে উচ্ছৃঙ্খল জনতা কয়েকজন র্যাব সদস্যকে আটক করে এবং তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। খবর পেয়ে জেলা পুলিশ সুপারসহ অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে র্যাব সদস্যদের উদ্ধার করেন। ছিনিয়ে নেওয়া অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন
জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানকালে গুলিতে র্যাব কর্মকর্তা নিহত, জিম্মি ৩
মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে র্যাবের ওপর হামলা, পেছনে ইয়াছিন বাহিনী
তিনি আরও বলেন, জঙ্গল সলিমপুর এলাকা ছিন্নমূল ও বিক্ষিপ্ত জনবসতিপূর্ণ হওয়ায় সেখানে অভিযান চালানো কঠিন। স্থানীয় বাসিন্দাদের তুলনায় বাইরের এলাকা থেকে আসা মানুষের সংখ্যাই বেশি। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বিপুল সংখ্যক জনবল দিয়ে পরিকল্পিত অভিযান চালানো হবে।
এর আগে গতকাল সোমবার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযানে গেলে সন্ত্রাসীদের গুলিতে র্যাব-৭ এর নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। এ ঘটনায় আরও তিনজন র্যাব সদস্য আহত হন। ঘটনার পরপরই যৌথ বাহিনী এলাকার সব প্রবেশমুখে অবস্থান নেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সাদা রঙের একটি মাইক্রোবাসে কালো জ্যাকেট পরা র্যাব সদস্যরা অভিযানে গেলে মাইকে ঘোষণা দিয়ে কয়েকশ মানুষ জড়ো হয়। এরপর সংঘবদ্ধভাবে র্যাব সদস্যদের ওপর হামলা চালানো হয়। ভিডিওতে মাইক্রোবাস ভাঙচুরের দৃশ্যও দেখা যায়।
এমআরএএইচ/কেএসআর/এমএস