ভিডিও ENG
  1. Home/
  2. জাতীয়

হোয়াটসঅ্যাপ ফাঁদে বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তার ৮৬ লাখ টাকা খোয়া

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক | প্রকাশিত: ০৫:৫০ পিএম, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

স্বল্পসময়ে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে একটি ভুয়া কোম্পানির নামে অভিনব কৌশলে প্রায় ৮৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রতারক চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ইউনিট। গ্রেফতাররা হলেন- মো. মাসুম রানা (৩৮) এবং মো. শামীম আক্তার (৩৬)।

সিআইডি বলছে, উচ্চ মুনাফা লাভের আশায় ভুক্তভোগী সরল বিশ্বাসে নিজের সঞ্চয়, অফিসের অর্থ এবং স্ত্রীর স্বর্ণ বন্ধক রেখে নগদ, বিকাশ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে মোট ৮৫ লাখ ৮৭ হাজার ৪০০ টাকা আসামিদের দেন।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএতে কর্মরত সালেহ আহাম্মদ খান হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে প্রতারক চক্রের সঙ্গে পরিচিত হন। প্রতারকরা ‘ড্রিমপায়ারিং এমসিএস লি.’ নামের একটি ভুয়া কোম্পানির পরিচয়ে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করে এবং হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভুয়া চুক্তিপত্র পাঠায়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী সরল বিশ্বাসে নিজের সঞ্চয়, অফিসের দেন। মাসিক উচ্চ লভ্যাংশ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এ অর্থ আত্মসাৎ করে প্রতারকরা।

অর্থ আত্মসাতের পর সালেহ আহমেদ আসামিদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানায় যেতে বলে বিভ্রান্ত করে। একপর্যায়ে ঢাকার সেগুনবাগিচায় তাদের দেওয়া ঠিকানায় গিয়ে তিনি নিশ্চিত হন যে, প্রতিষ্ঠানের কোনো অস্তিত্ব নেই, কোম্পানিটি সম্পূর্ণ ভুয়া। পরবর্তীতে তিনি নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় মামলা রুজু করেন।

মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি সিআইডিকে অবহিত হওয়ার পর সিআইডি সিপিসির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস ইউনিট তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযুক্তদের সম্ভাব্য লোকেশন দিনাজপুরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে অবশেষে মো. মাসুম রানাকে ৮ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে দিনাজপুরের মেঘলা ফার্মেসি থেকে এবং মো. শামীম আক্তারকে বুধবার দিনগত রাত ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। গ্রেফতারদের আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে এবং প্রতারক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান সিআইডির এ কর্মকর্তা।

টিটি/এমএএইচ/