ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করেছি: এডিসি জুয়েল

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৯:৩৮ এএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আমরা আজকে একটি সুন্দর, উৎসব মুখর নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে করে দিতে পেরেছি। ইতিমধ্যে আমাদের অসংখ্য ভোটার তাদের সেই কাঙ্ক্ষিত ভোট, সেই হারিয়ে যাওয়া স্বপ্ন ফেরত পেয়েছে। তারা ইচ্ছামত প্রার্থীকে আজকে ভোট দিচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকালে মোহাম্মদপুর সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে এসে এসব কথা বলেন মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জুয়েল রানা।

তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার পরে আপনারা তাদের সাক্ষাৎকার নিয়েছেন। তারা কতটা আনন্দিত এবং তারা যে খুশি। তারা দীর্ঘদিন পরে ভোট উৎসব পেয়েছে। সেই উৎসবটা আমরা ফেরত দিতে পেরেছি এই কারণে আমরা আসলে খুব বেশি আনন্দিত।

এডিসি বলেন, তফসিল থেকে শুরু করে নির্বাচনের আজকের দিন পর্যন্ত আমরা সব বাহিনীর সদস্যরা নিয়মিত টহল দিয়েছি। প্রার্থীদের আমরা প্রচারণার সময় সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা দিয়েছি। গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যমতে আমরা বিভিন্ন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে যুক্ত যারা তাদের আমরা গ্রেফতার করেছি। বিভিন্ন ধরনের দেশীয় অস্ত্র, মরণাস্ত্র এগুলো উদ্ধার করেছি। পাশাপাশি আমরা আমাদের জনগণকে স্বস্তি দিয়েছি যে, ইনশাআল্লাহ আমাদের প্রতি বিশ্বাস রাখেন। আমরা আপনাদের বিশ্বাসের মর্যাদা দিব। সেটা আজকে প্রমাণিত হয়ে গেল।

জুয়েল রানা বলেন, স্বাভাবিকভাবেই যখন একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, নির্বাচনের আগের দিন রাতে কিছু আলোচনা ভয়, গুজব এগুলো ছড়ায় যেটা হয়। এটা কিন্তু ভোটের একটা সৌন্দর্য। সেটা গত রাতে হয়েছে। আমরা গত রাত নিয়মিত টহল দিয়েছি। লোকজনের সাথে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। প্রার্থীদের লোকজনদেরও আমরা অনেক রিকোয়েস্ট করে সরিয়ে দিয়েছি। ফলে ঢাকা ১৩ আসনে কোন ধরনের বিশৃঙ্খলা বা নেগেটিভ কোন নিউজ আপনারা প্রচার করতে পারেন নাই। 

সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর ভোটের পরিবেশ নিশ্চিত করেছি: এডিসি জুয়েল

তিনি বলেন, আমাদের অসংখ্য ভোটার এসে উপস্থিত হয়েছেন। আমরা আমাদের প্রিজাইডিং অফিসারদের সঙ্গে কথা বললাম। সকল ইনচার্জদের সঙ্গে কথা বললাম। এখন পর্যন্ত কোন কেন্দ্রে কোন ধরনের সমস্যা নাই এবং সবাই ভোট দিচ্ছে। যারা ভোটার তারা আমাদের প্রতি মানে সরকারের প্রতি, আমাদের বিভিন্ন বাহিনীর প্রতি যারা নির্বাচন আয়োজনে দায়িত্বে আছেন তাদের প্রতি সন্তুষ্ট জ্ঞাপন করেছেন। আমাদের প্রতি মন খুলে দোয়া করেছেন। প্রশাসন বা পুলিশ, সেনাবাহিনী র‍্যাব সংশ্লিষ্টতা যদি চায় বা আন্তরিকভাবে কাজ করে তাহলে যতই সমস্যা থাকুক তারপরও একটা সুন্দর নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব। এটা আমরা দিতে পেরেছি।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ঢাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ছাড়াও পুলিশের বিশেষায়িত বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিট, সোয়াত, কে-৯ ইউনিট ও ক্রাইম সিন ভ্যান মাঠে মোতায়েন রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, ঢাকায় ডিএমপির ২৬ হাজার ৫১৫ জন সদস্য নির্বাচনের বিভিন্ন দায়িত্বে মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ছাড়াও বাইরে স্ট্রাইকিং ফোর্স, মোবাইল টিম ও রিজার্ভ ফোর্সের পাশাপাশি বিশেষায়িত বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিট, সোয়াত, কে-৯ ইউনিট ও ক্রাইম সিন ভ্যান মাঠে মোতায়েন রয়েছে।

এছাড়াও সারা দেশের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছে বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ১৯ হাজার ৩৫০ জন সদস্য। এর মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার সশস্ত্র সদস্য রয়েছে সেনাবাহিনীর।

এর আগে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানান, ভোটে সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

নৌবাহিনীর উপকূলীয় পাঁচ জেলায় ১৭ আসনে ৫ হাজার এবং বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৫শ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্ট গার্ড ৩ হাজার ৫৮৫ জন, পুলিশ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ৯ হাজার ৩৪৯ জন, আনসার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন এবং বিএনসিসি’র ১ হাজার ৯২২ জন সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন।

অন্যদিকে নির্বাচনী অপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত রয়েছেন ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী তদন্ত কমিটিতে ৩শ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। এ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরনের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে জানা গেছে, ভোট পর্যবেক্ষণে নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে ৫৭ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক, স্বেচ্ছায় ৩৩৫ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং ১৫৬ জন বিদেশি সাংবাদিক ইতোমধ্যে দেশে এসেছেন। পাশাপাশি দেশীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে ৮০টি সংস্থার ৪৪ হাজার ৯৯৫ জন মাঠে থাকবেন।

কেআর/জেএস