থানার ওসির ফোন যেন মন্ত্রীর কাছে না আসে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন নির্দেশনা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী/ছবি: জাগো নিউজ
নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন না করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তদবির ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভবনে টানানো নিজের ব্যানার ও ফুলের তোড়া দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ডিএমপি কমিশনার ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজিও অংশ নেন।
উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে তার বক্তব্যে তিনি বলেন, যে কোনো মূল্যে চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে হবে। পুলিশের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা যাবে না। থানার ওসির ফোন যেন মন্ত্রীর কাছে না আসে। এসব বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানান।
বৈঠকে থাকা পদস্থ এক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে জানান, প্রথম বৈঠকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রণালয় পরিচালনার একটি স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্বে মনোযোগী থাকার আহ্বান জানান এবং কাজের বাইরে অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে সম্পৃক্ত না হওয়ার পরামর্শ দেন।
মন্ত্রণালয়ের বাইরে তাকে নিয়ে টানানো একটি ব্যানারের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের বিষয় রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জন্য প্রযোজ্য; কর্মকর্তাদের পেশাদারত্ব বজায় রাখতে হবে। তারা তাদের কাজ করবে, এসব না।
গত ১৭ বছরের পুলিশি কার্যক্রমের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বৈঠকে মন্ত্রী জানান, অতীতে যা ঘটেছে তা নিয়ে তিনি পেছনে ফিরতে চান না। তিনি নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তবে সামনে এগিয়ে গিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য। তিনি কাজের মূল্যায়নে বিশ্বাসী বলেও জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মকর্তা জাগো নিউজকে জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন কোনো ধরনের তদবির গ্রহণযোগ্য হবে না এবং দুর্নীতির ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করা হবে। বাহিনীর মধ্যে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এই কর্মকর্তা বলেন, সড়কে জনগণের ভোগান্তির বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, জনগণকে দুর্ভোগে ফেলে কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা যাবে না। প্রয়োজনে রাস্তার এক লেন চালু রেখে কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে বলে পুলিশকে তিনি নির্দেশ দেন।
প্রায় ৪৫ মিনিটের বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে দাবি আদায়ের নামে কোনো ধরনের ‘মব’ কালচার সহ্য করা হবে না। দাবি-দাওয়া যথাযথ প্রক্রিয়ায় উত্থাপন করতে হবে। মিছিল-সমাবেশ করা যাবে এবং গণতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে, তবে মহাসড়ক অবরোধ বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি বরদাশত করা হবে না।
পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলতে সাধারণ মানুষ মূলত পুলিশকেই বোঝে। পুলিশকে জনগণের বন্ধু হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং অতীতে ক্ষুণ্ন হওয়া ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে কাজ করতে হবে।
আইজিপিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কয়েকজন কর্মকর্তা বৈঠকে উপস্থিত না থাকার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা আগে দেখা করে গেছেন এবং অন্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন। আইজিপি পরিবর্তনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না—এ প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি মন্তব্য করেননি।
এর আগে বিকেলে মন্ত্রণালয়ে পৌঁছালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে স্বাগত জানানো হয় এবং গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। সকালে সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর নামফলক সরিয়ে নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের নামফলক স্থাপন করা হয়। মন্ত্রণালয়ের প্রবেশপথ, করিডোর ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতেও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন করা হয়।
টিটি/এমকেআর