ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন টিআইবির

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০২:৪০ পিএম, ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

গণভোটের মূল ভিত্তি রক্তাক্ষরে রচিত জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত সিংহভাগ প্রস্তাব, যা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) মূল ম্যান্ডেট। এমনটি জানিয়েছেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান। একই সঙ্গে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে টিআইবি।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে আয়োজিত ‘গণভোট ও প্রাক-নির্বাচন পরিস্থিতি: টিআইবির পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে গণভোটের প্রচারণা বিষয়ে টিআইবির পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে গণভোট নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে সরকারের দোদুল্যমানতা এবং উভয়পক্ষকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশে অধ্যাদেশ প্রণয়ন শুরু থেকেই গণভোটের বিষয় ও প্রশ্ন নিয়ে ধোঁয়াশা, বিভ্রান্তি ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

তিনি বলেন, একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজন এবং সংসদে উচ্চকক্ষ সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতার সিদ্ধান্ত যদি সন্তুষ্টি অর্জনের উপায় হিসেবেও বিবেচিত হয়, তবুও তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে। এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অধ্যাদেশ প্রণয়ন, গণভোট আয়োজন এবং ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে কোনো গঠনমূলক পরামর্শ বা সমন্বয় হয়েছে কি না- তা স্পষ্ট নয়।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, সরকারের প্রচারণা কার্যক্রম শুরুর ১৮ দিন পর সরকারি কর্মচারীদের গণভোটের পক্ষে প্রচার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নির্দেশনা কতটা সুচিন্তিত, আইনসম্মত ও গঠনমূলক- সে প্রশ্নও বিতর্ককে আরও বাড়িয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় নির্বাচন ও গণভোটকে সমার্থক হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে, যা প্রশ্নবিদ্ধ। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী নির্বাচন কোনো আসনে সদস্য নির্বাচনের প্রক্রিয়া, সেখানে গণভোটকে নির্বাচনের সমার্থক ধরা যায় না।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, প্রজ্ঞাপন জারির আগে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে আলোচনা হলে বিভ্রান্তি এড়ানো সম্ভব হতো এবং নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠতো না।

গণভোটের প্রচারণা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন উভয়ের অপরিণামদর্শী পদক্ষেপের কারণে সরকারের সরাসরি ভূমিকাকে কেন্দ্র করে অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থান প্রদত্ত ম্যান্ডেট অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কারের মূল অনুঘটক জুলাই সনদের ওপর গণভোটে ‘হ্যাঁ’ রায় অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমিকা পালন সরকারের দায়িত্ব।

তবে শুরু থেকেই সরকারি কর্মচারীদের পাশাপাশি এনজিও ও ব্যাংকসহ বিভিন্ন অংশীজনের ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়ে সরকার নিজেই প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে গণভোট পরিচালনার অর্থায়ন, ব্যয়ের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, তফসিল ঘোষণার পর সরকারি কর্মচারীরা আইনত নির্বাচন কমিশনের অধীন থাকলেও কমিশনের সম্মতি ছাড়াই সরকার তাদের দিয়ে প্রচারণার নির্দেশনা দিয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনও আইনের ভুল ব্যাখ্যার ওপর ভিত্তি করে নিষ্প্রয়োজনীয় ও বিতর্কিত পদক্ষেপ নিয়েছে। ফলে ঐতিহাসিক গণভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষই প্রত্যাশিত ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে।

গণভোটে টিআইবির অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, জুলাই সনদে অন্তর্ভুক্ত প্রস্তাবগুলো দীর্ঘদিনের গবেষণা ও পরামর্শভিত্তিক সংস্কার দাবির অংশ। সুশাসন প্রতিষ্ঠা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতি প্রতিরোধ, রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার সুরক্ষা এবং সব মানুষের সমঅধিকারের প্রত্যয় গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে সমর্থনের সুযোগ রয়েছে।

তিনি জানান, সাংবিধানিক সংস্কারের অংশ হিসেবে সংবিধানের ২০ (২) অনুচ্ছেদ সংশোধন, দুর্নীতি দমন কমিশনকে সাংবিধানিক মর্যাদা প্রদান, জুলাই সনদের দুর্নীতি প্রতিরোধ সংক্রান্ত অনুচ্ছেদগুলো বাস্তবায়নসহ আরও বিভিন্ন সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে টিআইবি অবস্থান নিয়েছে।

এছাড়া বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকারের সম্প্রসারণ, সংসদে উচ্চকক্ষ গঠনের ক্ষেত্রে ভোটের অনুপাত নিশ্চিতকরণ, নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন, বিরোধীদল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিতে বিরোধীদলের নেতৃত্বের প্রস্তাবও তুলে ধরেন তিনি।

হ্যাঁ ভোটের পক্ষে টিআইবি অবস্থান নেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে কি না জানতে চাইলে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, টিআইবি মানবিক মূল্যবোধ সংরক্ষণ করে এমন যে কোনো ভালো পদক্ষেপের পক্ষে প্রচার চালাতে পারে। দুর্নীতি ও শোষণমুক্ত সমাজ গঠনে জুলাইয়ের পক্ষে জনগণই অবস্থান নিয়েছে, তাদের সমর্থনে কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতন হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

কেআর/এএমএ