সংসদে মন্ত্রী
প্রয়োজনে আগামী মাস থেকে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির চিন্তা করবে সরকার
সংসদে বক্তব্য রাখছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ছবি: সংগৃহীত
পরিস্থিতি দেখে আগামী মাস থেকে প্রয়োজনে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির চিন্তা করবে সরকার বলে জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকারদলীয় এমপি শওকতুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান মন্ত্রী।
শওকতুল ইসলাম তার প্রশ্নে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াবে কি না জানতে চান। জবাবে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য একটি আইন আছে। সে আইন অনুসারে আমরা প্রতি মাসে দামের সমন্বয় করি। গত মাসে সমন্বয় করে দাম বাড়ায়নি। আগামী মাসে আমরা দামের ওপর কাজ করছি। কাজ করে যদি সমন্বয় করে দেখা যায় মূল্যবৃদ্ধি করা এখনই প্রয়োজন, তাহলে আমরা আলোচনা করে মন্ত্রিসভায় নিয়ে মূল্যবৃদ্ধির কথা চিন্তা করবো।
এর আগে সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূদ্ধ ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে জ্বালানি তেলের মূল্য প্রিমিয়াম ও ফ্রেট রেটে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে বৈশ্বিক জ্বলানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সরকার সম্ভাব্য সব উৎস অন্বেষণ করে দেশে সবধরনের তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে।
তিনি বলেন, দেশে সবধরনের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। মজুতের চিত্র তুলে ধরে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ডিজেল ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন আছে, এক লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসবে। অকটেন মজুত আছে ১০ হাজার ৫০০ টন, ৭১ হাজার ৫৪৩ টন ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আসবে। পেট্রোল ১৬ হাজার টন মজুত আছে, ৩৬ হাজার টন এপ্রিলের মধ্যে আসবে।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশ জ্বালানি তেলের সরবরাহে হিমশিম খাচ্ছে। পাকিস্তান ৫০ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কা রেশনিং ও কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিয়েছে। ভারত, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে দাম বাড়ায়নি। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক বাড়লেও দেশের শিল্প কার্যক্রম, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার কথা বিবেচনা করে সরকার এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। কৃষকদের ডিজেলপ্রাপ্তি নিশ্চিতের জন্য কৃষক কার্ড প্রদানের জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য সব জেলা প্রশাসনকে সরকার নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানান জ্বালানিমন্ত্রী। একটি জেলা পর্যায়ে মনিটরিং টিম করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দেশি খনিজ সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাসের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিতের জন্য দেশি গ্যাসক্ষেত্র থেকে উপযাজক হিসেবে প্রাপ্ত কনডেনসেট ব্যবহার করে পেট্রোল, অকটেন, ডিজেল উৎপাদন করা হচ্ছে। জ্বলানি তেলের অবৈধ মজুত রোধে ৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪২টি অভিযান পরিচালনা করে ২ হাজার ৪৫৬ মামলা করা হয়েছে, ৩১ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযানে ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকার অর্থদণ্ড করা হয়েছে এবং ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৬ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। যার মধ্যে ডিজেল ৩ লাখ ৩৩ হাজার ১৫৭ লিটার, অকটেন ৩৬ হাজার ৪০৫ লিটার, পেট্রোল ৭৮ হাজার ৮৯৪ লিটার উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এমওএস/এসএনআর