অপহরণের পর শিশুকে নিজ বাড়িতে পাঠিয়ে দেন রিকশাচালক, গ্রেফতার ৪
রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মৌচাক মার্কেটের দিকে ফেরার পথে শিশু অপহরণের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। তারা জানায়, ডাক্তার দেখিয়ে শিশু হিসানকে নিয়ে একটি অটো রিকশায় উঠেন ভুক্তভোগীর মা সুমাইয়া। রিকশায় কিছুদূর যাওয়ার পর হিসান তার মার কাছে পানি পান করতে চাইলে তাকে রিকশায় রেখে পানি আনতে যান তিনি। এই সুযোগে তিন বছর বয়সী হিসানকে নিয়ে পালিয়ে যান রিকশাচালক চাঁন মিয়া।
র্যাব জানায়, রিকশাচালক শিশুটিকে অপহরণের পর নিকটাত্মীয় আজাদ নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য হস্তান্তর করে।
এ ঘটনায় জড়িত থাকায় মোট ৪ জনকে গ্রেফতার করে র্যাব। গ্রেফতাররা হলেন- অপহরণকারী মো. চাঁন মিয়া, তার বাবা মো.নূর মোহাম্মদ ও মা চাঁন মালা এবং মোসাম্মদ কুলসুম বেগম।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত মুগদা হাসপাতাল থেকে শিশুকে অপহরণের ঘটনায় শিশুকে উদ্ধার এবং মূল অপহরণকারী গ্রেফতার সংক্রান্ত এক সংবাদ সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে এসব বলেন র্যাবের মুখপাত্র (উইং কমান্ডার) এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গত ২৯ জানুয়ারি রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তিন বছরের শিশুকে অপহরণের ঘটনায় ভিকটিম হিসানকে উদ্ধার এবং অপহরণকারী মো. চাঁন মিয়াসহ ৪ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
ঘটনার বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী শিশু হিসানের মা সুমাইয়া আক্তার রাজধানীর দক্ষিণগাঁও সবুজবাগ থানা তিন এলাকায় বেশ কিছুদিন যাবৎ বসবাস করে আসছেন। সুমাইয়া আক্তারের স্বামী গত ১২ বছর যাবৎ প্রবাসে থাকায়, তার তিন সন্তানকে নিয়ে তিনি (সুমাইয়া) নিজেই বাড়ির যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। গত ২৮ জানুয়ারি বেলা ১১টার সময় ভিক্টিম সুমাইয়া ছেলে হিসান রহমানকে নিয়ে ডাক্তার দেখানোর জন্য মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান। ডাক্তার দেখানো শেষে তিনি ছেলে হিসানকে নিয়ে মৌচাক মার্কেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়ার জন্য একটি অটোরিকশায় ওঠেন। রিকশায় কিছুদূর যাওয়ার পর হিসান তার মায়ের কাছে পানি পান করতে চাইলে ভুক্তভোগীর মা সুমাইয়া আক্তার তাকে রিকশায় রেখে পানি আনতে যান এবং এসে দেখেন রিকশাচালক শিশুটিকে নিয়ে পালিয়েছেন।
এরপর ওই এলাকায় ভুক্তভোগীর মা সুমাইয়া অনেকক্ষণ খোঁজখবর করে না পেয়ে গতকাল (২৯ জানুয়ারি) বাদী হয়ে মুগদা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় র্যাব ভুক্তভোগী শিশুকে উদ্ধার এবং জড়িতদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।
তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৩, র্যাব-১৩ এবং র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার যৌথ অভিযানে রমনা থানাধীন ওয়্যারলেস গেট গ্র্যান্ড প্লাজা এলাকা থেকে অপহরণকারী মো. চাঁন মিয়াকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
এছাড়াও, গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ি বাস স্ট্যান্ড এলাকা থেকে আসামির বাবা মা মো. নূর মোহাম্মদ ও চাঁন মালা এবং মোসাম্মদ কুলসুম বেগমকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্য জানিয়ে তিনি বলেন, চাঁন মিয়া তার নিকটাত্মীয় আজাদ নামে এক ব্যক্তির কাছে ভুক্তভোগীকে দিয়ে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য হস্তান্তর করে। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে র্যাব তিন ভিক্টিমের অবস্থান নিশ্চিত করে এবং এই তথ্যটি রংপুরের র্যাব-১৩ কে পাঠায়। পরে র্যব-১৩ অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে ভুক্তভোগী শিশুকে উদ্ধার করে।
গ্রেফতার চাঁন মিয়া এর আগেও বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কর্মে লিপ্ত ছিল। যে কারণে তার নামে গাইবান্ধা থানায় একটি হত্যা মামলা এবং মুগদা থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কেআর/এএমএ