ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

আগের দুই সিইসি কারাগারে, তবুও ভয়ের কিছু নেই: সিইসি নাসির

কূটনৈতিক প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৪:০৬ পিএম, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিতর্কিত নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়ে আগের দুই প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কারাগারে থাকলেও বর্তমান নির্বাচন কমিশন নির্ভীকভাবে দায়িত্ব পালন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। তিনি বলেছেন, জাতির কাছে দেওয়া অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পূরণে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার মধ্যেই কাজ করছে কমিশন।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে দেশি-বিদেশি সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের জন্য আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন সিইসি।

ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, এবার মানুষ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিচ্ছে। আগের দুই সিইসি যথাযথভাবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হওয়ায় তারা এখন কারাগারে। নির্বাচনের সামনে দাঁড়িয়ে পূর্বসূরিদের পরিণতি তাকে ভাবায় কি না?

জবাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘এ পর্যন্ত যা করেছি, একটি ফ্রি, ফেয়ার অ্যান্ড ক্রেডিবল (অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য) নির্বাচন করার জন্য আমরা জাতির কাছে ওয়াদা করেছি, সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি। আইন-কানুনের মধ্যেই আমরা কাজ করছি। সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা থেকেই দায়িত্ব পালন করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যে কমিটমেন্ট (প্রতিশ্রুতি) দিয়েছি, সেই কমিটমেন্টকে ফোকাসে (লক্ষ্য) রেখেই কাজ করছি। সুতরাং আমাদের ভয়ের কোনো কারণ নেই।’

এর আগে নির্ধারিত বক্তৃতায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনি প্রক্রিয়া হবে ‘অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য’। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক ও গণমাধ্যমের জন্য পুরো প্রক্রিয়া উন্মুক্ত রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন উপলক্ষে সব ধরনের কার্যক্রম চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং নির্বাচনের দিনের প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়েছে। ভোটার অংশগ্রহণ বাড়াতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে দেশব্যাপী জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তাদের সহায়তায় ভোটগ্রহণ ও ভোট গণনার কাজ পরিচালনা করবেন। প্রার্থী বা তাদের মনোনীত এজেন্ট, অনুমোদিত পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে কেন্দ্রেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।

স্বচ্ছতা নিশ্চিতে ব্যাপক দেশি-বিদেশি অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ৪৫টি দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধি, প্রায় ৩৩০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, যার মধ্যে প্রায় ২২০ জন ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে এবং ১৬০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক সাংবাদিক নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। দেশে ৮১টি নিবন্ধিত সংস্থার ৪৫ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক ও ৬০ হাজারের বেশি সাংবাদিককে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। সব স্বীকৃতি যথাযথ যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে।

সিইসি জানান, ভোটগ্রহণ শেষে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে ভোটকেন্দ্রেই গণনা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হবে এবং পরে রিটার্নিং কর্মকর্তারা তা সংকলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবেন। এভাবে ভোট গ্রহণ ও গণনার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। লিঙ্গ, বয়স বা পটভূমি–নির্বিশেষে সব ভোটারকে অবাধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হচ্ছে।

জেপিআই/এমএমকে