ট্রেনে ঢাকা ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ
ছবি-জাগো নিউজ
পবিত্র ঈদুল ফিতরের টানা ছুটি শেষে রাজধানী ঢাকায় ফিরছেন কর্মজীবী মানুষরা। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে ধীরে ধীরে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন। নিরাপদ ভ্রমণের জন্য অনেকেই ট্রেনকে বেছে নিচ্ছেন। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ভোগান্তি ছাড়াই যাত্রীরা পৌঁছাতে পারছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে সরেজমিনে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রেনে করে ঢাকায় ফিরছেন যাত্রীরা। স্টেশনে যাত্রীদের উপস্থিতি থাকলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেউ কেউ ঈদের ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত ছুটি নেওয়ায় অফিসে যোগ দিতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। তবে সম্ভাব্য ভিড় ও টিকিট সংকট এড়াতে আগেভাগেই ঢাকায় ফিরছেন তারা।

জয়পুরহাট থেকে ঢাকায় ফেরা ব্যাংক কর্মকর্তা মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি ২৪ ও ২৫ মার্চ অতিরিক্ত দুইদিন ছুটি নিয়েছিলাম। আমার অফিস শুরু হবে আগামী রোববার (২৯ মার্চ)। মাঝখানে শুক্র ও শনিবারে টিকিট পাওয়া কঠিন হতে পারে ভেবে আগেই ঢাকায় চলে এসেছি। হাতে এখনো কয়েকদিন সময় আছে, ভাবছি পরিবার নিয়ে ঢাকার কয়েকটি বিনোদনকেন্দ্র ঘুরে দেখবো।
চিলাহাটি থেকে আসা শফিকুল ইসলাম জানান, তাদের অফিস এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ঈদের ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত একদিন ছুটি নিয়েছিলাম। আজ ট্রেনে ঢাকায় ফিরলাম, বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে অফিসে যাবো। পরিবারের সদস্যরা আপাতত গ্রামেই থাকবে, পরে সুযোগ হলে নিয়ে আসবো।
একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করা ইয়ারুল ইসলাম জানান, তার একটি কোচিং সেন্টার রয়েছে। ঈদের কারণে শিক্ষার্থীদের এক সপ্তাহ ছুটি দেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, আগামীকাল থেকে আবার কোচিং সেন্টার চালু করবো। শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা সামনে থাকায় বেশি দিন ছুটি দেওয়া সম্ভব হয়নি।

এদিকে চাঁদ রাতের পর থেকে দোকান বন্ধ রেখে গ্রামের বাড়ি নওগাঁতে গিয়েছিলেন মুদি ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান। বুধবার ঢাকায় ফিরে আবার দোকান খুলেছেন তিনি।
হাবিবুর রহমান বলেন, ঈদের সময় বিক্রি কম থাকায় দোকান বন্ধ ছিল। আজ থেকে আবার চালু করেছি। কর্মজীবীরা ধীরে ধীরে ঢাকায় ফিরতে শুরু করলে বেচা-বিক্রিও বাড়বে।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় থাকলেও সামগ্রিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, স্টেশনে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে শুধু টিকিটধারী যাত্রীদেরই অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। ঈদযাত্রার সময় যেমন টিকিট যাচাই করে যাত্রীদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, ফিরতি যাত্রাতেও একই নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে।
রেলওয়ে সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদের ছুটি শেষে ধীরে ধীরে রাজধানীতে মানুষের ফেরা শুরু হয়েছে। আগামী কয়েকদিন যাত্রীচাপ কিছুটা বাড়তে পারে। তবে যাত্রীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ইএআর/এমআরএম