ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

৬১ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি গণতন্ত্রের বড় বার্তা: প্রেস সচিব

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশিত: ১১:০৯ এএম, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, ঐতিহাসিক ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ৬১ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের বার্তা বহন করছে।

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি একথা বলেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে শফিকুল আলম বলেন, নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে নেত্র নিউজ জানিয়েছে, গতকালের (বৃহস্পতিবার) ঐতিহাসিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬০ দশমিক ৬৯ শতাংশ। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই হার তাৎপর্যপূর্ণ ও সুস্থ অংশগ্রহণের প্রতিফলন। বাংলাদেশে ৭০ শতাংশের বেশি ভোটার উপস্থিতির পরিসংখ্যান প্রায়ই সংশয় সৃষ্টি করে এমন প্রেক্ষাপটে ৬১ শতাংশ উপস্থিতিকে অনেকেই বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন।

স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, ইতিহাসের তুলনায় দেখা যায় ১৯৯১ সালের গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৫৫ শতাংশ। সেই মানদণ্ডে ২০০৮ সালের নির্বাচনে রেকর্ড করা ৮৭ শতাংশ উপস্থিতি, যা নিয়ে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফোর্সেস ইন্টেলিজেন্সে (ডিজিএফআই) প্রভাব ও প্রকৌশলের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত পরিসংখ্যানগতভাবে অস্বাভাবিক ও প্রশ্নবিদ্ধ বলে সমালোচকদের অভিমত।

শফিকুল আলম ফেসবুক স্ট্যাটাসে বলেন, বিশ্লেষণে উঠে এসেছে আনুমানিক ১ কোটি ৩০ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ বাংলাদেশি বিদেশে বসবাস ও কর্মরত। প্রায় সবাই জাতীয় পরিচয়পত্রধারী হওয়ায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। চলতি বছর প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের জন্য ডাকযোগে ভোটের ব্যবস্থা চালু হলেও প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ভোটার নিবন্ধন করেন। ফলে প্রায় ১০ শতাংশ প্রবাসী ভোটারের অধিকাংশ কার্যত ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।

তিনি বলেন, এছাড়া দেশের বড় একটি অংশ নিজ নিজ গ্রামীণ আসনে নিবন্ধিত থাকলেও শহরে বসবাস করেন। সাধারণ নির্বাচনে তাদের অল্প অংশই ভোট দিতে গ্রামে যান ঐতিহাসিকভাবে যা মোট ভোটারের আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ শতাংশ। এর সঙ্গে ভাসমান জনগোষ্ঠী, প্রবীণ, অসুস্থ ও শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি নাগরিকদের অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ব্যক্তিগত বা ধর্মীয় কারণে ভোটদানে বিরত থাকা এবং ভোটার তালিকায় মৃত ব্যক্তির নাম থেকে যাওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

এসব কাঠামোগত বাস্তবতার আলোকে ৬১ শতাংশ ভোটার উপস্থিতিকে অনেকেই বিশ্বাসযোগ্য ও শক্তিশালী বলে আখ্যা দিচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি বিভিন্ন সামাজিক ও জনতাত্ত্বিক স্তরে বিস্তৃত অংশগ্রহণের ইঙ্গিত দেয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সমর্থকদেরও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতির কথা বলা হচ্ছে, যদিও দলটির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত গোপালগঞ্জে তুলনামূলক কম উপস্থিতির খবর পাওয়া গেছে।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অংশগ্রহণ অর্থবহ ছিল বলেও ধারণা করা হচ্ছে। নারীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য ও উৎসাহব্যঞ্জক। সামগ্রিকভাবে, ৬১ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন অধ্যায়ের বার্তা বহন করছে।

এমইউ/জেএস/