নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে ইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে বাংলাদেশে কর্মরত রাষ্ট্রদূত ও বিদেশি সব মিশনের কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে নির্বাচন কমিশন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সকালে স্থানীয় একটি হোটেলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিনসহ চার নির্বাচন কমিশনার উপস্থিত রয়েছেন।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ বৃহস্পতিবার বলেছেন, এবার নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৮৩ বিদেশি পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর মধ্যে ৩৬টি নিশ্চিত করেছে। বিদেশি ৫০ সাংবাদিক ও ৭৮ জন পর্যবেক্ষক আসতে চান।
‘আমরা যাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছি তারা ইন্টারকন্টিনেন্টালে থাকবে। ইইউ পর্যবেক্ষক ৫৮ জনের মতো আছে। এটি ৩০০ এর কাছাকাছি যেতে পারে।’
ইসির জনসংযোগ পরিচালক রুহুল আমিন মল্লিক জানান, হোটেল ওয়েস্টিনে অনুষ্ঠিতব্য ব্রিফিং অনুষ্ঠানটি গণমাধ্যমের জন্য উন্মুক্ত নয়। তবে অনুষ্ঠান শেষে নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এসে, সিনিয়র সচিব ব্রিফিং করবেন।
তিনি জানান, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে কমিশনের পক্ষ থেকে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানানো হবে। এতে ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, মিশন প্রধান, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা থাকছেন।
২২ জানুয়ারি থেকে প্রচারণা শুরু হয়ে চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।
এবার ভোট দেখতে আগ্রহী বিদেশি গণমাধ্যম, সাংবাদিকসহ পর্যবেক্ষকদের ১৭ জানুয়ারির মধ্যে ইসিতে আবেদনের সময়সীমা ছিল।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত সোমবার বিদেশি নাগরিকদের আগমনী ভিসাসহ অন্যান্য ভিসা সংক্রান্ত এক পত্র জারি করে বলেছে, নির্বাচন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতেই পর্যবেক্ষকদের ভিসা ফি মওকুফ করা হবে।
মন্ত্রণালয়ের জারি করা এই পত্রে বিদেশি সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের বাংলাদেশে আসার জন্য ‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বানুমতি গ্রহণ করতে হবে’ বলা হয়েছে।
নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনকালে বিদেশি নাগরিকদের আসা, অবস্থান করা এবং চলে যাওয়ার সময় যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য আগমনী ভিসাসহ অন্যান্য ভিসা প্রদানে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
>> ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ৪০টি পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠানের ৫১৭ জন এবং স্থানীয়ভাবে ৮৪টি পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠানের ২০ হাজার ২৫৬ জনকে ভোট পর্যবেক্ষণের অনুমোদন দেওয়া হয়।
>> ২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করে ৮১টি দেশি পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠানের ২৫ হাজার ৯০০ জন প্রতিনিধি। এছাড়া ৩৮ জন (ফেমবোসা, এএইএ, ওআইসি ও কমনওয়েলথ থেকে আমন্ত্রিত) বিদেশি পর্যবেক্ষক, বিভিন্ন বিদেশি মিশনের ৬৪ জন কর্মকর্তা এবং দূতাবাস ও বিদেশি সংস্থায় কর্মরত ৬১ জন ভোট পর্যবেক্ষণ করেন।
>> ২০১৮ ও ২০১৪ সালে একাদশ ও দশম সংসদ নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্র পর্যবেক্ষক পাঠায়নি। পরে এ দুটি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নও তুলেছিল তারা।
>> দশম সংসদ নির্বাচনে সব দল অংশ না নেওয়ায় পর্যবেক্ষকও কম ছিল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ওই নির্বাচনে মাত্র চারজন বিদেশি এবং স্থানীয় ৩৫টি সংস্থার ৮ হাজার ৮৭৪ জন ভোট পর্যবেক্ষণ করেন।
>> ২০০৮ সালে ৫৯৩ জন বিদেশি এবং ১ লাখ ৫৯ হাজার ১১৩ জন দেশি ভোট পর্যবেক্ষণ করেন।
এমওএস/এমআইএইচএস