ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

ভোগান্তি কমাতে ৮ জেলায় চালু হলো ই-বেইলবন্ড

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ১১:০৬ এএম, ২১ জানুয়ারি ২০২৬

বিচার প্রক্রিয়ার ভোগান্তি কমাতে নারায়ণগঞ্জের পর এবার আরও আট বিভাগের আট জেলায় প্রচলিত বেইলবন্ড (জামিন নামা) ব্যবস্থার পরিবর্তে ডিজিটাল মাধ্যমে ই-বেইলবন্ড (ই-বেইলবন্ড ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম) চালু হলো।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকালে সচিবালয় থেকে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম জুমে একযোগে আট জেলায় ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। 

এবার মানিকগঞ্জ, বান্দরবান, মেহেরপুর, জয়পুরহাট, মৌলভীবাজার, পঞ্চগড়, ঝালকাঠি ও শেরপুর জেলায় ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম চালু হয়েছে।

আইন উপদেষ্টা বলেন, গত বছরের ১৫ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জে পরীক্ষামূলকভাবে ই-বেইলবন্ড কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। এটি শতভাগ সফলতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। এই সফলতার ভিত্তিতে আমরা সফটওয়্যারটিকে আরও উন্নত করেছি। আজকে আটটি জেলায় ই-বেইলবন্ড উদ্বোধন করা হলো।

এই ব্যবস্থার মাধ্যমে বেইলবন্ড দাখিল প্রক্রিয়া হবে সহজ, দ্রুত ও স্বচ্ছ। এতে বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, কারা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবার সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হবে বলে আশা করেছে আইন ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা।

আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘ই-বেইল বন্ড প্রবর্তনের আগে জামিন মঞ্জুরের পর মুক্তি পেতে অনেকগুলো ধাপ অতিক্রম করতে হতো। এতে বিচার প্রার্থীদের অপ্রয়োজনীয় সময়, অর্থ ও মানসিক যন্ত্রণা পোহাতে হতো। জামিন পাওয়ার পরও কয়েক দিন, এমনকি সপ্তাহকালও জেলে থাকার ঘটনা ঘটতো। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির অভাব ছিল। আবার কোথায় দেরি হচ্ছে বোঝারও সুযোগ ছিল না।’

আসিফ নজরুল বলেন, আমাদের ইচ্ছা আছে ৬৪ জেলায় আমরা ই-বেইলবন্ড ব্যবস্থা চালু করব। আমাদের আর সময় আছে ২০-২৫ দিন। আমরা আরও কয়েকটা জেলায় চালুর চেষ্টা করব। আমরা আশা করি আগামী ছয় মাসের মধ্যে এ ব্যবস্থা সবগুলো জেলায় চালু হয়ে যাবে।’

পরবর্তী সরকার এ উদ্যোগগুলো অব্যাহত রাখবে কি না- প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘পরবর্তী সরকার রাজনৈতিকভাবে সমস্যা হয় এমন জিনিস ছাড়া বাকি সবই রাখার চেষ্টা করবে। এটি তো রাজনৈতিকভাবে সমস্যায় ফেলবে না। পরবর্তী দলগুলো যারা ক্ষমতায় আসবে আমরা তো শুনি যে উনারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেবেন। উনারা সুশাসনের ব্যবস্থা করবেন। এ সমস্ত কাজ যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক বাধা দেবো বলে আমরা মনে করি না।’

আইন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, নতুন সিস্টেমে বিচারকের স্বাক্ষরের পর বেইল বন্ড সরাসরি ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেলখানায় পৌঁছায়। মধ্যবর্তী অপ্রয়োজনীয় ধাপগুলো বিলুপ্ত হয়েছে। কারাগারে আটক ব্যক্তি কয়েক ঘণ্টা বা সর্বোচ্চ একদিনে মুক্তি পাচ্ছে। তাছাড়া, কে কখন স্বাক্ষর করছে তা ডাটাবেজে সংরক্ষিত থাকছে। ফলে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়েছে। বিচার প্রার্থীরা অপ্রয়োজনীয় সময়, অর্থ ও মানসিক যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়েছে। অভিযুক্ত ও তার পরিবারের যাতায়াত খরচ হ্রাসসহ সরকারের অপ্রয়োজনীয় কারা ব্যয় সাশ্রয় হয়েছে।

ই-বেইলবন্ডের বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ বলেন, এখন বেইলবন্ড নিয়ে যে সমস্যাটা হয় সেটা হল, সুপ্রিম কোর্টে কারো জামিন হলো- সেটা সেশন জজ থেকে ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে সেই বেইলটা কনফার্মেশন করতে হয়।

দেখা গেছে, জামিন হওয়ার পরেও সেই লোকটার ৩-৪ দিন লেগে যাচ্ছে বের হতে। এজন্য তাদের অনেক পয়সা খরচ করতে হচ্ছে। কারাগার থেকে আবার ফোন করে জিজ্ঞেস করে এমন (জামিন) হয়েছে কি হয়নি। এসব কারণে মানুষের বিচারের প্রতি এক ধরনের আস্থা হীনতা তৈরি হচ্ছে। ই-বেইলবন্ড হলে কাজটি স্মুথ হয়ে যাবে, খুব দ্রুত হবে। মানুষ দ্রুত ন্যায় বিচার পাবে।

কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন বলেন, অনলাইন বেইলবন্ড ব্যবস্থায় আমরা এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আসামিদের মুক্তি দিতে পারছি। আগে আমাদের লোক পাঠিয়ে জামিনের বিষয়টি নিশ্চিত করে তারপর বাস্তবায়ন করতে হতো। এ ব্যবস্থায় এটা আর করতে হয় না। অনেক সময় জামিন হওয়ার পর কাগজ না পাওয়ায় এক দুই দিন পর আমাদের আসামিকে ছাড়তে হয়। তখন আসামির আত্মীয়-স্বজন জেল গেটে এসে বলে কেন ছাড়ছি না। এতে আমাদের একটা বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হতো।

এছাড়া আগের ব্যবস্থায় দুর্নীতির একটা সুযোগ ছিল বলেও জানান কারা মহাপরিদর্শক।

আরএমএম/এমআরএম