পার্বত্য মন্ত্রী
সরকারগুলো উৎসবে ৩টি ছাড়া পাহাড়ের বাকি জাতিসত্তাকে তাচ্ছিল্য করেছে
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়কমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান/ছবি: জাগো নিউজ
বিগত সরকারগুলো উৎসবের ক্ষেত্রে পার্বত্য জেলায় তিনটি ছাড়া বাকি ক্ষুদ্র জাতিসত্তাগুলোকে তাচ্ছিল্য করেছে বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়কমন্ত্রী দীপেন দেওয়ান।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সচিবালয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব (বিজু, বৈসু, সাংগ্রাই, বিষু, চাংলান, চাংক্রান) উপলক্ষে গৃহীত কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব হচ্ছে বিজু। এই বিজু উৎসবটা আগে মন্ত্রণালয় পালন করেছে বৈসাবি হিসেবে। তিনটি সম্প্রদায় মিলে বৈসাবি (বৈসু, সংগ্রাই ও চাকমা)। কিন্তু ওখানে অনেক জাতিসত্তা রয়েছে, ১১টি ক্ষুদ্র জাতিসত্তা রয়েছে। আমি বলবো বিগত সরকারগুলো তাদের প্রতি তাচ্ছিল্য করেছে।
তিনি বলেন, সেই কারণে আমাদের প্রধানমন্ত্রী এটা উপলব্ধি করেছেন। বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে যে যে সম্প্রদায় রয়েছে, ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দুই হাজার জনগোষ্ঠী, যে যেটা পালন করেন। যার যার নাম নিয়ে সে তার উৎসব পালন করবেন।
দীপেন দেওয়ান বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী তিন পার্বত্য জেলায় চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, মুরুং, খেয়াং, বম, পাংখো, লুসাই, চাক এবং খুমি নামে ১১টি সম্প্রদায়ের জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করে। এদের কৃষ্টি ও সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই উৎসবের মূল বার্তা হলো শান্তি ও সম্প্রীতি।
আরও পড়ুন
‘শুভ বার্তা পাবেন’, শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে পার্বত্য মন্ত্রী
পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ১২ এপ্রিল (ফুল বিজু/বৈসু) সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে হ্রদ বা ঝরণার জলে ফুল ভাসিয়ে আমরা প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই এবং পুরোনো বছরের গ্লানি মুছে ফেলার প্রার্থনা করি। ১৩ এপ্রিল (মূল বিজু/বৈসু) ঘরে ঘরে ঐতিহ্যবাহী ‘পাঁজন’ (৮০ থেকে ১০৮টি পদের সবজি দিয়ে তৈরি খাবার) রান্না করা হয় এবং দলমত নির্বিশেষে অতিথি আপ্যায়ন করা হয়, যা আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
তিনি বলেন, ১৪ এপ্রিল (নববর্ষ/সাংগ্রাই) বড়দের আশীর্বাদ গ্রহণ ও বৌদ্ধ বিহারে পূজার পাশাপাশি মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী ‘জলকেলি’ বা ‘পানি খেলা’ অনুষ্ঠিত হয়। এর মাধ্যমে আমরা অতীতের সব দুঃখ ধুয়ে-মুছে নতুন বছরকে বরণ করে নিই।
মন্ত্রী আরও বলেন, এবারের উৎসবে চাকমাদের ‘ঘিলা খেলা’ ও ‘বলি খেলা’, ত্রিপুরাদের ‘গরাইয়া নৃত্য’ এবং ম্রোদের ‘বাঁশি নাচ’ বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে। আধুনিক নকশায় তৈরি ঐতিহ্যবাহী পোশাক ‘পিনোন-হাদি’ ও ‘রিনাই-রিসা’ও পর্যটকদের দৃষ্টি কাড়ছে।
প্রযুক্তি ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নে পাহাড়ের এই উৎসব এখন জাতীয় উৎসবে রূপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পার্বত্য অঞ্চলের সংস্কৃতি সংরক্ষণে সরকার কাজ করছে এবং উৎসব উপলক্ষে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান দীপেন দেওয়ান।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন বলেন, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি- পার্বত্য তিন জেলার ঐতিহ্যবাহী সামাজিক অনুষ্ঠানগুলো কেবল নিছক উৎসব নয়; এটি আমাদের শেকড়, আমাদের পরিচয়। চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষকে কেন্দ্র করে পালিত এই উৎসবগুলোতে ফুটে ওঠে পাহাড়ের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক বৈচিত্র্য।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, চাকমাদের বিজু, মারমাদের সাংগ্রাই, ত্রিপুরদের বৈসু, তঞ্চঙ্গ্যাদের বিষু, ম্রোদের চাংক্রান এবং খুমী ও বমসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের চাংলান উৎসব আজ একীভূত হয়ে সামগ্রিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
এসময় বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরএমএম/ইএ