ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন, ধীরগতির অভিযোগ

মাসুদ রানা | প্রকাশিত: ০২:২৪ পিএম, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসনের কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের ধীরগতির অভিযোগ করেছেন ভোটাররা। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, ডেমরা ও কদমতলী (আংশিক) থানা নিয়ে গঠিত এ আসনের বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে কোনো কোনো কেন্দ্রে বুথের সামনে ভোটারদের দীর্ঘ সারি।

ভোটাররা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। লাইন যেন নড়ছে না। কোন কোন বুথে কর্মকর্তারা খুব ধীরে কাজ করছেন। তবে প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, তারা নিরলস ভাবে ভোট গ্রহণ করছেন।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে চলছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ভোট গ্রহণ চলবে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন, ধীরগতির অভিযোগ

রাজধানীর ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টারের হাজিনগর এলাকায় হাজী মোয়াজ্জেম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে চারটি কেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে দুটি পুরুষ এবং দুটি মহিলা কেন্দ্র। মোট ভোটার ৯ হাজারের কিছু বেশি। দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হয়েছে আড়াই হাজারের মতো। এ কেন্দ্রে অনেক বৃদ্ধ মানুষকে ভোট দিতে আসতে দেখা গেছে। 
এখানে ভোট দিতে এসেছেন হাজিনগরের বাসিন্দা মো. আব্দুর রহমান, তিনি বলেন আমি এবং আমার স্ত্রী একসঙ্গে ভোট দিতে এসেছি। আমি ভোট দিয়েছি সেটাও অনেকক্ষণ লেগেছে। এখন স্ত্রীর জন্য অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে আছি, তার আরও সময় লাগছে। ভোট নেওয়া হচ্ছে খুব ধীর গতিতে।

বন্ধুদের নিয়ে জীবনের প্রথম ভোট দিতে এসেছেন মো. শরীফুর রহমান। বলেন, আমরা খুবই আনন্দিত। এর আগে ভোটকেন্দ্রে এসেছিলাম, কিন্তু ভোট দিতে পারিনি। ভোট কিছুটা ধীরে নেওয়া হচ্ছে, অপেক্ষা করছি তাও খারাপ লাগছে না। 

ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন, ধীরগতির অভিযোগ

হাজী মোয়াজ্জেম আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের মহিলা-২ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. আরিফুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, আমার এ কেন্দ্রে মোট মহিলা ভোটার ২ হাজার ৫৫৯ জন। চারটি বুথের মাধ্যমে আমরা বেলা ১২টা পর্যন্ত ৫৫০ জনের ভোট নিয়েছি। আমরা দ্রুত ভোট গ্রহণের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। আমার অফিসাররা ক্লান্ত, মাঝে মাঝে আমি নিজেকেও তাদের সহযোগিতা করছি। 

পুরুষ-২ কেন্দ্রে মোট ভোটার ২২৪ জন। এ কেন্দ্রে চারটি বুথের মাধ্যমে ভোট নেওয়া হচ্ছে। এ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মো. জাহিদুল আরেফিন জাগো নিউজকে বলেন, বেলা ১২টা পর্যন্ত আমরা মোট ৮৩০ জনের ভোট গ্রহণ করেছি। ভোট গ্রহণের হার ৩৭ শতাংশ। ভোটগ্রহণের ক্ষেত্রে আমাদের চেষ্টার কোন ত্রুটি নেই। 

মহিলা-১ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা পারভেজ মাহমুদ বলেন, দুপুর ১২টা পর্যন্ত আমাদের ভোটগ্রহণের হার ২৫ শতাংশ। ২ হাজার ১৫৯ ভোটের মধ্যে আমরা দুপুর পর্যন্ত ৬০০ ভোট গ্রহণ করেছি।

পুরুষ-১ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ইকবাল বাহার সুমন বলেন, আমাদের কেন্দ্রে দুপুর বারোটা পর্যন্ত ভোটগ্রহণের হার ৩২ শতাংশ। আমরা ২ হাজার ২৫১ টি ভোটের মধ্যে ৭৩০টি ভোট গ্রহণ করেছি। আমাদের চেষ্টার কোন কমতি নেই। 

ভোটকেন্দ্রে দীর্ঘ লাইন, ধীরগতির অভিযোগ

একজন প্রিজাইডিং কর্মকর্তা জানান, অনেক সময় মহিলারা বোরকা পড়ে আছেন। কাউকে সন্দেহ হলে বোরকা খুলে তার চেহারা পরীক্ষা করতে হয়। ব্যালট দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু প্রক্রিয়া আছে সেগুলো সম্পন্ন করতে হয়। তাই একজনের ভোট সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগছে। তারপরও যত দ্রুত করা যায় তত দ্রুত কাজ করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উত্তর যাত্রাবাড়ীর মাদরাসা মোহাম্মদিয়া আরাবিয়া কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৩৫৫ জন। বেলা সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত ৭০০টি ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। 

শুধু পুরুষ ভোটারদের জন্য করা এ কেন্দ্রে ভবনের নিচে রোদের মধ্যে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। এখানেও ভোটাররা ভোট গ্রহণে ধীর গতির অভিযোগ তুলেছেন।

এ কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার এবিএম মুস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ছয়টি বুথের মাধ্যমে আমরা ভোট গ্রহণ করছি। প্রত্যেকটি বুথের অফিসাররা সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করছেন। কেউ বসে নেই।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা-৫ আসনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১২টি ওয়ার্ডে মোট ১৫০টি কেন্দ্রের ৭৮১টি কক্ষে ভোটগ্রহণ হচ্ছে।

এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৯ হাজার ৯৯৬ জন। এরমধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৪ হাজার ৫৯৪ জন ও নারী ভোটার ২ লাখ ৫ হাজার ৩৯৭ জন। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ও ডেমরা, কদমতলী (আংশিক) থানা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৫ সংসদীয় আসন। এ আসনে রয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৪৮, ৪৯, ৫০, ৬২, ৬৩, ৬৪, ৬৫, ৬৬, ৬৭, ৬৮, ৬৯ ও ৭০ নম্বর ওয়ার্ড। 

ঢাকা-৫ আসনে মোট প্রার্থী ১১ জন। বিএনপির প্রার্থী মো. নবী উল্লাহ নবী (ধানের শীষ প্রতীক), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ কামাল হোসেন (দাঁড়িপাল্লা প্রতীক), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর হাজী মো. ইবরাহীম (হাতপাখা প্রতীক)। মূলত এ তিন প্রার্থীর মধ্যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে।

এছাড়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন- বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির তোফাজ্জল হোসেন মোস্তফা (কাস্তে প্রতীক), গণঅধিকার পরিষদের সৈয়দ মোহাম্মদ ইব্রাহিম (ট্রাক প্রতীক), জাতীয় পার্টির মীর আব্দুস সবুর (লাঙ্গল প্রতীক), লেবার পার্টির মো. গোলাম আজম (আনারস প্রতীক), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. তাইফুর রহমান রাহী (ছড়ি প্রতীক), সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) শাহিনুর আক্তার সুমি (কাচি প্রতীক), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মো. হুমায়ূন কবির (ছাতা প্রতীক) ও বাংলাদেশ কংগ্রেসের মো. সাইফুল আলম (ডাব প্রতীক)।

আরএমএম/জেএস