পরিবহন মালিক-শ্রমিক সভা
বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধে হুঁশিয়ারি, আবার ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ে ক্ষোভ
মতবিনিময় সভায় কথা বলছেন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি সাইফুল আলম বাতেন
আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পরিবহন মালিক নেতারা। তবে ভাড়া নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে কাজ করা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ম্যাজিস্ট্রেটদের অভিজ্ঞতা ও ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
পরিবহন নেতারা অভিযোগ করেন, টার্মিনালের ভেতর শৃঙ্খলা থাকলেও সাভার, নবীনগর ও চন্দ্রার মতো পয়েন্টগুলো থেকে যাত্রী তোলার সময় চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। এসব জায়গায় মফস্বল থেকে আসা বাসগুলো ৫০০ টাকার ভাড়া ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। এই অনিয়ম রুখতে সাংবাদিকদের সঠিক তদন্ত করে রিপোর্ট করার আহ্বান জানানো হয়েছে যেন জনমনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ঈদের সময় টার্মিনালগুলোতে নিয়োগ দেওয়া ভোক্তা অধিকারের অনেক ম্যাজিস্ট্রেটের ভাড়ার চার্ট সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। সারাবছর মালিকরা সরকারি হারের চেয়ে কম বা ডিসকাউন্টে যাত্রী পরিবহন করলেও ঈদের সময় বিআরটিএ নির্ধারিত সঠিক ভাড়া নিতে গেলে ম্যাজিস্ট্রেটরা সেটিকে ‘অতিরিক্ত ভাড়া’ হিসেবে গণ্য করে মামলা দেয়।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর বৃহত্তর বাস টার্মিনালে ‘ঈদযাত্রা নির্বিঘ্নে ও চাঁদামুক্ত করার লক্ষ্যে মালিক-শ্রমিক মতবিনিময় সভা’ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি সাইফুল আলম বাতেন।
তিনি বলেন, এই অনিয়ম বন্ধ করতে মন্ত্রণালয় থেকে ম্যাজিস্ট্রেটদের বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিতে হবে।
শহর এলাকার ফিটনেসবিহীন সিটি সার্ভিস বাসগুলো ঈদের সময় চুক্তিতে দূরপাল্লার রুটে যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এসব গাড়ির চালকদের দীর্ঘ পথ গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা নেই, যেখানে ৮-১০ ঘণ্টা চালনার অভিজ্ঞতা দরকার, সেখানে তারা মাত্র ২-৩ ঘণ্টা গাড়ি চালিয়েই রাস্তায় নামছেন।
উদাহরণ হিসেবে চকরিয়ায় ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়। সেখানে কক্সবাজার থেকে টেকনাফ রুটে চলাচলকারী একটি বাস যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলে দুর্ঘটনায় ৪ জনের মৃত্যু হয়।
সাইফুল আলম বাতেন আরও বলেন, এসব অবৈধ ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল বন্ধে হাইওয়ে পুলিশ ও মেট্রোপলিটন পুলিশের বাইরে স্থানীয় থানাগুলোকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারদের নির্দেশনা দিয়ে এসব লক্কড়-ঝক্কড় গাড়ি যেন জেলা সীমানা পার হতে না পারে, সেই ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান মালিক নেতারা।
সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও বাস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সুন্দর ঈদযাত্রার প্রত্যাশা জানিয়ে এই সভা শেষ করা হয়।
অনুষ্ঠানে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সারওয়ার, ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি সাইফুল আলম বাতেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব আব্দুর রহিম বক্স দুদু।
টিটি/এএমএ