ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

দ্বৈত নাগরিক-ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে জুলাই ঐক্যের বিক্ষোভ

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৮:৪৮ পিএম, ২৭ জানুয়ারি ২০২৬

দ্বৈত নাগরিক, ঋণখেলাপি ও জাতীয় পার্টিসহ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে জুলাই ঐক্য। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের দাবিও করেছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে আগারগাঁও মেট্রো স্টেশন থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে ইসির সামনের সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে অংশগ্রহণকারীরা। এ সময় জুলাই ঐক্যের সংগঠক আল সাদ, ফাহিম ফারুকী, অন্তু মুজাহিদ, কবি বোরহান মাহমুদ, প্লাবন তারেক, ইসরাফিল ফরাজী উপস্থিত ছিলেন। পরে জুলাই ঐক্যের প্রতিনিধি দল ইসিতে গিয়ে স্মারকলিপি জমা দেন।

বক্তরা বলেন, ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে যারা আওয়ামী লীগের হাতকে শক্তিশালী করেছে তারা ফ্যাসিবাদের দোসর। সে জন্য জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দল ও এনডিএফ জোটের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করতে হবে। আমরা হাইকোর্টে রিট করেছি, যেখানে একটি রুল দেওয়া হয়েছে। হাইকোর্ট শিগগির তাদের (জাপাসহ ১৪ দল ও এনডিএফ প্রার্থী) মনোনয়নপত্র বাতিল করবেন বলে আশা করি।

বক্তারা জানান, এবারের নির্বাচনে ঋণ খেলাপি হয়েও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন কমপক্ষে ৪৫ জন প্রার্থী। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশসহ (আরপিও) বিভিন্ন আইনে ঋণ খেলাপিদের আটকানোর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ৪৫ জন ঋণ খেলাপি বেরিয়ে গেলেও বাদ পড়েছেন ৬৮ জন। এই নির্বাচন কমিশন নিজেদের মনমতো মনোনয়নের বৈধতা দিচ্ছে। যারা রাষ্ট্রের টাকা চুরি করেছে, তারা নির্বাচন করবে এবং গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তাদের ভোট দিতে হবে—তা সাংঘর্ষিক। এই নির্বাচন কমিশন মুখে ইনসাফের কথা বললেও আদতে রাজনৈতিক দলগুলোর মন জয় করতে তারা মরিয়া। এই ঘটনা দ্বৈত নাগরিক ইস্যুতেও দেখা যায়। যারা দুর্নীতি করে, দেশের টাকা লুটপাট করে বিদেশে আশ্রয় নিয়েছে—সামনে ক্ষমতায় বসে অর্থ পাচার করবে—তাদেরও বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে ইসি।  

বক্তারা আরও বলেন, চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে সরাসরি গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ও সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার দাবিতে ২ মাস যাবৎ আন্দোলন করছে জুলাই ঐক্য। হাইকোর্টে রিট এবং নির্বাচন ভবন অভিমুখী পদযাত্রা ও স্মারকলিপি দিয়েছে জুলাই ঐক্য। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা দেখছি, গণহত্যাকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। আমরা নির্বাচন কমিশনকে হুঁশিয়ার করে দিচ্ছি—অবিলম্বে জাতীয় পার্টি, এনডিএফসহ ১৪ দল ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মনোনয়ন বাতিল করুন। অন্যথায় দেশের সাধারণ ছাত্রজনতা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে তার সব দায়ভার নির্বাচন কমিশনকে বহন করতে হবে।

তারা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণায় গিয়ে প্রকাশ্যে দিবালোকে রাজধানীতে হত্যা করা হয় জুলাই ঐক্যের অন্যতম সংগঠক ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে। এখন পর্যন্ত খুনিকে গ্রেফতার তো দূরের কথা, মামলার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতিও দেখাতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বসন্তের কুকিলের মতো আচরণ করছে, যা রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে। জুলাই ঐক্যের পক্ষ থেকে আমরা অবিলম্বে দাবি জানাচ্ছি—আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কী করেছে, তা জাতিকে জানাতে হবে। একই সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে সব ক্ষেত্রে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। অন্যথায় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যত প্রকার বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে, তার সব দায়-দায়িত্ব ইসি এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বহন করতে হবে।

এমওএস/এমএমকে