জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ চান চসিক মেয়র শাহাদাত
রোববার সমন্বয় সভায় বক্তব্য দেন মেয়র শাহাদাত হোসেন/ছবি: জাগো নিউজ
চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সব সেবা সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
তিনি বলেছেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার কারণে গত বর্ষায় নগরের জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে এসেছে। সেই সাফল্য ধরে রেখে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
রোববার (৮ মার্চ) চসিক সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সমন্বয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মেয়র বলেন, শুধু খাল-নালা পরিষ্কার করলেই জলাবদ্ধতা সমাধান হবে না, বরং সেগুলো পরিষ্কার রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। অনেক সময় প্লাস্টিক, পলিথিন ও অন্যান্য অপচনশীল বর্জ্য খাল-নালায় ফেলার কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়।
তিনি বলেন, নগরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে এরই মধ্যে বিনামূল্যে ডোর-টু-ডোর ময়লা সংগ্রহ কার্যক্রম চালু হয়েছে। পাশাপাশি বর্জ্য থেকে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিভিন্ন প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই চলছে। হালিশহরে একটি কোরিয়ান কোম্পানি বায়োগ্যাস উৎপাদন নিয়ে কাজ করছে, একটি জাপানি প্রতিষ্ঠান বর্জ্য থেকে ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা জানিয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের একটি প্রতিষ্ঠান বর্জ্য থেকে গ্রিন ডিজেল উৎপাদনে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
তিনি জানান, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল পুনরুদ্ধার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে সিডিএ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের তত্ত্বাবধানে ৩৬টি খালের উন্নয়নকাজ চলছে। এছাড়া নগরের বাকি ২১টি খালের উন্নয়ন পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে। বারইপাড়া খাল খনন প্রকল্পের প্রায় ৯৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
মেয়র শাহাদাত কাজ দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ১৫ মে’র মধ্যে আমাকে কাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে হবে। কারণ মে মাসের মাঝামাঝি বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সভায় জানানো হয়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২১টি রেগুলেটর বা স্লুইস গেটের মধ্যে এরই মধ্যে ১৭টির কাজ শেষ হয়েছে। বাকি চারটির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হবে। এসব গেট বর্ষায় জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণ ও বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এছাড়া নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খালে পলি অপসারণ, খনন এবং রিটেইনিং ওয়াল নির্মাণের কাজ প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। যেখানে ২০২৩ সালে জলাবদ্ধতা এলাকার সংখ্যা ছিল ১১৩টি, সেখানে ২০২৫ সালে তা কমে ১৭টিতে নেমেছে।
মেয়র শাহাদাত হোসেন আরও বলেন, যদি পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ চালানো যায়, তাহলে চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত নগর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক কর্নেল মো. তারিকুল আলম, চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার মো. ওবায়দুর রহমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে শাহিদ, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী বর্ণ হক, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য জামিলুর রহমান, নির্বাহী প্রকৌশলী আহমদ মইনুদ্দিন, মেয়রের উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা সংস্থার প্রতিনিধিরা।
এমআরএএইচ/এমকেআর