ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

গুলশান-বনানীতে ইফতারির রাজকীয় সমাহার, চাহিদা বেশি খাসির হালিমের 

মুসা আহমেদ | প্রকাশিত: ০৫:৩০ পিএম, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

ঘড়ির কাঁটায় বিকেল ৩টা। রেস্তোরাঁটির ভেতরে এবং বাইরে সারিবদ্ধভাবে পসরা সাজানো হরেক রকম ইফতারি সামগ্রীর। এসব ইফতারি কিনতে ভিড় করেছেন অর্ধশতাধিক ক্রেতা। তারা নিজ পছন্দ এবং স্বাদের ইফতারি কিনছেন। পাশাপাশি হাঁকডাক দিয়ে ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন বিক্রয়কর্মীরা।  
 
তবে এ কেনাকাটার সময় ক্রেতাদের চোখ আটকে যায় রেস্তোরাঁটির বিভিন্ন দেওয়ালে সাঁটানো দৃষ্টি আকর্ষণ সংবলিত একটি নোটিশে। ওই নোটিশে লেখা ‌‘মোবাইল চোর হইতে সাবধান; মোবাইল, মানিব্যাগ সাবধানে রাখুন’।
 
এমন সতর্ক নোটিশ দেখে ক্রেতাদের অনেকেই পকেটে হাত দিয়ে মোবাইল-মানিব্যাগ ঠিকমতো আছে কি না, তা দেখেন। আবার অনেকে এমন সতর্কবার্তা দেখে বলেন- ‘রমজানেও ইফতারি কেনার সময় রেস্তোরাঁয় চুরি হয়?’

jagonews24.com
 
রেস্তোরাঁটির নাম স্টার কাবাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট। বনানী ৬ নম্বর রোডে রেস্তোরাঁটির অবস্থান। এখানে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদের ৫২ রকমের ইফতারি পাওয়া যায়। এর মধ্যে খাসির হালিমের চাহিদা বেশি।
 
স্টার কাবাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের বিক্রয়কর্মীদের দাবি, সাধারণত দুপুর ২টার পর থেকেই স্টার কাবাবে ইফতারি বিক্রি শুরু হয়। বনানী, গুলশানসহ আশপাশের এলাকার অনেক বাসাবাড়ি থেকে এখানে ইফতারি কিনতে লোকজন আসেন। বিকেলে আসরের নামাজের পর রেস্তোরাঁটিতে ঢোকার মতো অবস্থা থাকে না। বাইরে হালিম, জুস বিক্রির জায়গায়ও একই অবস্থা তৈরি হয়। তাই অনেকে ভিড়ের মধ্যে মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ হারিয়ে ফেলেন। আবার অনেকের এগুলো চুরি হয়ে যায় বলে অভিযোগ আসে। তাই স্টার কাবাবে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ওই নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
 
সরেজমিনে দেখা যায়, স্টার কাবাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সামনের ফুটপাতে বড় পাতিলে করে হালিম বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে খাসির স্পেশাল হালিম মাটির খোরায় বিক্রি হচ্ছে এক হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায়। ফ্রেস ফলের জুসের মধ্যে ৮০ টাকায় আনারস, পেঁপের জুস ৯০, তরমুজ ৮০, মাল্টা ১৬০ ও আঙ্গুর ১৬০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে।

