যাত্রীবাহী বাসে অভিযানে অস্ত্র ব্যবসায়ী গ্রেফতার, দুই পিস্তল জব্দ
নির্বাচনের আগমুহূর্তে রাজধানীতে অবৈধ অস্ত্র সরবরাহের চেষ্টার তথ্য মিলেছে। রাজধানীর শ্যামপুর এলাকায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল ও ২১ রাউন্ড গুলিসহ আজগর আলী ওরফে ভোলা (৫৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান লালবাগ গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মোস্তাক সরকার।
তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, দূরপাল্লার একটি বাসে করে একজন অস্ত্র ব্যবসায়ী ঢাকায় প্রবেশ করছে। তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে ডিবি লালবাগ বিভাগের একটি দল শ্যামপুর পশ্চিম ধোলাইপাড় এলাকায় ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের বনফুল মিষ্টির দোকানের সামনে অবস্থান নেয়।
তিনি আরও জানান, দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে বেনাপোল থেকে ছেড়ে আসা দূরপাল্লার একটি বাস থামিয়ে বাসের সুপারভাইজার ও হেলপারের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালানো হয়। এক পর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজগর আলী ওরফে ভোলাকে শনাক্ত করা হয়।
ডিসি মোস্তাক সরকার বলেন, পরে তার দেহ তল্লাশি করে কোমরের একপাশ থেকে একটি সিলভার রঙের বিদেশি পিস্তল এবং কালো স্কচটেপে মোড়ানো দুটি সিলভার রঙের ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। কোমরের অন্য পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি কালো রঙের বিদেশি পিস্তল এবং স্কচটেপে মোড়ানো দুটি কালো রঙের ম্যাগাজিন। এছাড়া তার প্যান্টের পকেট থেকে একটি ছোট প্যাকেটে মোড়ানো ২১ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

ডিসি মোস্তাক সরকার আরও জানান, গ্রেফতার ব্যক্তির ব্যাগ তল্লাশি করে আর কোনো অবৈধ সামগ্রী পাওয়া যায়নি। আজগর আলীর বাড়ি যশোরের বেনাপোল থানায়। তার বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। ২০২১ সালে খিলগাঁও থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা এবং ২০২৪ সালে সাভার থানায় বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিলসহ গ্রেফতারের তথ্য রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, আজগর আলী একজন অস্ত্র ব্যবসায়ী। তবে উদ্ধারকৃত অস্ত্রগুলো কোথা থেকে আনা হয়েছে এবং কার কাছে সরবরাহের উদ্দেশে ঢাকায় আনা হচ্ছিল- তা তদন্ত করে জানা যাবে বলে জানান তিনি।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকায় এসব অস্ত্র আনার পরিকল্পনা ছিল কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি মোস্তাক সরকার বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আনা হয়েছে কি না, তা নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে এসব অবৈধ অস্ত্রের মূল উদ্দেশ্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো।
গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
টিটি/এএমএ