ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ অনুমোদন

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশিত: ০৭:৫৭ পিএম, ২৯ জানুয়ারি ২০২৬

পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, ২০২৬ অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়।

বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার সহকারী প্রেস সচিব সুচিস্মিতা তিথি বিস্তারিত তুলে ধরেন।

তিনি জানান, নারী ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করা, পারিবারিক সহিংসতায় সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধ ও দমন, দ্রুত বিচার এবং ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক প্রতিকার ব্যবস্থা কার্যকর করাই এ অধ্যাদেশের মূল লক্ষ্য।

সুচিস্মিতা তিথি জানান, এ অধ্যাদেশের মাধ্যমে পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০ রহিত করে আরও পরিপূর্ণ, যুগোপযোগী ও শক্তিশালী একটি আইনি কাঠামো প্রবর্তন করা হলো। 

পরিবারকে নিরাপদ পরিসর হিসেবে সুরক্ষিত রাখা এবং সহিংসতার শিকার নারী ও শিশুর জন্য দ্রুত সুরক্ষা, নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা, আইনগত সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা সরকারের লক্ষ্য বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সহকারী প্রেস সচিব জানান, অধ্যাদেশে ‘পারিবারিক সহিংসতা’ শব্দটি বিস্তৃতভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এর আওতায় শারীরিক নির্যাতন, মানসিক নির্যাতন, যৌন আচরণ বা নির্যাতন এবং আর্থিক নির্যাতন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষুণ্নকারী আচরণকে মানসিক নির্যাতনের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত মানসিক নির্যাতনের বিষয়েও স্পষ্ট আইনি সংযোজন রাখা হয়েছে, যাতে পারিবারিক সহিংসতার আধুনিক রূপগুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা যায়।

ভুক্তভোগীদের অধিকার সুরক্ষায় অধ্যাদেশে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিকার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- অংশীদারি বাসগৃহে বসবাসের অধিকার, যাতে ভুক্তভোগী ব্যক্তি বাসস্থান থেকে বঞ্চিত না হন।

আরও পড়ুন
যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ অনুমোদনসহ ১১ বিষয়ে সিদ্ধান্ত 
সরকারি কর্মচারীরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর প্রচার চালাতে পারবেন না 

আদালতের মাধ্যমে দ্রুত সুরক্ষা আদেশ, যার মাধ্যমে সহিংসতা, হুমকি, যোগাযোগ, কর্মস্থল বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশসহ নির্দিষ্ট আচরণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা যাবে।

বসবাস আদেশ, যার মধ্যে প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা, বিকল্প বাসস্থান বা ভাড়া প্রদানের নির্দেশ, প্রয়োজনে প্রতিপক্ষকে সাময়িকভাবে উচ্ছেদ এবং ব্যক্তিগত কাগজপত্র ও সম্পদ উদ্ধারের ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ আদেশ ও ভরণপোষণ, যেখানে শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ এবং এককালীন বা মাসিক ভরণপোষণের বিধান রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে বেতন বা মজুরি থেকে কর্তনের মাধ্যমে আদায় করা যাবে।

শিশুর সাময়িক তত্ত্বাবধান, যেখানে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিরাপদ তত্ত্বাবধান নিশ্চিত করা হবে। মামলা চলাকালে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ এবং প্রয়োজনে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। অধিকাংশ আবেদন ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সুরক্ষা, বসবাস বা ক্ষতিপূরণ আদেশ লঙ্ঘনকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে, যার জন্য কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা বা অবহেলার ক্ষেত্রেও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সরকার বিশ্বাস করে, এই অধ্যাদেশ পরিবারে নিরাপত্তা, মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে। এটি নারী ও শিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এমইউ/কেএসআর