jagonews24.com
 
রেস্তোরাঁটির ভেতরে খাসির গ্রিল চাপ প্রতি কেজি এক হাজার ৪৫০ টাকা, খাসির লেগ কাবাব প্রতি পিস ৮০০ টাকা, চিকেন ফুল রোস্ট বড় ৪৫০ টাকা, চিকেন ঝাল ফ্রাই আচারি ৭৫০ টাকা, চিকেন ঝাল ফ্রাই আচারি ৭৫০ টাকা, ব্রেইন মাসালা এক হাজার ১০০ টাকা, চিকেন ফ্রাই ৯০ টাকা, চিকেন সাসলিক ৬০ টাকা, চাইনিজ রোল ৩৫ টাকা, জিলাপি প্রতি কেজি ৪৫০ টাকা, বুরিন্দা ৩০০ টাকা, ছোলাবুট ১৮০ টাকা, চিকেন তেহারি হাফ ২০০ টাকা, লাবাং প্রতি লিটার ২৭০ টাকা, ফিরনি বড় বাটি ২১০ টাকা, চাইনিজ সবজি প্রতি কেজি ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন
‘পণ্য দিতে পারবো ৪০০ জনকে, আধাঘণ্টার মধ্যে আসবে হাজারখানেক লোক’ 
৫ টাকার পেঁয়াজুতে জহিরুলের টিকে থাকার গল্প 
 
বনানী ১১ নম্বর রোডের বাসিন্দা আলী নূর। বনানীর বেসরকারি এক প্রতিষ্ঠানে উচ্চপদে চাকরি করেন তিনি। অফিস শেষ করে বিকেল সাড়ে ৪টায় বনানী ৬ নম্বর রোডের স্টার কাবাব অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ইফতারি কিনতে যান তিনি।
 
আলাপকালে আলী নূর জানান, তারা নিয়মিত স্টার বা বাইরের যে কোনো রেস্তোরাঁ থেকে ইফতারি কেনেন। কারণ, তার স্ত্রীও কর্মজীবী। বাসায় ইফতারি তৈরির সময় নেই। তবে বাসায় ইফতারে বিভিন্ন ধরনের ফলের জুস নিজেরাই তৈরি করেন।

দুই হাজার ২০০ টাকায় স্টার কাবাব থেকে দুই কেজি হালিম কেনেন গুলশান ২৪ নম্বর রোডের বাসিন্দা শামসুল আলম। এ সময় তার সঙ্গে পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন। শামসুল আলম বলেন, ইফতারে হালিম অনন্য। তবে হালিমের পাতিলের সঙ্গে দৃষ্টি আকর্ষণ করে টানানো ওই নোটিশ দেখে অবাক হয়েছি। বনানীর মতো জায়গায় যদি ইফতারি কিনতে গিয়ে মানিব্যাগ-মোবাইল ফোন চুরি নিয়ে টেনশন করতে হয়, এটা দুঃখজনক।
 
বিকেলের শিফটে স্টারের নিচতলায় ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে ছিলেন মো. জহির উদ্দিন। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, দুপুরের পরপরই রাস্তাটিতে বেচাকেনা শুরু হয়। তবে আসরের পর প্রচুর ভিড় জমে। এই ভিড়ে কারও যেন মানিব্যাগ হারিয়ে বা চুরি না হয় সেজন্য ওই নোটিশ ছাড়ানো হয়েছে।

jagonews24.com

জহির উদ্দিন আরও বলেন, স্টারের খাবার সবসময়ই দেশের মানুষের কাছে খুবই প্রিয়। এ রেস্তোরাঁয় ইফতারিতেও সেই অনন্য স্বাদ বজায় রাখা হয়েছে। আশা করি সামনের দিনগুলোতে ভালো বিক্রি হবে।  
 
বনানী ১৭ নম্বর রোডে বনানী লাইভ বেকারস। এ বেকারসের সামনেরও এখন ইফতারির পসরা সাজানো। তবে এখানে ক্রেতার আনাগোনো তেমন দেখা যায়নি। একই ভাবে বনানীর আরও বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁয় ইফতার সামগ্রী তৈরি করতে দেখা গেছে। তবে ক্রেতা তেমন দেখা যায়নি। এসব রেস্তোরাঁয় মাগরিবের আজানের আগে লোকজন ইফতার করতে যান বলে জানা গেছে।
 
লাইভ বেকারসের বিক্রয়কর্মী রাইসুল ইসলাম জানান, সাধারণত আসরের নামাজের পরে তাদের এখানে ইফতারি বেচা বিক্রি হয়। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ইফতারি তৈরি করা হয়েছে।  
 
এমএমএ/কেএসআর