সংসদে পানির সমস্যা, আমারও পেট খারাপ হয়েছে: চিফ হুইপ
সংসদ কমিটির বৈঠক/ছবি: সংগৃহীত
সংসদে পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংসদ কমিটির সভাপতি ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
তিনি বলেন, পানির সমস্যা বেশি। আমরা গত দু-তিনদিন ঘোলা পানি পেয়েছি। এ কারণে আমার নিজেরও পেট খারাপ হয়েছে। ঘোলা পানির সমস্যা সমাধানের জন্য আমরা সরকারকে বলবো। এখানে ১ কোটি লিটার পানির দরকার, কিন্তু এখানে ২৭ লাখ লিটার পানি উৎপাদন হয়। এখানে খুবই সংকট।
সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদে সংসদ কমিটির বৈঠক শেষে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ।
কমিটির সভাপতি নূরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশগ্রহণ করেন কমিটির সদস্য রকিবুল ইসলাম, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, মো. শহিদুল ইসলাম, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. অলি উল্লাহ, মো. সাইফুল আলম এবং মো. আবুল হাসনাত।
১০ এপ্রিলের মধ্যে সংসদ সদস্যদের আবাসন বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানান চিফ হুইপ। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র বলতে কিছুই নেই। আবার কিছু কিছু ২০০০ সালে তৈরি হয়েছে, কিছু নষ্ট হয়েছে। সেগুলো ঠিক করেছি আমরা। সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তাসহ সব বিষয়ে পরিপূর্ণভাবে আলোচনা হয়েছে। সংসদ সদস্যদের আশস্ত করতে চাই তারা খুব শিগগির বাসায় উঠতে পারবেন।
সংসদের হাসপাতালের বিষয়ে বৈঠকে কথা হয়েছে জানিয়ে কমিটির সভাপতি বলেন, একটা আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স প্রয়োজন, লাশবাহী ফ্রিজিং গাড়িও দরকার।
সংসদের সাউন্ড সিস্টেম এখনো কাজ করছে না জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, আমরা সাউন্ড সিস্টেমকে উন্নত করার চেষ্টা করছি। সেটা না পারলে নতুন সাউন্ড সিস্টেম বসানো হবে। কিন্তু এ সাউন্ড সিস্টেম যেন কাজ করে সে চেষ্টা করা হচ্ছে। সাউন্ড সিস্টেম বিভ্রাট নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আগামী ২ এপ্রিলের মধ্যে দেওয়া হবে বলেও জানান চিফ হুইপ।
সময় বরাদ্দ নিয়ে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কথাটা সঠিক নয়। সাধারণত সংসদে কথা বলে বিরোধীদল। সেটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। বিল নিয়ে কথা বলেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। বাজেট অধিবেশনেও কথা বলেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা। শুধু রাষ্ট্রপতির ভাষণের আলোচনার বিষয়টি সমভাবে বণ্টন করে দিয়েছি। তারা যত ঘণ্টা পেয়েছেন, তারাই সেটা ভাগ করে দেবেন। আমি শুধু নামটা দেবো।
সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে সংসদ অধিবেশন কক্ষের সাউন্ড সিস্টেমের সমস্যা চিহ্নিত করতে রকিবুল ইসলামকে এবং সংসদ ভবনের ক্যানটিনের খাবারের মান যাচাই, সংসদ ভবন এলাকায় সরবরাহ লাইনের পানির মান যাচাই ও সংসদ সদস্য ভবনের ব্যবহৃত আসবাবপত্রের গুণগত মান যাচাইয়ের লক্ষ্যে নায়াব ইউসুফ আহমেদকে আহ্বায়ক করে দুটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়।
বৈঠকে সংসদ ভবনের প্রয়েোজনীয় আসবাবপত্র কেনাকাটার ক্ষেত্রে বিগত স্বৈরাচারের আমলের ন্যায় বালিশ, পর্দা ও ছাগল কাণ্ডের ঘটনা যেন না ঘটে সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রতিটি আসবাবপত্রের গুণগত মান ভালো রাখা ও একই সঙ্গে ক্রয়মূল্য যেন যুক্তিসংগত হয় সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশনা প্রদান করা হয় বৈঠকে।
এমওএস/ইএ