ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

উচ্ছেদ নয়, কাছে কোথায়ও স্থায়ী পুনর্বাসন চান হোপ মার্কেটের ব্যবসায়ীরা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৩:০৭ পিএম, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরের হোপ মার্কেট এলাকার ফুটপাত ও সড়কে ব্যবসা করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা উচ্ছেদ নয়, বরং আশপাশে স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, জীবিকার স্বার্থে বিকল্প জায়গা দেওয়া হলেও সেটি যেন কাছাকাছি হয়, যাতে অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, মিরপুর-১০ এর বি ব্লকের ১১/২ নম্বর সড়ক, ১৮ ও ১৯ নম্বর সড়ক এবং সি ব্লকের ৬, ৭ ও ৮ নম্বর সড়কজুড়ে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় কয়েকটি মার্কেট ও অসংখ্য ফুটপাতের দোকান। এলাকাটিতে একাধিক স্কুল থাকায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে এখানে জমে উঠেছে কেনাবেচা।

সকাল ১০ টার পরে এসব সড়ক ঘুরে দেখা যায়, হকাররা দোকান খোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কয়েকটি দোকানে ছিল ক্রেতার আনাগোনা। আশপাশের স্কুলগুলোতে কোচিং চালু থাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সামনে অভিভাবকদের বসে থাকতে দেখা যায়। সড়কগুলোতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল তুলনামূলক বেশি থাকলেও যানজটের ভোগান্তি ছিল না।

পানির ট্যাংকি সংলগ্ন কয়েকটি জুতার দোকান খোলা থাকতে দেখা যায়। এছাড়া এসব সড়কে বায়তুল কুদ্দুস জামে মসজিদ মার্কেট, হোপ মার্কেট, মিয়া বাড়ি মার্কেট, মহুয়া মার্কেট, নাহার প্লাজা খোলা ছিল। এসব মার্কেটেও বিক্রেতাদের দোকান খুলতে দেখা যায়। 

jagonews24.comফুটপাতের দোকানে চলছে কেনাকাটা/ছবি: জাগো নিউজ

ব্যবসায়ীদের দাবি, এসব সড়কে প্রায় এক হাজার হকার নিয়মিত ব্যবসা করেন। সকালে দোকান খুলতেই ক্রেতাদের আনাগোনা দেখা যায়। বিশেষ করে কোচিং চলাকালীন সময়ে স্কুলের সামনে অপেক্ষমাণ অভিভাবকদের কারণে বাজারে ভিড় বাড়ে।

ইংলিশ ভার্সন স্কুল সংলগ্ন ফুটপাতে পাঁচ বছর ধরে শিশুদের পোশাক বিক্রি করা আবদুর রাজ্জাক বলেন, আমরা ফুটপাতে বসে ব্যবসা করি, এতে সাধারণত সমস্যা হয় না। কিন্তু কিছু ব্যবসায়ী মূল সড়ক দখল করায় যানজট তৈরি হয়। সরকার যদি উচ্ছেদ করে, তাহলে এতো মানুষকে কোথায় বসাবে—সেটাই বড় প্রশ্ন।

মূল সড়কে দোকান সাজাতে থাকা বিল্লাল হোসেন বলেন, উচ্ছেদ হলে কিছু করার নেই, এটাই আমাদের জীবিকা। তবে যেখানেই বসাবে, সেটি যেন কাছাকাছি হয়। দূরে হলে যাতায়াত খরচ বহন করা কঠিন হবে।

১১/২ নম্বর সড়কে পাপোষ বিক্রেতা আক্তার হোসেন জানান, আগামী রোববার পর্যন্ত সময় দিয়েছে। তারপর উচ্ছেদ করবে। ১০ বছর ধরে ব্যবসা করছি, অনেকবার পুনর্বাসনের কথা শুনেছি, কিন্তু বাস্তবে হয়নি। এবার যেন সত্যি কাছাকাছি জায়গা দেয়।

একই দাবি জানিয়ে পোশাক বিক্রেতা আল কাউস বলেন, এখানে ভাড়া কম, তাই কম দামে পণ্য বিক্রি করা যায়। ধনী-গরিব সবাই কেনাকাটা করে। অন্যত্র সরালে সেটি যেন স্থায়ী হয় এবং আশপাশেই হয়।

বিক্রেতা শামসুন্নাহার বলেন, আমরা স্থায়ী সমাধান চাই। বারবার উচ্ছেদ হলে আমাদের ক্ষতি হয়।

ক্রেতাদের মধ্যেও এই বাজারের জনপ্রিয়তা রয়েছে। দুই মেয়েকে নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা প্রিয়া পাল বলেন, মধ্যবিত্তদের জন্য হোপ মার্কেট ভরসার জায়গা। কম দামে অনেক কিছু পাওয়া যায়। কিছু বিশৃঙ্খলা থাকলেও সরকার চাইলে ভালো সমাধান দিতে পারে।

jagonews24.com

ছবি: জাগো নিউজ

এদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন জানিয়েছেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বিকল্প জায়গায় ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হবে।

গত ২৯ মার্চ হোপ মার্কেট এলাকায় উচ্ছেদযোগ্য স্থাপনা পরিদর্শনে গিয়ে তিনি বলেন, জনগণের চলাচল নিশ্চিত করতে হবে, আবার গরিব ব্যবসায়ীদের জীবিকাও রক্ষা করতে হবে। তাদের পরামর্শ নিয়েই বিকল্প জায়গায় স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি আরও জানান, প্রধান সড়কের যানজট নিরসনে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রায় ১৫ বছর আগে হোপ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের আশপাশে কয়েকটি ছোট দোকান দিয়ে যাত্রা শুরু হয় হোপ মার্কেটের। অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই বাজার এখন প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। পোশাক, গৃহস্থালি সামগ্রী, কসমেটিকস, জুতা থেকে শুরু করে স্ট্রিট ফুড—সবকিছুই পাওয়া যায় এখানে।

এসএম/এমএমকে