ভিড় কমেনি তেল পাম্পে, আজও দীর্ঘ লাইন
পাম্পের সামনে চালকদের দীর্ঘ লাইন, ছবি: জাগো নিউজ
ইরানে হামলা পাল্টা হামলার জেরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। ইরান যুদ্ধের পর থেকে ধীরে ধীরে সংকট আরও গভীর হচ্ছে। এমন অবস্থায় দেশের পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের সরবরাহ ঠিক না থাকায় বিভিন্ন পাম্পে বন্ধ রয়েছে যানবাহনে তেল দেওয়া কার্যক্রম।
যেসব পাম্পে তেল বিক্রি কার্যক্রম চলমান সেগুলোতেও টানা বেশকিছু দিন ধরে তেল সংগ্রহে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন লেগে থাকছে। কোনোভাবে ভিড় কমছে না পাম্পগুলোতে।
আজও সকাল থেকে রাজধানীর জ্বালানি তেল পাম্পগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশন, আসাদগেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশন ও সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন ঘুরে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
ট্রাস্ট ফুয়েল স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, পাম্পটির সামনে থেকে শুরু করে মহাখালীমুখী সড়কে তেল নিতে আসা যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। যানবাহন চালকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এছাড়া তীব্র রোদে মোটরসাইকেল চালকরা লাইনে সারিবদ্ধভাবে গাড়ি রেখে ফুটপাতের ওপর ছায়াযুক্ত স্থানে তেলের অপেক্ষা করছেন।
আসাদগেটের তালুকদার ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে শুরু হয়ে জিয়া উদ্যান ঘুরে বিজয় সরণির মেট্রোরেল স্টেশন পর্যন্ত পৌঁছেছে অপেক্ষারত যানবাহনের লাইন। সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে শুরু হওয়া মোহাম্মদপুর টাউন হলের দিকের সড়কে লম্বা লাইন দেখা গেছে।
তালুকদার ফিলিং স্টেশনের লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মোজাম্মেল বলেন, সকাল ৮টার দিকে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। এখনও তেল নিতে পারিনি। তেল পেতে আর কয় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা লাগবে বা দাঁড়িয়ে থেকে আদৌ তেল পাবো কি না সন্দেহ।
সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনের সামনে অপেক্ষারত মোটরসাইকেলচালক সাগর বলেন, কি আর বলবো ভাই। প্রতিদিন একই পরিস্থিতির মধ্যে পার করতে হচ্ছে। তেল দিচ্ছে অল্প। যে কারণে দুদিন, তিনদিন পরপরই তেল নিতে লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় পার করতে হচ্ছে।
ট্রাস্ট তেল পাম্পের লাইনে কথা হয় অন্য এক মোটরসাইকেলচালক মিনহাজের সঙ্গে। তিনি বলেন, গতকাল তেল নিতে এসেছিলাম। এসে লাইন দেখে তেল না নিয়ে চলে গেছি। ভাবছিলাম বন্ধের দিন তাই ভিড় বেশি আজ এলে অনেকের অফিস খোলা থাকবে। ভিড় কম থাকবে। এজন্য আজ এসেছিলাম। কিন্তু আজও এসে সেই একই অবস্থা দেখছি। এ অবস্থার কোনো পরিবর্তন নেই। কষ্ট হলেও আজ লাইনেই দাঁড়িয়ে আছি। তেল না নিয়ে ফিরতে পারছি না।
কেআর/এসএনআর