লুৎফে সিদ্দিকী
মিয়ানমারের পরিস্থিতি জটিল, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনেই অগ্রাধিকার
মিয়ানমারের পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ও বহুপাক্ষিক জিওপলিটিক্যাল বাস্তবতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী। তিনি বলেন, দেশটিতে একাধিক শক্তি ও পক্ষ সক্রিয় থাকায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুটি সহজ নয়, তবে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অগ্রাধিকার স্পষ্ট—রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের অগ্রগতি সম্পর্কে গণমাধ্যম কর্মীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, বর্তমানে মিয়ানমারে সামরিক সরকার, রাখাইনে সক্রিয় আরাকান আর্মি, বিভিন্ন জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং রাজনৈতিক পক্ষ একসঙ্গে সক্রিয় রয়েছে। ফলে দেশটির অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, মিয়ানমারে গণতন্ত্র আছে কি নেই, অং সান সু চি জেল থেকে বের হচ্ছেন কি না—এগুলো আমাদের কাছে মুখ্য বিষয় নয়। যেই সরকারই থাকুক, রোহিঙ্গা বিষয়ে তাদের অবস্থান মোটামুটি একই রকম ছিল।
মানবিক সংকট ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকি
লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু এখন বাংলাদেশের জন্য একটি বড় মানবিক সংকটে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় শরণার্থী ক্যাম্পের ভার বহন করছে।
একই সঙ্গে তিনি মিয়ানমারকে ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের অন্যতম বড় উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, মিয়ানমার থেকে এখন সাইবার ক্রাইম, মানবপাচার, মাদক ও সংঘবদ্ধ অপরাধের এক্সপোর্ট হচ্ছে। এটি শুধু বাংলাদেশের সমস্যা নয় বরং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্যও বড় হুমকি।
আন্তর্জাতিক অঙ্গণে অগ্রগতি
রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক মনোযোগ বাড়াতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলেও জানান তিনি। প্রধান উপদেষ্টার এক বছর আগের অনুরোধের পর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের উদ্যোগে একটি হাই-লেভেল কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশ এখন এই ইস্যুতে আরও স্পটলাইট চাইছে। এ ক্ষেত্রে ইতিমধ্যে ভালো অগ্রগতি হয়েছে।
সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ
প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত জানান, রোহিঙ্গা বিষয়ক সরকারের উচ্চ প্রতিনিধি খলিলুর রহমান সব পক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রেখে কাজ করছেন। এমনকি যেসব তৃতীয় পক্ষ সরাসরি সংশ্লিষ্ট নয়, তাদের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।
লুৎফে সিদ্দিকী বলেন, ডিপ্লোমেটিকভাবে বিষয়টি অত্যন্ত জটিল। তবে সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে এবং এই প্রক্রিয়ায় তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।
ধারাবাহিক কূটনৈতিক উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়ে একটি বাস্তবসম্মত অগ্রগতি সম্ভব হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন লুৎফে সিদ্দিকী।
এমইউ/এমএমকে