বেইলি রোডে অভিজাত ইফতারি, দামেও চড়া
বেইলি রোডের দোকানগুলোতে বাহারি ইফতার সামগ্রী নিয়ে বসেছেন দোকানিরা/ছবি: জাগো নিউজ
পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিন আজ। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন প্রথম ইফতারের। দোকানিরাও বসেছেন বাহারি ইফতারির পসরা নিয়ে। মজাদার ইফতারির জন্য সুপরিচিত রাজধানীর বেইলি রোডেও জমে উঠেছে ইফতার বাজার। প্রতিবারের মতো এবারও বিভিন্ন হোটেল-রেস্টুরেন্ট নানান পদের ইফতার সামগ্রীর দেখো মিলেছে। তবে এই এলাকার ইফতার সামগ্রীর দাম সাধারণ মানুষের ‘নাগালের বাইরে’ বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বেইলি রোডের স্থায়ী ও অস্থায়ী ইফতার দোকান ঘুরে দেখা যায়, ছোলা, চপ, বেগুনি, পেঁয়াজু, জিলাপি, বাহারি কাবাব, হালিম ও মিষ্টি জাতীয় বাহারি ইফতার সামগ্রী।
বেইলি রোডের ‘হক ব্রেড স্টোরে’ পাওয়া যাচ্ছে চিকেন পরোটা ৬০ টাকা, ডিমের চপ ৩০ টাকা (প্রতি পিস) এবং হালিম প্রতি কেজি ৪০০ টাকা।

এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় প্রতিটি দোকানেই রয়েছে বিভিন্ন ধরনের চিকেন কাবাব। ‘বেইলি ইফতার বাজার’ নামক দোকানে চিকেন আচারি কাবাব ৩৪০ টাকা, হারিয়ালি কাবাব ৩৫০ টাকা, চিকেন টিক্কা কাবাব ৩২০ টাকা, লাল বাদশা ২০০ টাকা, ফালুদা ১৫০ টাকা (প্রতি বাটি) এবং হালিম পাত্রের আকার ভেদে ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
বেইলি রোডের বিখ্যাত ‘এ ওয়ান ফুডে’ কিমা পরোটা ১৫০ টাকা, ওয়েস্টার কাবাব ৮০ টাকা, ভেজিটেবল কাটলেট ৫০ টাকা, চিকেন অন্থন ৪০ টাকা, পেঁয়াজু ও বেগুনি ১০ টাকা, ফিশ বল ৯০ টাকা, জালি কাবাব ৭০ টাকা, চিকেন মালাই কাবাব ১২০ টাকা, বারবিকিউ চিকেন রোল ১৬০ টাকা, চিকেন অনিয়ন রোল ১৫০ টাকা, স্পাইসি চিকেন ৮০ টাকা ও চিকেন ললিপপ ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

এছাড়া এই দোকানে দই বড়া ১৬০ থেকে ২০০ টাকা, ফালুদা ৮০ টাকা, গাজর ফিরনি ৮০ টাকা এবং হালিম ৩০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে ‘কাচারি বাড়ি ইফতার বাজারে’ ছোলা-পেঁয়াজু ও কাবাবের পাশাপাশি পাওয়া যাচ্ছে মোরগ পোলাও ২৮০ টাকা, গরুর তেহারি ৩৫০ টাকা, খাসির রেজালা (হাফ কেজি) ১ হাজার ২০০ টাকা ও এক কেজি ২ হাজার ৪০০ টাকা, গরুর লাল ভুনা ১ হাজার ৬০০ টাকা এবং কালা ভুনা ১ হাজার ৭০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া ঘি পরোটা ১০০ টাকা, আলু পরোটা ৮০ টাকা, লেমন মিন্ট ২২০ টাকা ও মহব্বত শরবত ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ইফতার কিনতে আসা শান্তিনগরের বাসিন্দা আজিজ রাজু জাগো নিউজকে বলেন, বেইলি রোডের ইফতার অনেক বৈচিত্র্যময়। সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে কিছু দোকান থাকলেও বেশিরভাগই অভিজাত। সবাই চাইলেই এখান থেকে ইফতার কিনতে পারে না। একটা সময় এখানে দাম সাধ্যের মধ্যে ছিল, স্বাদেও অতুলনীয় ছিল।

আরেক ক্রেতা বলেন, হালিমের দাম অনেক বেশি। কিছু রুটি আর কাবাব নিতেই প্রায় এক হাজার টাকা হয়ে গেছে, যা তিনজনের বেশি খেতে পারবে না।
‘এ ওয়ান ফুড’র বিক্রয়কর্মী হাসিব জাগো নিউজকে জানান, তাদের সব পণ্যের দাম নির্ধারিত। গত বছরের মতোই দাম রাখা হয়েছে। তবে অন্যান্য সময়ের তুলনায় কাবাবে ২০ থেকে ৩০ টাকা বাড়তি।
তিনি বলেন, বেইলি রোডের ইফতার বাজার যুগের সঙ্গে তালমিলিয়ে বানায়। পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন ইফতার এখানকার মূল আকর্ষণ।
আরএএস/ইএ
সর্বশেষ - জাতীয়
- ১ ছয় মাসের মধ্যে অগ্রাধিকার তালিকা করার নির্দেশ প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর
- ২ বাড্ডায় ক্রেতার চাপ থাকলেও নেই ইফতারি সামগ্রীর পসরা
- ৩ রাজধানীতে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ গেলো ফুল বিক্রেতা নারীর
- ৪ পরিবারের সঙ্গে প্রথম ইফতার: আনন্দের আলাদা রং
- ৫ চট্টগ্রামকে বিলবোর্ডমুক্ত করার ঘোষণা, কাজীর দেউরীতে উচ্ছেদ অভিযান শুরু