নির্বাচনি প্রচারণায় ধর্মের ব্যবহার উদ্বেগজনক: আসক
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ভোটের প্রচারণায় ধর্মকে ব্যবহার করা এবং অন্য ধর্মচর্চাকারী নাগরিকদের ওপর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে চাপ সৃষ্টি করে ভোট চাওয়ার প্রবণতাকে উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
সংস্থাটি মনে করছে, এসব আচরণ সংবিধানে নিশ্চিত নাগরিকের সমান মর্যাদা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকারের পরিপন্থি। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানায় আসক।
সংস্থাটি জানায়, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, সহিংসতা, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠছে। এসব ঘটনা নির্বাচনকালীন পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে; যা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিপন্থি।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, নির্বাচন ঘিরে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তি ও কর্মীরা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। গতকাল (বুধবার) শেরপুরের ঝিনাইগাতি উপজেলায় জামায়াতের স্থানীয় এক নেতা নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় বিএনপির এক নেতা গুরুতর আহত হন। এছাড়া সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ৩০ জন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে বলে উল্লেখ করে সংস্থাটি।
আসক জানায়, নির্বাচনি প্রচারণাকালে নারীদের বোরকা বা নেকাব জোরপূর্বক খুলে ফেলার অভিযোগ অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। নির্বাচনি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের কারণে কোনো নাগরিককে এ ধরনের অপমান বা চাপের মুখে পড়তে বাধ্য করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ভোটারদের প্রভাবিত করতে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা, প্রচারণাকালে ভয়ভীতি প্রদর্শন, শিষ্টাচারবিরোধী ও অশালীন ভাষার ব্যবহার এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারের অভিযোগও গণমাধ্যম সূত্রে পাওয়া যাচ্ছে।
আসক মনে করে, নির্বাচন একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের ভয়মুক্ত পরিবেশে নিজ পছন্দ অনুযায়ী ভোটদানের অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত দায়িত্ব হলো এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে সহিংসতা, অনিয়ম, বৈষম্য ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কোনো স্থান থাকবে না।
সংস্থাটি স্পষ্টভাবে জানায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের সহিংসতা, উসকানি, ভোটারকে অর্থ দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা, ধর্মের অপব্যবহার এবং শিষ্টাচারবিরোধী আচরণ সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য। একটি গ্রহণযোগ্য, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে এসব ঘটনার বিরুদ্ধে অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
পাশাপাশি পারস্পরিক সম্মান, সংযম ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে আসক।
জেপিআই/এমকেআর/জেআইএম
সর্বশেষ - জাতীয়
- ১ কদমতলীতে নারী নেত্রীর ওপর হামলার প্রতিবাদে মহিলা জামায়াতের বিক্ষোভ
- ২ ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে চট্টগ্রামে রেলওয়ে কর্মচারীদের বিক্ষোভ
- ৩ শেরপুরে জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় ইউএনও এবং ওসি প্রত্যাহার
- ৪ ভোটে আচরণবিধি লঙ্ঘনে এগিয়ে ময়মনসিংহের প্রার্থীরা, কম লঙ্ঘন ঢাকায়
- ৫ এনসিটি ইস্যুতে উত্তাল চট্টগ্রাম বন্দর, ২ দিনের শাটডাউন ঘোষণা শ্রমিকদের